कामन्दकीय नीतिसार (आचार्य कामन्दक - प्राचीन भारतीय राजनीति शास्त्र)
Kamandakiya Nitisara with Hindi Commentary
आचार्य कामन्दक / पं. ज्वालाप्रसाद मिश्र द्वारा
१३४ कामन्दकीय नीतिसार। रणभङ्गदायी व्यक्तिके पीड़ा दिबे ना अर्थात् উহার সহিত युद्ध करिबे ना। अल्प आयओ अधिक व्यय, इहाई क्षयेर लक्षण। इहार विपरीत अर्थात् अल्पव्यय ओ अधिक आय इहाई वृद्धिर लक्षण। कार्य्य विषये समान आय ओ समान व्यय इहा निजेर स्थितिर लक्षण। एइ दुइ विषये यदि अत्यधिक मत्तता जन्मे ताहा हइले उहा वाणिज्येर न्याय नष्ट हइया याय।) † चर द्वारा शत्रुदिगेर प्रचार अवगत हइया अप्रमत्त राजा अतिशय सावधानतार सहित उत्साहयुक्त हइया ये उपाये शत्रुबध करेन, शत्रुदिगेर निकट हइतेओ अप्रमत्त राजा ঐরূপइ स्वपक्षेर निधनेर आशङ्का करिबेन ॥७०॥ सर्व्वदाइ कूटयुद्धे शत्रु बध करिबेन। छलपूर्व्वक शत्रु-बधे अधर्म्म हय ना। देखा याय, द्रोणपुत्र अश्वत्थामा विश्वस्तभावे निद्रित पाण्डव-सैन्यदिगके सुशाणित खड्गद्वारा रात्रिकाले बध करियाछिल ॥७१॥ इति कामन्दकीय नीतिसारे सैन्यबलाबल-सेनापतिप्रचार-प्रयाणव्यसनरक्षा ओ कूटयुद्ध-विकल्प- नामक उनविंश-सर्ग ॥ विंश-सर्ग। * गज-अश्व-रथ-पत्ति-कर्म्म। अभियान काले अग्रे याओया, बने ओ दुर्गे प्रवेश, रास्ता तैयारि करा, घाट तैयारि करा, जले अवतरण करा, साँतार देओया, एकाङ्ग विजय (अर्थात् एकमात्र हस्ती द्वारा विजय), अभिन्न-परसैन्येर भेद करा, छत्रभङ्ग सैन्येर संग्रह करा, विभीषिकार ध्वंस करा, प्राचीर ओ दरवाजा भाङ्गा, [गमनकाले]धन- † बन्धनीमध्यस्थ एइ आड़ाइटि श्लोक ट्राभाङ्कुर संस्करणे "धनुरेखाङ्कितानि क पुस्तके पर दृष्टान्ते" एइ नोट दिया बन्धनिर मध्ये लिखित आछे। इहा प्रकरण सिद्ध নহে। कलिकाता संस्करणे इहा उनविंश सर्ग; उहाते विंशसर्ग नाइ।
২০শ সর্গ ] গজ-অশ্ব-রথ-পত্তি-কর্ম্ম। ১৫৫ বহন ও ভয় হইতে রক্ষা করা—এইগুলি হস্তীর কর্ম্ম বলিয়া কথিত হয় ॥১-৩॥ শত্রুর চতুরঙ্গ সৈন্যের প্রতিরোধ, স্বপক্ষীয় সৈন্যের রক্ষা, পরপক্ষীয় অভেদ- যোগ্য সৈন্যের ভেদসাধন, অর্থাৎ শত্রুর ব্যূহভেদ এবং স্বপক্ষীয় ছিন্নভিন্ন সৈন্যের একত্রীকরণ—এইগুলি রথকর্ম্ম ॥৪॥ † ॥ বনপথ ও অন্যান্য চারিদিকের পথের নিরূপণ, বীবধ ও আসারের রক্ষা, পলায়মান-সৈন্যের পৃষ্ঠ-ধাবন, শীঘ্র বার্তাজ্ঞানাদি কার্য্য-সম্পাদন, বিপন্ন-সৈন্যের অনুসরণ (অর্থাৎ রক্ষা করা), বিপক্ষের কোটীর অর্থাৎ সৈন্যের পার্শ্বভাগ (টীকাকার = অগ্রভাগ) ও জঘনের অর্থাৎ পৃষ্ঠ-ভাগের বধসাধন—এইগুলি অশ্বকর্ম্ম। সর্ব্বদা শস্ত্র-ধারণ করাই পদাতিক সৈন্যের কার্য্য ॥৫-৬॥ কূপ খনন, ঘাট বাঁধা, রাস্তানির্্ম্মাণ, শিবির খাটান, অশ্বাদির খাদ্য-ঘাস প্রভৃতির সংগ্রহ—এইগুলি বিষ্টি নামক পদাতির কর্ম্ম ॥৭॥ জাতি ( সৈন্য মধ্যে ক্ষত্রিয়াদি, হস্তী মধ্যে ভদ্র মন্দ্রাদি দেশ-জাত, অশ্বমধ্যে বাহ্লীক কম্বোজাদি দেশ-জাত ), সত্ত্ব ( ব্যসনে ও অভ্যুদয়ে অবিকার ভাব ), উপযুক্ত বয়স, প্রাণিতা (আঘাত পাইয়াও সহসা মরে না), সুদৃঢ় শরীর, বেগবান্, তেজস্বী, শিল্প ( পদাতির অস্ত্রশিক্ষায় নৈপুণ্য, আর হস্তী-অশ্বদিগের রণশিক্ষা ), উদগ্রতা ( চওড়া বুক ), স্থৈর্য্য, সাধুবিধেয়তা ( উত্তম ব্যবহার উপযোগী ), প্রশস্তলক্ষণ এবং আচার ( পদাতির সুব্যবহার, হস্ত্যাশ্বাদির সুশিক্ষা ) এই সমস্ত লক্ষণযুক্ত হস্তী, অশ্ব ও পদাতিগণকে কার্য্যে নিযুক্ত করিবে ॥৯॥ ইতি গজ অশ্ব রথ ও পদাতির কর্ম্ম ॥ পত্তি-অশ্ব-রথ-গজ-ভূমি। স্থলস্থাণু-বল্মীক-বৃক্ষ-গুল্মযুক্ত, কণ্টকশূন্য, পলায়নের যোগ্য, অধিক উচ্চ নীচ নয়—এইরূপ ভূমি পদাতি-যুদ্ধের উপযুক্ত ॥১০॥ অল্পবৃক্ষযুক্ত, অল্প- প্রস্তরযুক্ত, শীঘ্র লম্ফ দিয়া পার হওয়া যায় এইরূপ গর্ত্তযুক্ত, স্থির অর্থাৎ খুর বসিয়া যায় না, বালি পাঁক কাঁকর শূন্য, অপসারণযোগ্য—এইরূপ ভূমি † ইহা কলিকাতা সংস্করণে নাই।
অশ্বযুদ্ধের উপযুক্ত ॥১১॥ স্থাণুশূন্য, বালি ও কাদা শূন্য, বল্মীক ও প্রস্তর- শূন্য, সমতল, কেদার-লতা-গর্ভ-বৃক্ষ ও গুল্ম বর্জ্জিত, খাতশূন্য, অচ্যাভূমি, ঘোড়া দৌড়িবার উপযুক্ত, ঘোড়ার খুর বসে না এবং রথের চাকা বসিয়া যায় না—এইরূপ ভূমি রথযুদ্ধের উপযুক্ত ॥১২-১৩॥ ( যে ভূমিতে রথ চলে তাহাই হস্তীর পক্ষে উপযুক্ত। [ পাঠান্তরে—রথ, অশ্ব ও হস্তীর ভূমি সর্ব্বদাই স্থির হইবে।] এই স্থান অগম্য নয়, এইজন্য এই ভূমিকে নাগভূমি কহে) ॥ * ॥ হস্তীরা ভাঙ্গিয়া ফেলিতে পারে এইরূপ গাছযুক্ত এবং হস্তীরা ছিঁড়িয়া ফেলিতে পারে এইরূপ লতাযুক্ত ও পাকশূন্য, এবং হস্তীর পক্ষে সুগম পাহাড়যুক্ত উন্নতাবনত ভূমি—এইরূপ ভূমি হস্তিযুদ্ধের উপযুক্ত বলিয়া কথিত ॥১৪॥ (যে অশ্বসৈন্য ছত্রভঙ্গ হইয়া গিয়াছে উহাদিগকে যে সৈন্য সংগ্রহ করে তাহার নাম প্রতিগ্রহ-সৈন্য। এই প্রতিগ্রহ-সৈন্যই দলপোষণের উপযুক্ত। রাজা দুইশত ধনু দূরে অর্থাৎ আটশত হস্ত দূরে প্রতিগ্রহের জন্য অবস্থান করিবেন, তিনি ভঙ্গদায়ী সৈন্যদিগকে সংগ্রহ করিবেন এবং উহাদিগকে সংগ্রহ করিতে না পারিলে যুদ্ধ করিবেন না। যে ব্যূহেতে রাজা নাই সেই ব্যূহ ভেদপ্রাপ্তের ন্যায় লক্ষিত হয়। অতএব বিদ্বান্ ব্যক্তি জয়াকাঙ্ক্ষী হইয়া অপ্রতিগ্রহ অবস্থায় যুদ্ধ করিবেন না)। †। জয়ার্ত্থী নৃপতি প্রতিগ্রহের জন্য [ রণভূমি হইতে ] দূরে যাইয়া অবস্থান করিবেন এবং ভঙ্গপ্রাপ্ত সৈন্যগণকে সংগ্রহ করিবেন, আর উহাদিগকে সংগ্রহ না করিয়া যুদ্ধ করিবেন না। (পাঠান্তরে—বুদ্ধিমান্ নরপতি অপ্রতিগ্রহ হইয়া অর্থাৎ ছিন্ন ভিন্ন
- ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণে এই শ্লোকটিকে বন্ধনীর মধ্যে ধরিয়াছে কিন্তু কলিকাতা সংস্করণে ইহা রূপান্তরে ১৩ সংখ্যক শ্লোক ॥ † এই বন্ধনীর অন্তর্গত শ্লোকগুলি ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণে অতিরিক্ত আছে, ইহার সহিত আরও দুইটি শ্লোক আছে, তাহাদের একটির ১৩-১৪ সংখ্যার শ্লোকের মধ্যে পূর্ব্বে ব্যাখ্যা করা হইয়াছে এবং এইগুলির মধ্যেই অন্যটির ব্যাখ্যা করা হইয়াছে। অর্থাৎ এই দুইটি পুনরুক্ত হইয়াছে। এই কয়েকটি শ্লোকই মূলাস্তর্গত নহে বলিয়া মূলমধ্যে বন্ধনীর মধ্যে আছে।
সৈন্যদিগকে সংগ্রহ না করিয়া যুদ্ধ করিবেন না; কিন্তু যদি যুদ্ধ করিবার আবশ্যকই হয় তাহা হইলে অধিক সৈন্য লইয়া যুদ্ধ করিবেন ) ॥১৫॥ ইতি পত্তি-অশ্ব-রথ-গজ-ভূমি-নির্ণয় ॥
দানকল্পনা। কোষই সারবস্তু। অভিযান কালে ইহা গজের পৃষ্ঠে করিয়া লইয়া যাইবে এবং বিশ্বস্ত বেগগামী সৈন্য দ্বারা রক্ষিত হইবে। এই কোষ রাজার নিকট থাকিবে; কারণ রাজত্ব কোষের অধীন ॥১৬॥ সৈন্যগণ প্রশংসনীয়-কার্য্য করিলে রাজা তাহাতে বহুমান ও আদর দেখাইয়া যোদ্ধৃবর্গকে পুরস্কার দিবেন। কোন্ ব্যক্তি দাতার পক্ষে যুদ্ধ না করে? ॥১৭॥ শত্রুরাজাকে বধ করিলে রাজা হৃষ্ট হইয়া বিজয়ী বীরকে দশলক্ষ ভার দ্রব্য দান করিবেন ( পাঠান্তরে—দশলক্ষ স্বর্ণমুদ্রা পুরস্কার দান করিবেন )। বিপক্ষের রাজ- পুত্রকে অথবা সেনাপতিকে বধ করিলে, উহার অর্দ্ধেক দান করিবেন ॥১৮॥ প্রধান বীরগণের মধ্যে সর্ব্বপ্রধানকে বধ করিলে দশসহস্র (স্বর্ণ বা ভার) দান করিবেন। কুঞ্জর বা রথ ধ্বংস করিলে উহার অর্দ্ধেক দান করিবেন ॥১৯॥ অশ্ববধ করিলে সহস্র প্রদান করিবেন। পতিমুখ্য বধ করিলে একশত দান করিবেন। অবশিষ্ট যাহা বধ করিতে পারিবে তাহাতে মাথা পিছু বিংশতি করিয়া দিবেন। আর যুদ্ধে নিযুক্ত অন্যান্য সৈন্যগণকে মাহিনার দ্বিগুণ পুরস্কার দিবেন ( পাঠান্তরে—উহার সহিত অতিরিক্ত কুড়িটি করিয়া গাভী দিবেন ) ॥২০॥ শত্রুজয় করিয়া বাহন, স্বর্ণ এবং কুপ্য যে যাহা আনিয়াছে রাজা হৃষ্টান্তঃকরণে তাহাকে তাহাই দিবেন অথবা ঐ সকল বস্তুর অনুরূপ দ্রব্য দিয়া তাহাদের হর্ষবর্দ্ধন করিবেন ॥২১॥ ইতি দানকল্পনা ॥
ব্যূহবিকল্প। পাঁচ অরত্নিতে এক ধনু [ অরত্নি বলিতে কনিষ্ঠাঙ্গুলি পরিমিত হাত ]। যুদ্ধকালে একধনু পরিমিত স্থানে ধনুর্দ্ধারি সৈন্য থাকিবে। তিনধনু পরিমিত স্থানে অশ্বারোহী থাকিবে। পাঁচধনু পরিমিত স্থানে হস্তী সৈন্য থাকিবে।
১৩৮ কামন্দকীয় নীতিসার। এবং পাঁচধনু পরিমিত স্থানে রথী থাকিবে॥২২॥ চতুর্দ্দশ-অঙ্গুল পরিমিত স্থানকে শম কহে। পদাতি সৈন্যের পরস্পরের ব্যবধান এক শম পরিমিত স্থান হইবে। অশ্বারোহীর সহিত অন্য অশ্বারোহীর ব্যবধান তিন শম পরিমিত স্থান হইবে। হস্তীসৈন্যের সহিত অন্য হস্তীসৈন্যের ব্যবধান পাঁচ শম পমিত স্থান হইবে এবং রথীর সহিত রথীর ব্যবধান পাঁচ শম পরিমিত স্থান হইবে ॥২৩॥ পত্তি (পদাতি), অশ্বারোহী, রথী ও হস্তীসৈন্য ইহাদিগকে যুদ্ধে এইরূপ ভাবে সাজাইবে যে যাহাতে অগ্রসর ও পশ্চাৎপদ হইতে পরস্পরের কোনরূপ বাধা না ঘটে ॥২৪॥ হস্তীর সহিত রথ, রথের সহিত অশ্ব, অশ্বের সহিত পদাতি, বা পদাতির সহিত হস্তী অথবা সকল গুলি একত্র মিশাইয়া যাওয়া, এইরূপ সঙ্কর ভাবাপন্ন না হইয়া যুদ্ধ করিবে। সঙ্কর হইলেই ভয়ের কারণ উপস্থিত হয়। যে যুদ্ধে মহাসঙ্কর উপস্থিত হয়, সেখানে মহাগজের আশ্রয় লইবে অর্থাৎ বৃহৎ বৃহৎ সুশিক্ষিত হস্তী সকলকে যুদ্ধের সম্মুখে নিযুক্ত করিবে। ইহার তাৎপর্য্য এই যে হস্তীদিগকে সম্মুখে রাখিয়া ঐ মিশ্রিত সৈন্যদিগকে বাছিয়া লইয়া যথা- স্থানে দাঁড় করাইয়া দিতে হইবে ॥২৫॥ এক অশ্বারোহীর প্রতিযোদ্ধা তিন জন পদাতি অর্থাৎ একজন অশ্বারোহী তিনটি পদাতির সহিত যুদ্ধ করিতে সমর্থ। একটি হস্তীর প্রতিযোদ্ধা পাঁচজন অশ্বারোহী। একটি হস্তীর প্রতিযোদ্ধা পনরটি পদাদি এবং একটি রথীর প্রতিযোদ্ধাও পনরটি পদাতি। নয়টি হস্তীতে একটি অনীক হয়। এক একটি অনীকের মধ্যে পাঁচধনু ব্যবধান থাকে। (টীকাকার মতে—একটি অশ্বারোহীর সম্মুখে তিনজন পদাতি অগ্রগামী প্রতিযোদ্ধা থাকিবে। একটি হস্তীর অগ্রে পাঁচটি অশ্বারোহী, পনরটি প্রতিযোদ্ধা পদাতি এবং পাদগোপ্তা অর্থাৎ পাদরক্ষক বা পশ্চাৎ রক্ষক পাঁচটি অশ্বারোহী ও পনরটি পদাতি থাকিবে। অর্থাৎ ইহাতে একটি হস্তীতে যে ব্যূহ হয় তাহাই বলা হইল। রথ সম্বন্ধেও এই নিয়ম। ব্যূহ দুই প্রকার—শুদ্ধ ও ব্যামিশ্র। শুদ্ধ ব্যূহের এই লক্ষণ।
২০শ সর্গ ] ব্যূহবিকল্প। ১৩৯ ব্যামিশ্র ব্যূহের কথা বলা হইতেছে। হস্তী সাজাইবার যে নিয়ম কল্পনা করা হইয়াছে, ঐ নিয়মে নয়টি হস্তী সাজাইবে; এই নয়টি হস্তীতে একটি অনীক হয়। অর্থাৎ এক অনীকে ৪৫টি অশ্ব ও ১৩৫টি পদাতি প্রতিযোদ্ধা অগ্রে এবং ৪৫টি অশ্ব ও ১৩৫টি পদাতি পদরক্ষক থাকিবে। অনীকের রন্ধ্র পাঁচ ধনু অর্থাৎ এক একটি অনীকের মধ্যে পাঁচধনু ব্যবধান থাকিবে, ইহাই বলা হইতেছে।) ॥২৬-২৮॥ এইরূপ অনীক স্থাপনের ব্যবস্থা অনুসারে ব্যূহস্থাপন করিবে। ব্যূহের উরঃস্থান, দুইকক্ষ ও দুই পক্ষ এই গুলির গুরুত্ব সমান ॥২৯॥ উরঃস্থল, কক্ষদ্বয়, পক্ষদ্বয়, মধ্যভাগ, পৃষ্ঠদেশ, প্রতিগ্রহস্থান, ও কোটীদেশ (পশ্চাদ- ভাগের পার্শ্বদেশ) এই সাতটিকে ব্যূহশাস্ত্রজ্ঞ-পণ্ডিতগণ ব্যূহের সাতটি অঙ্গ বলিয়া থাকেন ॥৩০॥ বৃহস্পতির মতে উরঃস্থান, দুই পক্ষ ও দুই কক্ষ এবং প্রতিগ্রহ স্থান লইয়া ব্যূহ হয়। আর শুক্রাচার্যের মতে উরঃস্থান, দুই পক্ষ ও প্রতিগ্রহ স্থান লইয়া ব্যূহ হয় ॥৩১॥ শত্রু কর্তৃক অভেদ্য, সৎকুলজাত, বিশ্বস্ত, স্থিরলক্ষ্য, প্রহারে অভিজ্ঞ, এবং যুদ্ধে বিপদ্ ঘটিলে কিরূপে প্রতীকার করা যায় তদ্বিষয়ে যাহার প্রত্যক্ষ জ্ঞান আছে এইরূপ উপযুক্ত লোককে সেনাঙ্গের পতি করিবে। [দশটি সেনাঙ্গের অর্থাৎ দশটি সৈন্যদলের চালককে সেনাঙ্গপতি কহে। দশটি সেনাঙ্গপতির চালককে সেনাপতি কহে এবং দশটি সেনাপতির চালককে নায়ক কহে] ॥৩২॥ এই সেনাঙ্গপতি সকল প্রবীর পুরুষগণে পরিবেষ্টিত হইয়া থাকিবে; মিলিত হইয়া যুদ্ধ করিবে এবং পরস্পর পরস্পরকে রক্ষা করিবে ॥৩৩॥ অসারসৈন্য সমূহ ব্যূহের মধ্যস্থলে থাকিবে এবং যাহা কিছু যুদ্ধবস্তু তাহা ব্যূহের জঘনদেশে থাকিবে ॥৩৪॥ যুদ্ধ-কুশল মুণ্ড-অনীককে * (পাঠান্তরে—প্রচণ্ড সৈন্যদলকে) যুদ্ধে
- যে সৈন্য রাজস্থানের মধ্যে উৎপন্ন বলিয়া শত্রুর অভেদ্য; এরূপ সৈন্যদিগকে মুণ্ডসৈন্য কহে।
১৪০ কামন্দকীয় নীতিসার। নিয়োগ করিবে। নায়কই যুদ্ধের প্রাণ। নায়ক শূন্য হইলেই যুদ্ধে পরাজয় হয় ॥৩৫॥ ( শ্যেনব্যূহ, [ পাঠান্তরে—ধনুঃব্যূহ, ] সূচী ব্যূহ, বজ্র ব্যূহ, [ পাঠান্তরে—দণ্ড ব্যূহ, ] শকট ব্যূহ ও মকরধ্বজ ব্যূহ, এই কয়টি ব্যূহ [ পাঠান্তরে—মহাব্যূহ ] শাস্ত্রকারগণ নির্দিষ্ট করিয়াছেন ) †॥ সম্মুখে পদাতি সৈন্য, তাহার পশ্চাৎ অশ্বসৈন্য, তাহার পৃষ্ঠে রথী-সৈন্য, এবং তাহার পশ্চাৎ হস্তী সৈন্য—এই ক্রমে যে ব্যূহ রচনা হয় তাহার নাম অচলব্যূহ। আর সম্মুখে হস্তী, তার পশ্চাৎ অশ্ব, তার পশ্চাৎ রথ, তার পশ্চাৎ পদাতি—এইক্রমে যে ব্যূহ রচিত হয় তাহার নাম অপ্রতিহত ব্যূহ ॥৩৬॥ উরঃস্থলে হস্তী, দুইকক্ষে প্রচণ্ড-রথ, দুইপক্ষে অশ্ব—এইক্রমে সজ্জিতব্যূহের নাম মধ্যভেদী ব্যূহ ॥৩৭॥ ‡ ॥ মধ্যদেশে অশ্বসৈন্য, দুইকক্ষে রথীসৈন্য, দুইপক্ষে গজসৈন্য—এই ক্রমে সজ্জিত ব্যূহের নাম অন্তর্ভিৎ ব্যূহ ॥৩৮॥ রথস্থানে অর্থাৎ কক্ষে অশ্বসৈন্য সাজাইবে। অশ্ব স্থানে অর্থাৎ মধ্যদেশে পদাতি সাজাইবে [ এবং দুইপক্ষে গজসৈন্য সাজাইবে ]। যেখানে রথের অভাব হইবে সেইস্থানে হস্তীসৈন্য স্থাপিত হইবে। [ ইহাও এক প্রকার অন্তর্ভিৎ ব্যূহ ] ॥৩৯॥ রথ, পত্তি, অশ্ব, কুঞ্জর, ইহাদিগকে বিভাগ করিয়া ব্যূহ সাজাইবে। যদি দণ্ডবাহুল্য হয় তাহাকে আবাপ কহে [ পাঠান্তরে—চাপ ব্যূহ কহে ], অর্থাৎ যদি সৈন্যসংখ্যা ভাগ অপেক্ষা অধিক হয় তাহা হইলে ঐ অধিক রথাদি সৈন্যকে তিন ভাগ করিয়া একভাগ কক্ষদেশে একভাগ পক্ষদেশে ও একভাগ উরঃপ্রদেশে স্থাপিত করিবে। ইহারই নাম আবাপ ॥ (পাঠান্তরে— পত্তি, অশ্ব, ) রথ ও হস্তী ইহাদিগকে ভাগ করিয়া মধ্যে স্থাপিত করিবে এবং হস্তীকে মধ্যে রাখিয়া উহাকে পত্তি অশ্ব ও রথ দিয়া ঘিরিয়া রাখিবে ) ॥৪০॥ ( কলিঃ সং ১৯৩৯ ) ॥ † কলিকাতা সংস্করণে এই শ্লোকটি ১৯৪০ শ্লোক। ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণেও ইহাকে বর্জ্জনীয় মধ্যে ধরিয়াছে। টীকাকার ইহার উল্লেখ করেন নাই॥ ‡ কলিকাতা সংস্করণে এই শ্লোকটি নাই।
২০শ সর্গ ] ব্যূহবিকল্প। ১৪১ মনীষিগণ মণ্ডল, অসংহত, ভোগ ও দণ্ড এই চারি প্রকার প্রকৃতিব্যূহ বলিয়াছেন এবং ইহাদের ভেদও বলিয়াছেন (পাঠান্তরে—দেশকাল বিবেচনা করিয়া মতিমান্ ব্যক্তি এই ব্যূহের কল্পনা করিবে)। (যে সৈন্যের সংখ্যাটি অধিক হইবে, তাহা ভুজব্যূহে সন্নিবেশিত করিবে)। দণ্ডব্যূহের আকার তির্য্যবৃত্তি অর্থাৎ পক্ষস্থানে স্থিত সৈন্যগণ দণ্ডের ন্যায় ঋজুভাবেই থাকে কিন্তু দাঁড়াইবার রীতি-রেফের ন্যায় কোণা কুণি হওয়ায় তির্য্যকবৃত্তি বলা হইয়াছে। ভোগব্যূহের আকার অন্বাবৃত্তি অর্থাৎ সর্পের শরীরের ন্যায় ফণার দিক্ হইতে ক্রমে সূক্ষ্মভাব। মণ্ডল-ব্যূহের আকৃতি সর্ব্বতোবৃত্তি অর্থাৎ গোলাকার এবং অসংহত ব্যূহের আকার পৃথবৃত্তি অর্থাৎ সৈন্য সাজাইবার নিয়ম অপেক্ষায় অধিক ফাঁক ফাঁক করিয়া সৈন্য সমাবেশ করা যেন আলাদা আলাদা ক্ষুদ্রদল ॥৪১-৪২॥ প্রদর, দৃঢ়ক, অসহ্য, চাপ, চাপকুক্ষি (পাঠান্তরে—উল্টাধনু), প্রতিষ্ঠ, সুপ্রতিষ্ঠ, শ্যেন, বিজয়, সঞ্জয়, বিশালবিজয়, সূচী, স্থূণাকর্ণ, চমুমুখ, ঝষাস্য (পাঠান্তরে—সুখাখ্য), বলয়, এবং সুদুর্জ্জয়—এই সতর প্রকার দণ্ডব্যূহের ভেদ ॥৪৩-৪৪॥ পঞ্চ-অনীক-সৈন্য সাজাইবার কালে দুইটি রেখা করিবে, একটি সম্মুখে আর একটি পশ্চাতে। দুই কক্ষের দ্বারা অতিক্রান্ত অর্থাৎ সম্মুখের রেখায় দুইকক্ষ এবং পশ্চাতের রেখায় দুই প্রান্তে দুইপক্ষ ও মধ্যস্থলে উরঃ শ্রেণী থাকিবে। এই প্রকার দণ্ডব্যূহের নাম প্রদর। (১)। কক্ষ ও পক্ষের দ্বারা প্রতিক্রান্ত অর্থাৎ উরঃ সম্মুখের রেখায় এবং কক্ষ ও পক্ষ পশ্চাতের রেখায় থাকিবে। (পাঠান্তরে—একটি পক্ষের দ্বারা প্রতিক্রান্ত অর্থাৎ উরঃ ও একটি পক্ষ প্রথম রেখায় ও অন্যগুলি দ্বিতীয় রেখায়) এইরূপে সজ্জিত দণ্ডব্যূহের নাম দৃঢ়ক। (২)। দুই পক্ষের দ্বারা অতিক্রান্ত অর্থাৎ দুইপক্ষ সম্মুখের রেখায় এবং কক্ষ ও উরঃ পশ্চাতের রেখায় থাকিবে। এই দণ্ড ব্যূহের নাম অসহ্য। (৩)। এই তিনের বিপর্য্যায়ে চাপ, চাপকুক্ষি ও প্রতিষ্ঠব্যূহ হয়। অর্থাৎ দুইপক্ষ
১৪২ কামন্দকীয় নীতিসার। ও উরঃ সম্মুখ রেখায় ও দুই কক্ষ পশ্চাতের রেখায় থাকিবে। ইহার নাম চাপব্যূহ। (৪)। কক্ষও পক্ষ প্রথম রেখায় ও উরঃ দ্বিতীয় রেখায় থাকিবে। ইহার নাম চাপকুক্ষিব্যূহ। (৫)। (পাঠান্তরে—উরঃ ও একটি পক্ষ দ্বিতীয় রেখায় এবং অন্যগুলি প্রথম রেখায় ইহার নাম উলটা ধনু)।*। কক্ষ ও উরঃ প্রথম রেখায় এবং পক্ষ দ্বিতীয় রেখায় থাকিবে ইহার নাম প্রতিষ্ঠ ব্যূহ। (৬) ॥৪৫॥ [এক্ষণে তিনটি রেখায় সৈন্য সমাবেশ হইতেছে] প্রথম রেখায় দুইপক্ষ; মধ্যের রেখায় দুই কক্ষও শেষ রেখায় উরঃ; এই ব্যূহের নাম সুপ্রতিষ্ঠ। (৭)। ইহার বিপরীত শ্যেনব্যূহ অর্থাৎ উরঃ প্রথম রেখায়, কক্ষ মধ্য রেখায় এবং পক্ষ শেষ রেখায় থাকিবে; ইহার নাম শ্যেনব্যূহ †। (৮)। পক্ষ স্থূণা হইলে বিজয়ব্যূহ হয় অর্থাৎ দ্বিতীয় রেখায় দুই কক্ষ ও উরঃ থাকিবে এবং দুই পক্ষে দুইটি স্থূণাকর্ণ ব্যূহ থাকিবে; ইহার নাম বিজয়ব্যূহ। (৯)। [স্থূণাকর্ণ ব্যূহের কথা পরে বলা হইতেছে]। দুইটি পক্ষ ধনুর ন্যায় হইবে অর্থাৎ দ্বিতীয় রেখায় উরঃ ও দুই কক্ষ থাকিবে; আর দুইটি চাপব্যূহ দুই পক্ষে থাকিবে; ইহার নাম সঞ্জয়ব্যূহ। (১০)। একটি স্থূণাকর্ণ ব্যূহের পশ্চাতে আর একটি স্থূণাকর্ণ ব্যূহ সংস্থাপিত হইলে, তাহাকে বিশালবিজয় ব্যূহ কহে। (১১)। উপরি উপরি সজ্জিত অর্থাৎ সম্মুখে একটি পক্ষ তৎপশ্চাতে একটি কক্ষ তৎপশ্চাতে বা মধ্যে উরঃ, তৎপশ্চাতে কক্ষ, তৎপশ্চাতে আর একটি পক্ষ, (অথবা উরঃ সর্ব্বশেষে থাকিবে) এইরূপ লম্বাভাবে সজ্জিত সৈন্যের নাম সূচীব্যূহ। (১২) ॥৪৬॥ যে ব্যূহের অন্তভাগ দ্বিগুণ অর্থাৎ প্রথম রেখায় চারিটি পক্ষ ও উরঃ, এবং দ্বিতীয় রেখায় দুইটি কক্ষ এইরূপ সজ্জিত ব্যূহকে স্থূণাকর্ণ কহে। (১৩)।
- পাঠান্তরে—যে দৃঢ়কব্যূহ দেখান হইয়াছে তাহারই বিপরীত উলটা ধনু বলা হইয়াছে কিন্তু দৃঢ়কের আকারের বিপরীত ঠিক উলটা ধনু হয় না সুতরাং পাঠান্তরের পাঠটী সমীচীন বলিয়া বোধ হইতেছে না।
- এই অংশ কলিকাতা সংস্করণে নাই।
২০শ সর্গ ] ব্যূহবিকল্প। ১৪৩ অতিক্রান্ত পক্ষ হইবে অর্থাৎ আটটি পক্ষ থাকিবে, তাহার মধ্যে ছয়টি পক্ষ প্রথম রেখায়, দুইটি কক্ষ অবশিষ্ট দুইটি পক্ষ এবং উরঃ দ্বিতীয় রেখায় থাকিবে। এইরূপ সজ্জিত ব্যূহের নাম চমূমুখ। (১৪)। ইহার বিপরীত অর্থাৎ প্রথম রেখায় দুইটি কক্ষ দুইটি পক্ষ এবং উরঃ, আর দ্বিতীয় রেখায় ছয়টি পক্ষ থাকিবে, এইরূপ সজ্জিত ব্যূহের নাম ঝষাস্য। (১৫)। দুইটি দণ্ড ব্যূহ ( প্রদর ও চাপ ) একত্র করিয়া সাজাইবে অর্থাৎ প্রথম রেখার দুই কক্ষ, দ্বিতীয় রেখায় মধ্যে উরঃ, এবং দুই পার্শ্বে দুই পক্ষ ; আর ঠিক ইহার বিপরীতভাবে অন্য একটি দণ্ড সাজাইলে যে ব্যূহ হয়, তাহার নাম বলয় (ক)। (১৬)। চারিটি দণ্ড অর্থাৎ বিংশতি অনীক পর পর সাজাইলে যে ব্যূহ হয়, তাহার নাম সুদুর্জ্জয়। (১৭)। এই সপ্তদশটি দণ্ডব্যূহ জানিতে হইবে ॥৪৭॥ গোমূত্রিকা, অহিসারী, শকট, মকর ও পরিপতন্তিক—এই পাঁচ প্রকার ভোগব্যূহের ভেদ। গোমূত্রের রেখার ন্যায় বক্রভাবে সজ্জিত অর্থাৎ লম্বাভাবে পাশাপাশি সজ্জিত সৈন্যব্যূহের নাম গোমূত্রিকা। সর্পের আকারের অনুসারী অর্থাৎ সম্মুখের প্রথম রেখায় দুই উরঃ, দ্বিতীয় রেখায় দুইপক্ষ, এবং তৃতীয় রেখায় দুই কক্ষ ; এইরূপ সর্পফণার ন্যায় সজ্জিত ব্যূহের নাম অহিসারী। ইহার বিপরীত অর্থাৎ অগ্রভাগ সরু মধ্যভাগ বিস্তীর্ণ ও পশ্চাৎ ভাগ তদপেক্ষায় অল্পবিস্তীর্ণ এইরূপ সজ্জিত ব্যূহকে শকট-ব্যূহ কহে। মকরের আকারে সজ্জিত ব্যূহকে মকরব্যূহ কহে। যে ব্যূহে লম্বাভাবে হস্তী ও অশ্বকে বিক্ষিপ্ত করিয়া সাজান হয় তাহার নাম পরিপতন্তিক ব্যূহ ॥৪৮, ৪৯॥ সর্ব্বতোভদ্র ও দুর্জ্জয় ভেদে মণ্ডল-ব্যূহ দুই প্রকার। অষ্টানীক সৈন্যকে আটদিকে গোলাকারে সাজাইলে সর্ব্বতোভদ্র ব্যূহ হয়। এই সর্ব্বতোভদ্র-ব্যূহের যে যে স্থানে ভয় উপস্থিত হয় সেই সেই স্থানে দ্বিগুণ সৈন্য সমাবেশ করিলে এই ব্যূহের নাম দুর্জ্জয় হয় ॥৫০॥ অর্দ্ধচন্দ্রক, উদ্দান ( পাঠান্তরে উদ্ধার ), বজ্র, কর্কটশৃঙ্গী, কাকপাদী ( ক ) টীকাকার বলেন—১১টি অনীকে এই ব্যূহ রচিত হয়।
১৪৪ কামন্দকীয় নীতিসার। ও গোধিকা এই ছয় প্রকার অসংহতব্যূহের ভেদ। অর্দ্ধচন্দ্রাদি-ব্যূহের আকারভেদ—তিন চারি বা পাঁচ অনীক-সৈন্য সজ্জিত করিতে হইবে, অর্থাৎ তিন অনীক সৈন্য লইয়া দুই পার্শ্বে দুই দল, ও মধ্যে একদল- সৈন্যকে অর্দ্ধচন্দ্রের ন্যায় সাজাইলে অর্দ্ধচন্দ্রনামক ব্যূহ হয়। তিনদল সৈন্য লইয়া উননের আকারে সাজাইলে উদ্ধান নামক ব্যূহ হয়। চারি অনীক-সৈন্য লইয়া চারিদিকে বজ্রের ন্যায় সাজাইলে বজ্র-ব্যূহ হয়। কাঁকড়া দাড়া বিস্তার করিয়া থাকিলে যেরূপ হয় সেইরূপ চারি অনীক- সৈন্য সাজাইলে কর্কটশৃঙ্গী ব্যূহ হয়। কাকের পায়ের নখ, যে ভাবে থাকে সেই আকারে পাঁচ অনীক-সৈন্য সাজাইলে কাকপাদী ব্যূহ হয়। পাঁচ অনীক সৈন্য লইয়া গোসাপের আকারে সৈন্য-সমাবেশ করিলে গোধিকাব্যূহ হয়। ব্যূহভেদ-প্রয়োগকারী-পণ্ডিতগণ এই সমুদয় ব্যূহের কথা বলিয়াছেন ॥৫১-৫২॥ প্রকারভেদে দণ্ডব্যূহ সতর রকম! (মোটামুটি) দণ্ডব্যূহ দুই প্রকার। অসংহত ব্যূহ ছয় প্রকার। আর ভোগব্যূহ পাঁচ প্রকার। যুদ্ধকাল উপস্থিত হইলে ব্যূহ-বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা এই সকল ব্যূহের প্রয়োগ করিতে বলিয়াছেন ॥৫৩-৫৪॥ * ইতি ব্যূহভেদ কথন ॥ প্রকাশ-যুদ্ধ। পক্ষাদি-স্থানস্থিত একটি অনীক দ্বারা শত্রুব্যূহ ধ্বংস করিবে এবং অবশিষ্ট অনীক দ্বারা পরসৈন্যকে তাড়াইয়া লইয়া যাইবে। অথবা উরঃস্থলস্থিত সৈন্য দ্বারা শত্রু-ব্যূহকে আক্রমণ করিয়া কোটিস্থ সৈন্য দ্বারা ঐ শত্রু-ব্যূহকে বেষ্টন করিবে ॥৫৫॥ বিজীগীষু সংপ্রতিগ্রহ হইয়া পক্ষদ্বয় দ্বারা শত্রুর কোটি সম্যকরূপে আক্রমণ করিবে; নিজ কোটিদ্বয় দ্বারা শত্রুর জঘনস্থ সৈন্যদিগকে ধ্বংস করিয়া উরঃদ্বারা শত্রুকে প্রপীড়িত
- এখানে ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণে বন্ধনীর মধ্যে একটি শ্লোকে ব্যূহগুলির নাম উল্লেখ করিয়াছে। এই শ্লোকটি আবার ৩৫, ৩৬ শ্লোকের মধ্যে বন্ধনীর অন্তর্গত করিয়া উল্লিখিত হইয়াছে; উহাতে যে পাঁচটি ব্যূহের নাম আছে এখানে তদতিরিক্ত অম্বুজ-ব্যূহের নাম আছে।
२०श सर्ग ] प्रकाश-युद्ध । १४५ करिबे ॥५६॥ ( पृथिवीपति यत्नवान् हइया व्यूह-रचना पूर्व्वक व्यूहकृत बलद्वारा शत्रुसैन्यके सयत्ने ध्वंस करिबेन । ) । * । ये स्थाने शत्रुर दुर्ब्बलसैन्य आछे, ये स्थाने उपजापकृत वा अपसृत-सैन्येर स्थान पूरण करियाछे एइरूप भेदप्राप्त सैन्य आछे एवं जेखाने क्रुद्ध लुब्ध प्रभृति दुष्टसैन्य आछे, सेइ स्थाने शत्रुसैन्यदलके ध्वंस करिबे; आर निजेर सैन्यदलके परिवर्द्धित करिबे ॥५७॥ शत्रुर सारभूतसैन्यके निजेर द्विगुण सारभूतसैन्यद्वारा पीड़ित करिबे। शत्रुर फल्गुसैन्यके निजेर सारभूतसैन्य द्वारा पीड़ा दिबे; एवं शत्रुर संहत अर्थात् दुर्भेद्यसैन्यके निजेर प्रचण्ड गजसैन्य द्वारा मर्दित करिबे ॥५८॥ शत्रुपक्षेर दुर्ज्जय- हस्तीगणके स्वपक्षीय सिंह-वधे सक्षम एरुप महाहस्ती द्वारा अथवा निपुण-योद्धृ- पुरुषाधिष्ठित-करिणी-समूह द्वारा समूले निहत करिबे ॥५९॥ ये हस्ती- समुदय लोहार जालेर वर्म्माय आवृत, सुदृढ़-भावे याहादेर दन्तद्वय बाँधान हइयाछे, याहारा सुशिक्षित, याहारा मदमत्त, याहारा प्रवीण-योद्धृ- पुरुषकर्त्तृक अधिष्ठित एवं याहारा प्रबल पदातिगण-कर्त्तृक सुरक्षित— एइरूप गजेन्द्र समूह द्वारा विपक्षदिगेर सैन्यवध करिबे ॥६०॥ मद-सत्त्व- गुण-युक्त एकटि गजराज शत्रुदिगेर मिलित सैन्यके वध करिते समर्थ। क्षितिपतिगणेर जयलाभ हस्तीगणेर उपरइ निर्भर करिया थाके। अतएव राजा सर्व्वदा अधिक परिमाणे हस्तीसैन्य राखिबेन ॥६१॥ इति कामन्दकीय नीतिसारे गजाश्व-रथ-पत्ति-कर्म्म, पत्ति-अश्व-रथ-गज-भूमि- निर्णय, दान-कल्पना, व्यूहविभाग ओ प्रकाशयुद्ध नामक विंश-सर्ग ॥ सम्पूर्ण
- इहा कलिकाता संस्करणेर १९।५७ श्लोक। किन्तु ट्राभाङ्कूर संस्करणे इहा बन्धनीर मध्ये आछे; आर टीकाकार इहार उल्लेख करेन नाइ।
কামন্দকীয় নীতিসারের পরিশিষ্ট। দণ্ডব্যূহ। ইহার ভেদ সতের প্রকার। সৈন্য সাজাইবার চিত্র :— দণ্ডব্যূহ :— — — — — — পক্ষ কক্ষ উরঃ কক্ষ পক্ষ [ ১ ] প্রদর ব্যূহ। —১ — কক্ষ কক্ষ ( ৫ দল সৈন্য ) — ২— — পক্ষ উরঃ পক্ষ [ ২ ] দৃঢ়ক ব্যূহ। ১— ( ৫ দল সৈন্য ) — —২ — — [ ৩ ] অসহ্য ব্যূহ। —১ — ( ৫ দল সৈন্য ) ২— — — [ ৪ ] চাপ ব্যূহ। —১ — — ( ৫ দল সৈন্য ) ২— — [ ৫ ] চাপকুক্ষি ব্যূহ — —১ — — ( ৫ দল সৈন্য ) ২— [ ৬ ] প্রতিষ্ঠ ব্যূহ ১— — — ( ৫ দল সৈন্য ) —২ — [ ৭ ] সুপ্রতিষ্ঠ ব্যূহ —১ — ( ৫ দল সৈন্য ) —২ — —৩ [ ৮ ] শ্যেন ব্যূহ ১— ( ৫ দল সৈন্য ) ২— — ৩— — [ ৯ ] বিজয় ব্যূহ - ১ - - - - - - - - - - ( ১৭ দল সৈন্য ) ২- - - - - - -
৭০ [ ১০ ] সঞ্জয় ব্যূহ ১— — — — — — ( ১৩ দল সৈন্য ) ২— — — — — — — [ ১১ ] বিশাল ব্যূহ বিজয় ১— — — — — ( ১৪ দল সৈন্য ) ২— — — — — ৩— — ৪— — [ ১২ ] সূচি ব্যূহ ১ । ( ৫ দল সৈন্য ) ২ । ৩ । ৪ । ৫ । [ ১৩ ] স্থূণাকর্ণ ব্যূহ ১— — — — — ( ৭ দল সৈন্য ) ২— — [ ১৪ ] চমূমুখ ব্যূহ ১— — — — — — ( ১১ দল সৈন্য ) ২— — — — — [ ১৫ ] ঝষাস্য ব্যূহ ১— — — — — (১১ দল সৈন্য ) ২— — — — — — [ ১৬ ] বলয় ব্যূহ ১— — ( ১০ দল সৈন্য ) —২ — — (টীকাকার মতে —৩ — — ১১ দল সৈন্য ) ৪— — [ ১৭ ] সুদুর্জ্জয় ব্যূহ —১ — — ( ২০ দল সৈন্য ) —২ — — —৩ — — —৪ — — ৫— — ৬— — ৭— — ৮— — অন্যান্য ব্যূহগুলির নাম হইতেই সহজে আকৃতি বোঝা যায় বলিয়া, তাহাদের চিত্র প্রদর্শিত হইল না।
সংস্কার গ্রন্থমালা ১। ঋতু-সংহার মহা কবি কালিদাসের সেই অনিন্দ্য অভিরাম রসাল ষড় ঋতুর বর্ণনা! প্রতি শ্লোকটির বাংলা পদ্যানুবাদ, টীকা, সংস্কৃত ও বাংলা ব্যাখ্যা আছে। মনোরম কাপড়ের বাঁধাই, ঝক্ঝকে সোনার জলে নাম লেখা। মূল্য মাত্র ১৲ এক টাকা। ২। পুষ্পবাণ-বিলাস কালিদাসের মধুর বৈষ্ণব তত্ত্বময় উপভোগ্য কবিতাগুলির পদ্যে বঙ্গানুবাদ। মূল্য ।/০ ছয় আনা। ৩। জ্যোতিষ যোগতত্ত্ব ইহা সম্পূর্ণ অভিনব ধরণের নির্ভূল ও বিশদভাবে লিখিত ফলিত জ্যোতিষের বই। বইখানি পড়িলেই জীবনের ভূত ভবিষ্যৎ বর্তমান চক্ষের সম্মুখে প্রোজ্জ্বল হইয়া উঠিবে। জ্যোতিষ শাস্ত্রের সর্ব্বপ্রকার সঙ্কেত-বাণীর একটি আমূল অভিধান ইহার শেষে থাকায় ইহার কার্য্যকারিতা বহু পরিমাণে বৃদ্ধি পাইয়াছে। প্রায় ফুরাইল, শীঘ্রই দ্বিতীয় সংস্করণ বাহির হইবে। মূল্য ১॥০, ডাকমাশুল স্বতন্ত্র। ৪। বিধবা বিবাহ ও হিন্দুধর্ম্ম [ বিনা মূল্যে বিতরিত, ফুরাইয়া গিয়াছে। ] ৫। শ্রীশ্রীচিত্রগুপ্ত-পূজা পদ্ধতি [ বঙ্গদেশীয় কায়স্থ সভায় প্রাপ্তব্য ] মূল্য ।/০ আনা মাত্র। ৬। উপনয়ন-সন্ধ্যা-তর্পণ-পূজা-প্রয়োগ নিত্য নৈমিত্তিক ধর্ম্ম কর্ম্মানুষ্ঠানের পক্ষে এই পুস্তকখানি অতি প্রয়োজনীয়। প্রত্যেক হিন্দুর গৃহে শোভা পাওয়া উচিত। মূল্য ।/০ ছয় আনা মাত্র।
७/० ৭। যজুঃ সংস্কার পদ্ধতি ইহাতে বিবাহ, অন্নপ্রাশন, উপনয়ন প্রভৃতি দশকর্ম্মের পদ্ধতি বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হইয়াছে। প্রত্যেক বেদ মন্ত্রের সায়ন, মহীধর, হলায়ুধ প্রভৃতির ভাষ্য ও আগাগোড়া তাহার অনুবাদ আছে। এসিয়াটিক সোসাইটি প্রভৃতির পাঁচখানি প্রাচীন হস্তলিখিত পুঁথির সহিত মিলাইয়া বেদ, ব্রাহ্মণ শ্রৌতসূত্র, গৃহ্যসূত্র, স্মৃতি প্রভৃতি ৩০খানি গ্রন্থ সাহায্যে সম্পাদিত। ইহা দেখিয়া ক্রিয়া কর্ম্ম করিলে কার্য্য নিখুঁত ও অভ্রান্ত হইবে। মেয়েরাও ইহা পড়িয়া ধর্ম্ম-কর্ম্ম কি তাহা অল্পায়াসেই বুঝিতে পারিবেন। কয়েক খণ্ড মাত্র অবশিষ্ট আছে! মূল্য ১॥ মাত্র; ডাকমাশুল পৃথক। ৮। দুর্গাপূজা পদ্ধতি (কালিকা পুরাণীয়) পাঁচখানি প্রাচীন হস্তলিখিত পুঁথি ও বেদ, স্মৃতি, তন্ত্র, পুরাাণাদি ২০খানি প্রামাণ্য গ্রন্থ মন্থন করিয়া—এই পুস্তকখানির উৎপত্তি। পূজা বিশুদ্ধ ও অভীষ্টরূপ না হইবার কারণ যে ক্রমভঙ্গ ও মন্ত্রাদির ভ্রমসঙ্কুলতা— তাহা ইহাতে একটিও নাই। শাস্ত্রানুযায়ী নিখুঁত, বিশুদ্ধ ও বিস্তৃতভাবে পূজা করিবার পক্ষে এই পুস্তক একমাত্র বিশ্বস্ত। ছাপা ও কাগজ মনোরম, অক্ষরগুলি বড়। মূল্য ১॥ মাত্র। ৮। আসলে মেকী বিধুবাবুর এই তিন অঙ্কের সামাজিক নক্সা খানি পড়িতে পড়িতে হাসি সামলান দায় হইয়া উঠে। অতি অপূর্ব্ব নীতিশিক্ষাপূর্ণ, সুন্দর গীতিমালা সম্বলিত, সখের থিয়েটারে অভিনয়ের একান্ত উপযোগী। মূল্য ॥/০ পাঁচ আনা মাত্র। ১০। কামন্দকীয় নীতিসার ভারতের ধর্ম্ম—ভারতের চিন্তা—ভারতের সমাজ, ইহার যেমন নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে, সেইরূপ ভারতের রাজনীতিরও মৌলিকতা ও বৈশিষ্ট্য আছে। Politics বলিতে আমরা যাহা বুঝি, তাহার আদিগুরু আমাদের ভারতীয় ঋষিগণ। কামন্দকীয় নীতিসার একখানি হিন্দুরাজনীতি গ্রন্থ—গণপতিবাবুর দ্বারা অতি বিস্তৃত ও সুবোধ্যভাবে অনুবাদিত হইয়াছে। উৎকৃষ্ট বোর্ডে বাঁধাই, যুদ্ধরীতি বিষয়ক নক্সা সম্বলিত বিরাট গ্রন্থ, দাম এক টাকা।
११। रस-निर्झर कालिदास, ঘটकर्पर, श्रीहर्ष, वररुचि प्रभृति प्राचीन महाकविगणेर प्रधानतः आदि रसात्मक श्लोक समूहेर सुललित पद्यानुवाद ओ तत्सह ঐ समयेर सुरसाल गल्प। सुन्दर बाँधान, दुइ रङे एन्टिके छापा। अल्प पय़साय़ बन्धु बान्धवके उपहार दिवार श्रेष्ठ पुस्तक। मूल्य मात्र ।/० छय़ आना। १२। श्राद्ध पद्धति श्राद्धादि पारलौकिक कर्म्मेर—एकमात्र विशद विशुद्ध पुस्तक। यन्त्रस्थ। आरो कय़ेकखानि मनेर मतन बइ শ্রীযুক্ত नृपेन्द्रकुमार बसु प्रणीत १। भादुरे डि-एल्-राय़ेर आषाढेर पर एमन रुचिकर हासिर केताब केउ लिखते पारेन नि। “डाक टिकिटे चुमा” “डाक्तार बঘ্নিক भाई” “कलिर ब्राह्मण” पडते पडते हासिर प्रलय़-पय़ोधि जले भासबेन। मूल्य तिन आना, डाकटिकिट पाठाइले एकखानि पाइबेन। २। सखेर सय़तानी अपूर्ब्ब चमकप्रद डिटेक्टिव उपन्यास; पडिते पडिते आत्महारा हइबेन। २१० पृष्ठार बइ, २खानि मनोरम चित्र, सुन्दर बाँधाइ, दाम ১/टाका। ३। मालसा भोग गद्ये पद्ये हासेर रचना भरा अपूर्ब्ब मुखरोचक प्रसाद, साहित्य जगते अभिनव परिकल्पना। अनेकगुलि छवि आछे, प्राय़ ৯০ पृष्ठार बइ, बेगुनी रङे छापा ; मूल्य सओय़ा पाँच आना मात्र। प्राप्तिस्थान :— निर्मला साहित्याश्रम—१०२ए, बेलेघाटा मन् रोड, कलिकाता। गुरुदास चट्टोपाध्याय़ एण्ड, सन्स,—२०১ নং कर्णओय़ालिस ष्ट्रीट, कलिकाता। संस्कृत प्रेस डिपजिटरी—३० নং कर्णओय़ालिस ष्ट्रीट, कलिकाता। ओ अन्यान्य प्रधान पुस्तकालय़ प्राप्तव्य।
The provided image is completely blank and contains no text to transcribe.
The provided image is a blank page and contains no readable text.
The provided image is completely blank and does not contain any visible text to transcribe.