कामन्दकीय नीतिसार (आचार्य कामन्दक - प्राचीन भारतीय राजनीति शास्त्र)
Kamandakiya Nitisara with Hindi Commentary
आचार्य कामन्दक / पं. ज्वालाप्रसाद मिश्र द्वारा
১০০ কামন্দকীয় নীতিসার। গুরুতর, জনপদব্যসন অপেক্ষায় অমাত্য-ব্যসন গুরুতর, অমাত্যব্যসন হইতে রাজব্যসন গুরুতর ॥৯৩॥ নরপতি এই সমস্ত প্রকৃতির ব্যসন অত্যন্ত যত্নসহকারে বুঝিয়া বুদ্ধি ও শক্তি অনুসারে কালক্ষেপ না করিয়া ব্যসনগুলির প্রতীকার করিবেন ॥৯৪॥ ঐশ্বর্য্যকামী-নরপতি কাম-ব্যসনে অভিভূত হইয়া কিংবা শৌর্য্য-বীর্য্যে দর্পিত হইয়া প্রকৃতি-ব্যসন সমুদায়কে উপেক্ষা করিবেন না। যিনি প্রকৃতি-ব্যসন উপেক্ষা করেন তিনি অচিরাৎ শত্রুহস্তে পরাজিত হন ॥৯৫॥ রাজা সচেষ্ট হইয়া এই প্রকৃতির এই ব্যসন আছে, অতএব এই প্রকৃতিকে এই কার্য্যে যোজনা করা উচিত, ইহা নিয়ত চিন্তা করিয়া প্রকৃতিবর্গকে যথাযোগ্য কার্য্যে নিযুক্ত করিবেন। যে রাজার প্রকৃতিবর্গের ব্যসনসমুদয় সুন্দর নীতি প্রয়োগে নিবারিত হয়, সেই রাজা চিরকাল ত্রিবর্গভোগ করিতে পারেন ॥৯৬॥ ইতি কামন্দকীয়-নীতিসারে উৎসাহ-প্রশংসা প্রকৃতি-কর্ম্ম ও প্রকৃতিব্যসন- নামক চতুর্দ্দশ-সর্গ॥ পঞ্চদশ-সর্গ। * সপ্তব্যসন-বর্গ। অমাত্য হইতে মিত্র পর্য্যন্ত প্রকৃতিবর্গকে রাজ্য বলা হয়। সমুদয় রাজ্যব্যসন অপেক্ষায় রাজার ব্যসন অত্যন্ত গুরুতর ॥১॥ রাজা স্বয়ং ব্যসনী না হইলেই রাজ্যের ব্যসন প্রতীকারে সমর্থ হন; রাজার ব্যসন না থাকিলে রাজ্য পরিবর্দ্ধিত হইতে সমর্থ হয় এবং ইহার বিপরীত হইলে বিপরীত হয় ॥২॥ যে রাজা নিজেকে অমাত্যদিগকে প্রজাদিগকে
- কলিকাতা সংস্করণে ইহা চতুর্দ্দশ সর্গ।
১৫শ সর্গ ] সপ্তব্যসন-বর্গ। ১০১ দুর্গকে কোষকে সৈন্যদিগকে এবং মিত্রবর্গকে ব্যসন হইতে উদ্ধার করিতে সমর্থ তিনি ত্রিবর্গ লাভ করিতে পারেন ॥৩॥ + ॥ যে নরপতির নীতিশাস্ত্রে জ্ঞান নাই, তিনি অন্ধ বলিয়া কথিত। অন্ধও বরং ভাল কিন্তু মদগর্ব্বে যিনি সৎপথ পরিত্যাগ করিয়াছেন এমন চক্ষুষ্মান্ও ভাল নহেন ॥৪॥ মন্ত্রকুশল মন্ত্রিগণ অন্ধ রাজাকে উপযুক্ত পথে পরিচালিত করেন, আর চক্ষুষ্মান্ রাজা মদান্ধ হইলে সকল রকমে আপনার বিনাশ সাধন করেন ॥৫॥ অতএব শাস্ত্রচক্ষু-নরপতি প্রধান মন্ত্রীর মতানুবর্ত্তী হইয়া ধর্ম্ম-অর্থ-বিনাশকারী ব্যসনগুলি পরিত্যাগ করিবেন ॥৬॥ ব্যসনতত্ত্বজ্ঞ পণ্ডিতগণ বাক্পারুষ্য, দণ্ডপারুষ্য ও অর্থদূষণ এই তিনটীকে ক্রোধজ-ব্যসন বলেন ॥৭॥ ব্যসনজ্ঞ পণ্ডিতগণ মৃগয়া, দ্যূত, স্ত্রী ও পান—এই চারিটীকে কামজ-ব্যসন বলিয়াছেন ॥৮॥ অপবাদ, কুৎসা ও ভর্ৎসনাকে বাক্পারুষ্য কহে। নিরর্থক বাক্পারুষ্য লোককে উত্তেজিত করে, অতএব ইহা করিবে না ; প্রিয়বাক্য বলিয়া জনসাধারণকে আত্মসাৎ করিবে ॥৯॥ যিনি হঠাৎ কুপিত হইয়া কর্কশভাবে অধিক ভর্ৎসনা করেন, তাহাকে লোক স্ফুলিঙ্গ যুক্ত অগ্নির- ন্যায় মনে করিয়া উত্তেজিত হয় ॥১০॥ তীক্ষ্ণ-অসির ন্যায় মর্ম্মচ্ছেদী বাক্যে হৃদয় বার বার বিদ্ধ হইলে তেজস্বী ব্যক্তি কুপিত হয় এবং ঐ ব্যক্তি কুপিত হইয়া বৈরিভাব ধারণ করে ॥১১॥ কর্কশবাক্যে জগৎকে উদ্বিগ্ন করিবে না। সর্ব্বদা প্রিয়ভাষী হইবে। যিনি প্রিয়ভাষী ও প্রিয়কার্য্যকারী তিনি দাতা না হইলেও লোকে তাঁহার সেবা করে ॥১২॥ [ অসিদ্ধ-সাধন বলিতে অর্থহরণ, তাড়ন ও বধ বুঝায় ] নীতিজ্ঞগণ অসিদ্ধ-সাধন-শাসনকে দণ্ড বলেন। সেই দণ্ডকে যুক্তিদ্বারাই পরিচালিত করিবে, যেহেতু যুক্তদণ্ডই প্রশংসনীয় ॥১৩॥ দণ্ডপারুষ্য-যুক্ত-নরপতি জনসাধারণকেই উত্তেজিত
- কলিকাতা সংস্করণে এই শ্লোকটি নাই ॥
১০২ কামন্দকীয় নীতিসার। করেন। জনসাধারণ উত্তেজিত হইয়া শত্রুর আশ্রয় গ্রহণ করে ॥১৪॥ জনসাধারণ শত্রুর আশ্রয় গ্রহণ করিলে শত্রুর পক্ষ বলবান্ হয়। শত্রু- সমৃদ্ধি-সম্পন্ন হইলে [ স্বপক্ষের ] বিনাশের নিমিত্ত হয় ; অতএব প্রজাবর্গকে উত্তেজিত করিবে না ॥১৫॥ লোকানুগ্রহকারী নরপতি বৃদ্ধি- প্রাপ্ত হন। লোকের [ প্রজাবর্গের ] সমৃদ্ধিতেই রাজার বৃদ্ধি এবং ক্ষয়েতেই রাজার ক্ষয় ॥১৬॥ অতিগুরুতর অপরাধ করিলেও প্রাণান্তিক দণ্ড করিবে না, কিন্তু রাজ্য অপহরণে উদ্যত হইলে প্রাণদণ্ড করাই প্রশস্ত ॥১৭॥ [ অর্থদূষণ অর্থাৎ অদান, আদান, বিনাশ ও পরিত্যাগ। অদান বলিতে পূর্ব্বলব্ধ অর্থের উচ্ছেদসাধন। আদান অর্থে পণ্যদ্রব্যের অতিরিক্ত করগ্রহণ। বিনাশ বলিতে অর্জিত অর্থ নষ্ট করা। আর পরিত্যাগ বলিতে কোন স্থান হইতে সম্ভাবিত প্রাপ্য অর্থের ব্যাঘাত করাইয়া পরিত্যাগ করান ] দুষ্ট ব্যক্তির অপকার করিবার নিমিত্ত প্রচুর অর্থব্যয়কে নীতিশাস্ত্র-পারদর্শীগণ অর্থদূষণ কহেন। অতএব হঠাৎ অত্যন্ত কোপের বশবর্ত্তী হইয়া সতত আত্মহিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি অর্থদূষণ করিবেন না ॥১৮-১৯॥ [ ১—১৯ শ্লোক পর্যন্ত ক্রোধজ ব্যসনের কথা হইল। এক্ষণে ২০—৬৬ শ্লোক পর্যন্ত কামজ ব্যসনের কথা বলা হইতেছে ] যান-ক্ষোভ ( যানপীড়া ) ; যান হইতে পতন ; যানাবিহরণ ( যান দ্বারা অনভিমত দেশে গমন ) ; ক্ষুধা পিপাসা পরিশ্রম আয়াস শীত বায়ু ও গ্রীষ্ম জনিত পীড়া ; মৃগয়ার জন্য অভিযানকালে অন্যের অশ্বের আঘাতে নিজের অশ্বের জখম হওয়ায় যান-ব্যসন-জনিত মহৎ দুঃখ ; তপ্ত বালুকা জন্য ও কুশ- কণ্টকযুক্তস্থান জন্য দুঃখ ; বহুবৃক্ষে সঙ্কটাপন্নস্থান, লতা ও কণ্টক লঙ্ঘন, প্রস্তরখণ্ড-পতন, শিলা-সমুদয়, স্থাণু (খোঁটা সমুদয় ) এবং উইঢিপি—এইগুলি জনিত পীড়। নিকটস্থ আটবিকগণ শত্রুসৈন্যকে বাধা দিবার নিমিত্ত পর্ব্বত নদী ও বন মধ্যে যে সকল গহ্বর প্রচ্ছন্নভাবে প্রস্তুত করিয়া রাখে তজ্জনিত বধ বন্ধন ক্লেশ ; নিজের সৈন্য হইতে অথবা স্বকুলোদ্ভবব্যক্তি
১৫শ সর্গ ] সপ্তব্যসন-বর্গ। ১০৩ হইতে কিংবা শত্রু দ্বারা ভেদপ্রাপ্ত ব্যক্তি হইতে প্রাণবধ ; ভল্লুক, অজগর, মাতঙ্গ, সিংহ, ব্যাঘ্র প্রভৃতি হইতে ভয়; দাবানলের ধূমে আচ্ছন্ন হওয়া এবং দিক্-ভ্রান্ত হইয়া বিপথে ভ্রমণ—এইগুলি রাজাদিগের মৃগয়া-ব্যসন বলিয়া কথিত ॥ ২০—২৫॥ জিতশ্রমত্ব, ব্যায়াম, আম মেদ ও কফের ক্ষয়, চলন্ত ও স্থির লক্ষ্যে বাণ অব্যর্থ হওয়া—এইগুলি মৃগয়ার গুণ, ইহা অপর পণ্ডিতেরা বলেন। কিন্তু ইহা স্বীকার করা যায় না। ইহার যে দোষ তাহা প্রায়ই প্রাণহানিকর, অতএব ইহা ত্যাগ করিবে ( পাঠান্তরে—ইহা অত্যন্ত ব্যসন ) ॥২৬—২৭॥ [ মৃগয়ায় ] দিবারাত্র আয়ুধ ও বাহন চালনায় আমাদি জীর্ণ হয়। চলন্ত বস্তুতে যন্ত্রের ( বন্দুক প্রভৃতির ) লক্ষ্যসিদ্ধি ও বাণের লক্ষ্যসিদ্ধি হয় ॥২৮॥ যদি মৃগয়াক্রীড়া বাঞ্ছিত হয়, তাহা হইলে মৃগয়ার জন্য নগরের নিকটে মনোহর মৃগয়ার অরণ্য প্রস্তুত করিবে ॥২৯॥ ঐ নিৰ্ম্মিত অরণ্য পরিখা- বেষ্টিত হইবে; ঐ পরিখা মনুষ্যের অগম্য কিন্তু মৃগের গম্য হইবে; (পাঠান্তরে—মৃগদিগেরও অগম্য হইবে) ; ঐ বনের আয়াম (অর্থাৎ দৈর্ঘ্য ) ও পরিণাহ (অর্থাৎ বিস্তার) অর্দ্ধ যোজন অর্থাৎ দুই ক্রোশ পরিমাণ হইবে; আর ঐ বন পর্ব্বতের উপান্তে অর্থাৎ পাদদেশে অথবা নদীর ধারে হইবে; ঐ বনের মধ্যে যথেষ্ট জল ও শাদ্বল (কচি ঘাসে আচ্ছন্ন ভূমি) থাকিবে; ঐ বনে কণ্টক-বিহীন-লতা ও গুল্ম থাকিবে; ঐ বন বিষাক্ত-বৃক্ষ বর্জ্জিত হইবে, মনোহর ফল পুষ্পে সুশোভিত ও পরিচিত বৃক্ষরাজি বিরাজিত হইবে, বিরলভাবে সন্নিবেশিত স্নিগ্ধ-নীল-নিবিড়-ছায়াযুক্ত বৃক্ষে সুশোভিত হইবে এবং ভূমির ও পাহাড়ের গর্ত্ত সকল ধূলি দ্বারা পরিপূর্ণ করিয়া রাখিতে হইবে; ঐ বনমধ্যস্থ স্থাণু বল্মীক ও প্রস্তর তুলিয়া ফেলিয়া বনটীকে সমতল-ভূমি করিতে হইবে; ঐ বনে কুম্ভীরাদি জলজন্তু পরিশূন্য অগভীর জলাশয় থাকিবে, উহা নানাবিধ জলজ পুষ্প ও নানাবিধ পক্ষিগণে সমাকীর্ণ থাকিবে; ঐ বন অনায়াস-বধ্য মৃগে পরিপূর্ণ (পাঠান্তরে—মৃগদলে
১০৪ কামন্দকীয় নীতিসার। পরিপূর্ণ) থাকিবে; উহাতে সবৎসা-হস্তিনী, নখদাঁত ভাঙ্গা ব্যাঘ্রাদি-হিংস্রজন্তু, শৃং ও দাঁতভাঙ্গা হস্তী শূকর হরিণী প্রভৃতি থাকিবে; আর উহার পরিখার তটে সুখসেব্য-লতা ও পুষ্পযুক্ত-লতা এবং ছোট ছোট কুঞ্জবন স্থাপিত হইবে, পরিখার বাহিরে এক ক্রোশ জুড়িয়া বৃক্ষ ও স্তম্ভ শূন্য ফাঁকা মাঠ থাকিবে; ঐ বন প্রীতিবর্দ্ধনকারী হইয়া শত্রুসৈন্যের অগম্য হইবে। ভূপতিগণের মঙ্গলের জন্য বনচর জন্তুর অভিপ্রায়জ্ঞ ক্লেশ-আয়াস-সহিষ্ণু দৃঢ়কায় বিশ্বস্ত রক্ষিগণ কর্তৃক ঐ বন রক্ষিত হইবে ॥৩০—৩৮॥ মৃগয়াকুশল শ্রম-সহিষ্ণু রাজার বিশ্বস্ত ব্যক্তি রাজার মৃগয়াখেলার জন্য এই বনে নানাবিধ পশু ছাড়িয়া দিবে ॥৩৯॥ চংক্রমণক্ষম (অর্থাৎ পুনঃ পুনঃ বক্র ভ্রমণপটু) রাজা কার্য্যান্তরের ক্ষতি না করিয়া প্রাতঃকালে অল্পসংখ্যক বিশ্বস্ত সহচরের সহিত মৃগয়াক্রীড়ার জন্য ঐ বনে প্রবেশ করিবেন ॥৪০॥ রাজা মৃগয়ার জন্য বনে প্রবেশ করিলে ঐ বনের বাহিরে দূর হইতে দেখা যায় এইরূপ স্থানে সুসজ্জিত সৈন্যগণ সতর্কে অবস্থান করিবে ॥৪১॥ পণ্ডিতেরা মৃগয়া-গমনে যে গুণ বলিয়াছেন নরপতি মৃগয়া-ক্রীড়ায় প্রীতিযুক্ত হইয়া কথিতরূপ মৃগয়ায় ঐ গুণ পাইয়া থাকেন ॥৪২॥ মৃগয়া-ক্রীড়ার এই উৎকৃষ্ট বিধি নির্দ্দিষ্ট করা হইল; রাজা ইহার অন্যথাচরণ করিয়া ব্যাধের ন্যায় মৃগয়ায় গমন করিবেন না ॥৪৩॥ বহু অর্থ থাকিলেও উহা ক্ষণমধ্যেই নষ্ট হয়, [পণের] কোন পরিমাণ জ্ঞান থাকে না, (পাঠান্তরে—সযত্নে রক্ষিত ধনও হঠাৎ অপরিমিতভাবে বিনষ্ট হয়), নিঃসত্যতা, নিষ্ঠুরতা, ক্রোধ, কথা কাটাকাটি এবং কাটাকাটিও হয়। লোভ, ধর্ম্মক্রিয়া-লোপ, কাজ-কর্ম্ম-পরিত্যাগ, সাধু-সঙ্গ-পরিত্যাগ, এবং অসৎসঙ্গ গ্রহণ; অর্থনাশক্রিয়াবত্ত্ব (আত্মহারা হইয়া অর্থনাশ; টীকাকার মতে—দ্যূতক্রীড়ার ব্যয়ের জন্য গচ্ছিত-অর্থেরও বিনাশ), সর্ব্বদা অবিচ্ছেদে বৈরভাবের উপক্রম, অর্থ থাকিতে নিরাশতা, অর্থ না থাকিলেও আশার সঞ্চার; ক্ষণে ক্ষণে ক্রোধ, ক্ষণে ক্ষণে হর্ষ, ক্ষণে ক্ষণে সন্তাপ, ক্ষণে ক্ষণে
১৫শ সর্গ ] সপ্তব্যসন-বর্গ। ১০৫ संक्लेश ( हाजत ), क्षणे क्षणे साक्षीमाना, स्नानादि गात्रसंस्कार ओ भोगविलासेओ अनादर, व्यायाम-परित्याग, अङ्ग-दौर्बल्य, शास्त्रवाक्ये उपेक्षा, मलमूत्रेर् वेगधारण, क्षुधा पिपासार पीड़ा सह्य करा—एइ गुलि नीतिशास्त्र-कुशल पण्डितगण द्यूतक्रीड़ार दोष बलिया उल्लेख करियाछेन ॥४४–४९॥ द्वितीय लोकपालेर् तुल्य पाण्डुवंशीय-धर्मराज युधिष्ठिर कपटद्यूतक्रीड़ा करिया भार्य्या पर्य्यन्त हारियाछिलेन। राजा नल द्यूतक्रीड़ाय् सुबृहत् राज्य हाराइया वनमध्ये धर्मपत्नी दमयन्तीके त्याग करिया परेर् ( ऋतुपर्ण राजार् ) चाकुरी करियाछिलेन ( सारथि हइयाछिलेन )। पृथिवीते इन्द्रतुल्य ओ अद्वितीय धनुर्द्धर स्वर्णकान्ति सेइ प्रसिद्ध रुक्मी द्यूत-व्यसने क्षय-प्राप्त हइयाछिलेन॥ द्यूतक्रीड़ार भयावह दोषे हतबुद्धि काशी ओ करुषदेशाधिपति दन्तवक्त्रेर्ओ दाँत भाङ्गिया गियाछिल॥ द्यूतक्रीड़ाय् निरर्थक क्रोध जन्मे, अत्यन्त स्नेहेर्ओ क्षय हइया याय् एवं एकान्त अनुरक्त स्वपक्ष लोकेर् मध्येओ भेद घटिया याय्। ( पाठान्तरे— हितकारी पक्षेर्ओ भेद घटिया याय् )॥ अतएव राजा केवलमात्र दोषेर् आकर एइ द्यूतक्रीड़ा त्याग करिबेन। आर मेधावी राजा दर्पान्वित- व्यक्तिर् ये द्यूतक्रीड़ार आह्वान ताहाओ निवारण करिबेन ॥५०—५१॥ यथाकाले कार्य्य करिते ना पारा; धर्मनाश; अर्थनाश; सर्व्वदा अन्तःपुरे थाकार जन्य अनुगत प्रकृतिर् कोप; स्त्रीके विश्वास कराय् रहस्यभेद; स्त्रीर् पक्ष हइया अकार्य्य प्रवृत्ति; [ स्त्रीहेतु ] ईर्ष्या, विद्वेष, क्रोध, निरोध ( जेल देओया) ( पाठान्तरे—अनुरोध रक्षा करा) एवं साहस—एइगुलि स्त्री-जनित व्यसन। आर पूर्व्वकथित द्यूतव्यसनान्तर्गत व्यसनगुलिओ इहार सङ्गे धरिते हइबे। अतएव राज्यरक्षाभिलाषी राजा एइ स्त्री-व्यसन त्याग करिबेन ॥५५-५८॥ स्त्रीमुख-दर्शने चञ्चलचित्त मूढ़ व्यक्तिगणेर् इष्ट-विषय-समुदय यौवनेर् सहित विनष्ट हय् ॥५९॥ वमन, विह्वलता, संज्ञानाश, विवस्त्रता, असम्बद्ध प्रलाप, हठात् विपदेर्
১০৬ কামন্দকীয় নীতিসার। উপস্থিতি, প্রাণহানি (মদ্যপানে অসচ্ছন্দতা বা জীবনীশক্তির হ্রাস), বন্ধবিচ্ছেদ, প্রজ্ঞাবিভ্রম (বিবেচনা শক্তির নাশ), শ্রুতবিভ্রম (পঠিতশাস্ত্রে ভ্রম), মতিভ্রম, সৎসঙ্গ-ত্যাগ, অসৎ সঙ্গলাভ, অনর্থ সংঘটন, স্খলন (পথে মাতাল হইয়া পড়িয়া থাকা), কম্প, তন্দ্রা (অকাল নিদ্রা), অত্যন্ত স্ত্রী-সঙ্গম—এইগুলি পানব্যসন; ইহা সজ্জন কর্তৃক অত্যন্ত নিন্দিত ॥৬০-৬২॥ শাস্ত্রাজ্ঞানসম্পন্ন সচ্চরিত্র পরাক্রমী অন্ধক ও বৃষ্ণি বংশীয় যাদবগণ অশেষকীর্ত্তিশালী হইয়াও অতিশয় পানদোষে ধ্বংস হইয়াছে ॥৬৩॥ ভৃগুর ন্যায় মেধাসম্পন্ন যোগীশ্বর ভগবান্ ভার্গব শুক্রাচার্য্য পান হেতু অত্যন্ত মত্ত হইয়া নিজ শিষ্য কচকে ভক্ষণ করিয়াছিলেন ॥৬৪॥ পানোন্মত্ত ব্যক্তি যে যে স্থানে কার্য্যে নিযুক্ত হয় সেই সেই স্থানেই কার্য্য নিয়মিতভাবে করিতে না পারায় অব্যবহার্য্য হইয়া পড়ে ॥৬৫॥ বিদ্বান্ ব্যক্তি স্ত্রী-সম্ভোগ বা মদ্যপান পরিমিত মাত্রায় করিতে পারেন কিন্তু দ্যূত ও মৃগয়া কদাচ করিবেন না, যেহেতু এই দুইটি অত্যন্ত ব্যসন ॥৬৬॥ ব্যসন সমুদায়ের নিরাকরণ-সমর্থ পণ্ডিতগণ সাত প্রকার ব্যসন নির্দিষ্ট করিয়াছেন; তন্মধ্যে পূর্ব্বোক্ত গুলি অত্যন্ত ব্যসন এবং উন্নতির বিঘ্নকারী। এই ব্যসনগুলির একটির সংসর্গে আসিলেই শীঘ্র বিনাশ-প্রাপ্ত হয় (পাঠান্তরে—স্বভাবতঃ একটি ব্যসনই বিনাশ-সাধন করে); আর যখন সমুদয় ব্যসনগুলির একসঙ্গে সেবা হয়, তখন কি ইহারা বিনাশ সাধন করিবে না? ॥৬৭॥ এই দুরন্ত সাত প্রকার ব্যসন বুদ্ধিমান্ ব্যক্তিদিগেরও ইন্দ্রিয়গণকে ভোগ লালসায় পটুত্বর করিয়া তুলে, শাস্ত্রজ্ঞানের বিনাশ করে, শ্রেষ্ঠতা নষ্ট করে, নেতৃত্ব-হরণ করে এবং অতুল ঐশ্বর্য্যকেও অতিশীঘ্র চঞ্চল করিয়া দেয় ॥৬৮॥ শত্রুগণ ব্যসনাসক্ত নরপতিগণকে পরাভূত করে এবং তাহারা অজেয় হয়। কিন্তু ব্যসন-বিহীন নীতিজ্ঞ ভূপতিগণ রিপুদিগকে পরাজিত করেন এবং স্বয়ং অজেয় হইয়া থাকেন ॥৬৯॥ ইতি কামন্দকীয় নীতিসারে রাজার উপদেশপ্রদ সপ্ত-ব্যসন নামক পঞ্চদশ-সর্গ।
ষোড়শ-সর্গ। * যাত্রা ও অভিযোগ প্রদর্শন। [৩৪টি শ্লোকে যাত্রার বিষয় দেখাইতেছেন।] নানা প্রকার ব্যসন হইতে মুক্ত হইয়া মন্ত্র প্রভাব ও উৎসাহ এই তিন তপ্রতিম-শক্তি-সংযুক্ত হইয়া বিজয়াকাঙ্ক্ষী নরপতি দুরন্তব্যসনযুক্ত শত্রুর প্রতি অভিযান করিবেন॥১॥ শত্রাদিগের ব্যসনকালে তাহাদিগের বিরুদ্ধে অভিযান করিবেন, আচার্য্যগণ এইরূপ উপদেশ প্রায় দিয়া থাকেন। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মত হইতেছে যে ব্যসন কদাচিৎ উপস্থিত হয়, অতএব নিজের অভ্যুদয়কালে ক্ষমবান্ হইয়া অভিযান করিবে॥২॥ যখন বলবত্তর শত্রুকে সবলে পরাক্রমপূর্ব্বক বধ করিতে সমর্থ তখন, অথবা যখন শত্রুর কর্ষণ পীড়ন ও অহিতাচরণ করিতে হইবে তখন, অভিযান করিবে॥৩॥ রাজা বিজয়-লাভের নিমিত্ত শত্রুর শস্য-সম্পন্ন-ক্ষেত্র বিনষ্ট করিয়া অভিযান করিবেন। শস্যধ্বংসে শত্রুর বৃত্তিচ্ছেদ হয় এবং নিজ সৈন্যের উত্তম উপচয় হয়॥৪॥ বিশুদ্ধপৃষ্ঠ হইয়া সম্মুখের ভয়স্থান সকল বিবেচনা করিয়া শত্রুর চেষ্টা অবগত হইয়া আপনার বীবধ ও আসারের পথ বিশুদ্ধ জানিয়া (পাঠান্তরে—শত্রুর দেশেও বীবধ আসারের পথ পরিষ্কার জানিয়া) অপ্রমত্ত- ভাবে শত্রুর দেশে প্রবেশ করিবেন॥ ৫॥ নীতিবিশারদ রাজা সুসজ্জিত সৈন্য সমভিব্যাহারে সৈন্যদলের অন্নজল-সংস্থান রাখিয়া শত্রুসৈন্যের আক্রমণে ব্যাকুল না হইয়া নির্ভীকভাবে সমতল বিষম বা নিম্নভূমিতে সৈন্যচালনের সুগম পথ দিয়া যাত্রা করিবেন॥ ৬॥ হস্তীদিগের তাপ নিবারণের জন্য গ্রীষ্মকালে প্রচুর জল ও বনযুক্ত পথ ধরিয়া যাইবেন; যেহেতু জল ব্যতিরেকে গ্রীষ্মের তাপে হস্তীদিগের কুষ্ঠরোগ জন্মে॥ ৭॥ হস্তীসকল পরিশ্রম না করিয়া সুস্থ ভাবে থাকিলেও গ্রীষ্মে তাহাদিগের শরীরে জ্বালা উপস্থিত
- কলিকাতা সংস্করণে ইহা পঞ্চদশ-সর্গ।
১০৮ কামন্দকীয় নীতিসার।
হয়, পরিশ্রম করিলে গ্রীষ্ম-বৃদ্ধি হইয়া হস্তারা মারা যায়॥ ৮॥ গ্রীষ্মকালে সকল প্রাণীই জল না পাইলে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। হস্তী সকল গ্রীষ্মে অত্যন্ত প্রতপ্ত হইয়া জলপান করিতে না পাইয়া সদ্যই শেষ অবস্থা পাইয়া থাকে॥ ৯॥ যে সকল হস্তী সুগন্ধি দান-বারিকণা ক্ষরণ করে, যে সকল হস্তীর দন্তাঘাতে পাষাণ বিদীর্ণ হয় এবং যে সকল হস্তী কাল মেঘের ন্যায় দীপ্তিশালী, সেই সকল হস্তীদিগের উপর নরপতিদিগের রাজ্যস্থিতি নির্ভর করে॥ ১০॥ যে হস্তী যুদ্ধ সজ্জায় সজ্জিত, যে হস্তী যুদ্ধ-কৌশলে সুশিক্ষিত এবং অতি ধীরতর পুরুষ দ্বারা পরিচালিত এইরূপ একটিমাত্র হস্তী ছয় হাজার সুসজ্জিত অশ্বকে বধ করিতে পারে॥ ১১॥ জলে স্থলে বৃক্ষ- সঙ্কটে সমতল প্রদেশে অসমতল প্রদেশে স্থাবরে অস্থাবরে প্রাচীর অট্টালিকা প্রাসাদেপরি গৃহের (পাঠান্তরে—পর্ব্বতের) বিদারণ-কার্য্যে হস্তী-সৈন্যে জয় অবশ্যম্ভাবী॥ ১২॥ অতএব [রাজা] যে পথে যথেষ্ট জল আছে, প্রচুর অন্ন- জল পাওয়া যায় এবং যে পথে কোন আশঙ্কা নাই, সেই পথ দিয়া প্রতাপ উৎপাদন করিয়া (শত্রুর দেশ নষ্ট করিতে করিতে) ও সৈন্যগণকে বিশ্রাম করাইতে করাইতে ধীরে ধীরে অভিযান করিবেন॥ ১৩॥ শত্রুদিগের মধ্যে অতিক্ষুদ্র শত্রুও বিজীগীষুদিগের প্রবল পশ্চাৎ কোপ উৎপাদন করে। বিজীগীষু অপ্রমত্তভাবে ঐ প্রকোপ পর্য্যালোচনা করিয়া অভিযান করিবে। কিন্তু অদৃষ্ট বিষয়ের জন্য দৃষ্ট বিষয় পরিত্যাগ করিবে না ॥ ১৪॥ পশ্চাৎ-প্রকোপ (অর্থাৎ গৃহচ্ছিদ্র) এবং সম্মুখের লাভ, এই দুইটির মধ্যে পশ্চাৎ-প্রকোপই গুরুতর, কারণ শত্রুরা ছিদ্রকে বড় করিয়া তোলে; অতএব পশ্চাৎ-প্রকোপ শান্ত করিয়া অভিযান করিবে॥ ১৫॥ সম্মুখের লাভ ও পশ্চাৎ-প্রকোপ প্রশমন, এই দুই কার্য্য একসঙ্গে নির্ব্বাহ করিতে সমর্থ হইলে বিশেষ ফল লাভের জন্য অভিযান করিবে। সম্মুখে অগ্রসর হইবার কালে পৃষ্ঠ-প্রদেশ অবিশুদ্ধ থাকিলে নিশ্চয়ই পার্শ্বভেদ তীব্রভাবে ঘটিয়া থাকে॥ ১৬॥ সম্মুখে অগ্রসর হইবার সময় [পৃষ্ঠ-
১৬শ সর্গ ] যাত্রা ও অভিযোগ প্রদর্শন। ১০৯ পোষণের জন্য ] বহু সৈন্যদল রাখিবে এবং প্রত্যেক সৈন্যদলে এক- একজন মুখ্য (সেনাপতি) থাকিবে। একদলে অনেক সেনাপতি থাকিলে সেখানে একতা থাকে না, কিন্তু প্রত্যেক দলে এক একজন সেনাপতি- থাকিলে উহারা শত্রুদিগের অভেদ্য হইয়া থাকে ॥ ১৭ ॥ অবশ্যই অভিযান করিতে হইবে বলিয়া উদ্যত হইয়া পশ্চাৎ-প্রকোপ দেখিয়া অভিযানে সন্দেহ উপস্থিত হইলে সেনাপতি কিংবা যুবরাজকে পার্শ্বরক্ষক সৈন্যদলের সম্মুখে রাখিবে অর্থাৎ মধ্যস্থিত-প্রধান-সৈন্যদলের সাহায্যকারী পার্শ্বস্থ-সৈন্যদলের নেতা করিবে এবং বুঝিতে হইবে যে রাজা স্বয়ং ঐ সৈন্যদিগের পশ্চাৎ-ভাগ রক্ষা করিবেন ॥ ১৮ ॥ আভ্যন্তরিক কোপ ও বাহ্যিক কোপ, এই উভয়ের মধ্যে আভ্যন্তরিক কোপই গুরুতর। অন্তরে কুপিত ব্যক্তিদিগকে সঙ্গে লইয়া (টীকাকার মতে—সামাদিপ্রয়োগে বশীভূত করিয়া) অভিযান করিবে এবং বাহ্য কুপিত- ব্যক্তিদিগকে কোপ-শূন্য করিয়া অভিযান করিবে ॥ ১৯ ॥ পুরোহিত, অমাত্য, যুবরাজ ও সেনাপতি ইহারাই প্রধান; ইহাদিগের অন্যতমের যে কোপ, তাহাকেই নীতিজ্ঞগণ অন্তঃপ্রকোপ বলিয়া উপদেশ দেন ॥ ২০ ॥ রাষ্ট্রপাল, অন্তপাল, আটবিক, আনত (দণ্ডবিধান কর্তা) ইহাদিগের অন্যতমের যে কোপ তাহাই বাহ্যপ্রকোপ। বাহ্য ও অন্তঃপ্রকোপ উপস্থিত হইলে সুনিপুণ সত্রী (পাঠান্তরে—মন্ত্রী) গণ দ্বারা উহার সমাধান করিবে ॥ ২১ ॥ বাহ্যকে বাহ্য-ব্যাপারে ও অভ্যন্তরকে আভ্যন্তরিক-ব্যাপারে তিরস্কার ও ভেদ সাধনরূপ সামাদিনীতি- প্রয়োগ করিয়া উহাদের প্রকোপ প্রশমন করিবে। ধীর ব্যক্তি এরূপভাবে উহাদের কোপ শান্তি করিবেন যে যাহাতে উহারা ক্ষুব্ধ হইয়া শত্রুপক্ষ অবলম্বন না করে ॥ ২২ ॥ অভিযানে মনুষ্যের বাহনের অপচয় ও ক্ষয় হয়, এবং স্বর্ণ ও ধান্যের অপচয় ও ব্যয় হয়, অতএব বুদ্ধিমান্ রাজা ক্ষয়কর ব্যয়কর ও ক্লেশকর অভিযান পরিত্যাগ করিবেন ॥ ২৩ ॥ ব্যয়সাধ্য ও আয়াসসাধ্য
১১০ কামন্দকীয় নীতিসার। হইলেও যাহাতে প্রচুর লাভ অবশ্যম্ভাবী, আর যাহা অল্প-আয়াস সাধ্য এবং পরিণামে শুভাবহ সেইরূপ যুদ্ধযাত্রা করিবে কিন্তু যাহাতে কেবলমাত্র ক্ষয়- দোষই দেখা যায়, সেইরূপ অভিযান পরিত্যাগ করিবে ॥২৪॥ অশক্য-বস্তুতে উদ্যম, শক্য-বস্তুতে অসময়ে উদ্যম এবং শক্য-বস্তুতে মোহবশে উদ্যম না করা—এই তিনটিকে কার্য্যব্যসন কহে ॥২৫॥ কাম, (মৃগয়াদিতে আসক্তি), অক্ষমা (গুণের অনাদর), দাক্ষিণ্য (সরলতা), অনুকম্পা, হ্রী, (লজ্জা), সাধ্বস (সসম্ভ্রম), ক্রুরতা, অনার্য্যতা (অভদ্রতা), দম্ভ, অভিমান, ধার্ম্মিকতা (পাঠান্তরে—অতিধার্ম্মিকতা), দৈন্য (অল্প সন্তুষ্টি), স্বপক্ষের অপমান করা, দ্রোহ (প্রতিকূলাচরণ), ভয়, হস্তগত বস্তুর উপেক্ষা, শীত গ্রীষ্ম ও বর্ষার অসহিষ্ণুতা—এইগুলি কার্য্যকালে উপস্থিত হইলে অবশ্যই কার্য্য-সিদ্ধির বিঘ্ন করে ॥২৬—২৭॥ নিজ (জ্ঞাতি), মৈত্র, আশ্রিত, কুটুম্ব, কার্য্যসমুদ্ভব, (কাজকর্ম্মে বশীভূত), ভৃত্য, নানাবিধ উপচারে বশীভূত, এই সাতটিকে পণ্ডিতগণ পক্ষ বলেন ॥২৮॥ যে ব্যক্তি প্রভুর সর্ব্বদা অনুসরণ কারী, গুণকীর্ত্তনকারী, প্রভুকর্ত্তৃক স্বীয় নিন্দাসহকারী, রন্ধ্র, (প্রভুর দোষ) গোপনকারী, প্রভুর অর্থ-শুচিতা (পাঠান্তরে—শৌর্য্য) এবং উদ্যম কীর্ত্তনকারী, তাহাকেই পক্ষ ও অনুরক্ত বলিয়া জানিতে হইবে ॥২৯॥ কুলীন, আর্য্য, শাস্ত্রজ্ঞ, বিনীত, লোভশূন্য (পাঠান্তরে—মানোন্নত), সত্যবাদী (পাঠান্তরে—সভ্য), অন্যলোক কর্তৃক প্রতারিত হয় না (পাঠান্তরে—অহার্য্যবুদ্ধি অর্থাৎ অপ্রতিহত বুদ্ধি), কৃতজ্ঞ, বলবান্, মতিমান্ ও সত্ত্ববান্ এইরূপ ব্যক্তিকেই সচ্চরিত্র পক্ষ বলিয়া জানিবে ॥৩০॥ উদ্যম, মেধা, ধৃতি, সত্ত্ব, সত্য, ত্যাগ, অনুরাগ, স্থিতি (অচাঞ্চল্য), গৌরব (বিদ্বানের মান্য দেওয়া), জিতেন্দ্রিয়তা, প্রসহিষ্ণুতা (শীত গ্রীষ্মাদি সহ্য করিবার ক্ষমতা), লজ্জা, প্রগল্ভতা —এইগুলি প্রধানতঃ আত্মগুণ (পাঠান্তরে—এইগুলিকে আত্মগুণ বলে) ॥৩১॥ সম্যকরূপে নীতি পরিচালনা করাকেই মন্ত্রশক্তি কহে। কোষ ও দণ্ডকে
১৬শ সর্গ] যাত্রা ও অভিযোগ প্রদর্শন। ১১১ প্রভুশক্তি কহে। প্রবল চেষ্টাকেই উৎসাহ শক্তি কহে। এই তিন শক্তি যুক্ত ব্যক্তিই জেতা ॥৩২॥ ক্ষিপ্রকারিতা, অতিশয় দক্ষতা, ব্যসনে অকাতরতা, ও অতিধীরতা—এইগুলি উৎসাহের সম্পদ। উৎপাদিকী (অর্থাৎ স্বাভাবিকী) (পাঠান্তরে—আত্যন্তিকী অর্থাৎ আজন্মসিদ্ধ একান্ত সম্বন্ধ), শাস্ত্রসমুদ্ভব (অর্থাৎ শাস্ত্রাধ্যয়ন জন্য), সংস্বর্গ জন্য (কাজ করিতে করিতে যে বুদ্ধি জন্মে), পরিণামিনী (অর্থাৎ পরিণামদর্শী। ব্যাখ্যাকার মতে—বিষয়েতে প্রথম বুদ্ধির বিকাশ হয় না কিন্তু শেষে চিন্তাদ্বারা বিকাশ হয়)—এই চারপ্রকার বুদ্ধির অবস্থা। [ইহা মন্ত্রশক্তির কথা] ॥৩৩॥ উৎসাহ, সত্ত্ব (ব্যসনে ও অভ্যুদয়ে অবিকারভাব), অধ্যবসায়, চেষ্টা, ও দৃঢ়তা (স্থিরত্ব)— কার্য্য বিষয়ে এই পাঁচ প্রকার পুরুষকার। [ইহা প্রভুশক্তির কথা—এই পাঁচটি আধিভৌতিক শক্তি]। আরোগতা, কার্য্যের সঙ্গে সঙ্গে ফললাভ ও নিরাধিতা অর্থাৎ প্রিয় বিয়োগাদি জন্য দুঃখ না পাওয়া—এই তিনটি দৈবানুকূল্য। [ইহা আধিদৈবিক শক্তি] ॥৩৪॥ এই পূর্ব্বোক্ত পক্ষাদি যুক্ত হইয়া এবং গৃহীত-কোষ হইয়া পক্ষাদি- বিহীন-রিপুর প্রতি অভিযান করিবে। এইরূপে অভিযানকারী রাজা সর্ব্বদা সমুদ্রপ্রক্ষালিত ধরামণ্ডল লাভ করেন ॥৩৫॥ বর্ষাকাল হস্তীদিগের যুদ্ধযাত্রার উপযুক্ত; আর বর্ষাব্যতিরিক্ত হেমন্ত ও গ্রীষ্ম অশ্বদিগের উপযুক্ত সময়। যে কালে অধিক বর্ষা অধিক উষ্ণতা বা অধিক হিমপাত (শীত) নাই অথচ প্রচুরশস্য থাকে সেইরূপকাল কাল-সম্পৎ অর্থাৎ যে কালে শীত উষ্ণ বর্ষার সমতা থাকে আর খাদ্যাদি বেশ পাওয়া যায়, সেই কালই যুদ্ধযাত্রায় প্রশস্ত ॥৩৬॥ রাত্রিকালে পেঁচক কাককে বধ করে এবং রাত্রি চলিয়াগেলে কাকও পেঁচাকে মারিয়া ফেলে, অতএব কাল বিবেচনা করিয়া রাজা যুদ্ধযাত্রা করিবেন, যেহেতু অভীষ্টলাভ যথাকালেই হইয়া থাকে ॥৩৭॥ কুকুর ডাঙ্গায় কুম্ভীরকে আক্রমণ করে এবং কুম্ভীরও কুকুরকে জলে পাইলে আক্রমণ করে; অতএব উদ্যোগী নরপতি স্বস্থানে অবস্থিত হইলে
১১২ কামন্দকীয় নীতিসার। নিশ্চয়ই কর্ম্মের ফল ভোগ করিতে সমর্থ হন ॥৩৮॥ সমতল ভূমিতে অশ্ব- সৈন্যদ্বারা, বিষম অর্থাৎ নিম্নোন্নত প্রদেশে হস্তি-সৈন্যদ্বারা, জলাকীর্ণ প্রদেশে নৌসৈন্যদ্বারা এবং জল ও পর্ব্বতাদিযুক্ত মিশ্রপ্রদেশে হস্তী অশ্ব ও নৌ- মিশ্রিত-সৈন্য সমভিব্যাহারে অভিযান করিবেন; অর্থাৎ যেমন দেশ কাল দেখিবেন তদনুরূপ সৈন্য লইয়া যাত্রা করিবেন ॥৩৯॥ [ রাজা ] বর্ষাকালে মরুভূমিতে, গ্রীষ্মকালে জলদুর্গযুক্ত জলাকীর্ণপ্রদেশে এবং মিশ্রপ্রদেশে যখন স্বচ্ছন্দে যাওয়া যায় সেইরূপ সময়ে বিজয়লাভের জন্য শত্রুর দেশে যুদ্ধ যাত্রা করিবেন ॥৪০॥ অত্যন্ত জল বহুল পথদি বা অত্যন্ত জলশূন্য পথ ধরিয়া যাইবে না, কিন্তু যে পথে হস্তী ও অশ্বাদির খাদ্য ও কাষ্ঠ পাওয়া যায় সেই পথ ধরিয়া বহুতর নীতিজ্ঞ-ব্যক্তিকে সঙ্গে লইয়া সুখ স্বচ্ছন্দে রিপুর প্রতি অভিযান করিবেন ॥৪১॥ শত্রুর দেশে যে পর্য্যন্ত নিজের বীবধ ও আসার অক্ষুণ্ণ থাকে, জল পাওয়া যায় এবং যেখানে আক্রান্ত লোকেরা বিশ্বাসীর ন্যায় আচরণ করে, সেই বিশুদ্ধ-দেশ পর্যন্তই শত্রুর দেশে যাইবেন, কিন্তু যেখান হইতে পীড়া আরম্ভ হয় অর্থাৎ বীবধ আসার প্রভৃতির অভাব ঘটে, :সেইস্থান হইতে আর অগ্রসর হইবেন না ॥৪২॥ যে মূঢ় অর্থাৎ অনীতিজ্ঞ রাজারা শত্রুর দেশের অবস্থা পর্যালোচনা না করিয়া সহসা দূরপ্রদেশে অভিযান করেন তাঁহারা শত্রুর অযত্নসাধ্য খড়্গের আলিঙ্গন শীঘ্রই প্রাপ্ত হন ॥৪৩॥ [ অতঃপর ১৬টি শ্লোকে বিজিগীষুর স্বকীয় চেষ্টা দেখাইতেছেন ] অভিযানের পথে স্কন্ধাবার সংনিবেশে নিপুণ রাজা দুর্গে স্কন্ধাবার স্থাপন করিয়া যথাবিধি বাহ্যাভ্যন্তরের রক্ষা বিধান করিয়া সুসজ্জিত যোদ্ধাগণকে পার্শ্বে রাখিয়া রাত্রিকালে উপযুক্ত ভাবে যোগ-নিদ্রায় (মায়া নিদ্রায় অর্থাৎ সামান্য শব্দ মাত্রেই নিদ্রা ভঙ্গ হয় এইরূপ ভাবে) নিদ্রিত হইবেন ॥ ৪৪ ॥ যে রাজা প্রহরীর কার্য্যে নিযুক্ত তুরঙ্গের হ্রেষারব এবং গজেন্দ্রগণের গললগ্ন ঘণ্টারব শুনিতেছেন, তিনি মধ্যে মধ্যে জাগিয়া উঠিয়া
১৬শ সর্গ ] যাত্রা ও অভিযোগ প্রদর্শন। ১১৩ সাবধানে কে পাহারা দিতেছে তাহা আগ্রহের সহিত সন্ধান করিবেন ॥৪৫॥ অনন্তর [ রাজা ] জাগরিত হইয়া প্রাতঃকৃত্যাদি সমাপনান্তে দেবপূজা করিবেন, তারপর সুন্দর বেশ ভূষায় সুসজ্জিত হইয়া হৃষ্টচিত্ত হইবেন, তখন প্রধান মন্ত্রীগণ পুরোহিত অমাত্য ও সুহৃদ্গণ তাঁহাকে যথাবিধি সেবা করিবেন ॥ ৪৬ ॥ তখন রাজা তাহাদিগের সহিত কর্ত্তব্য কাৰ্য্য বিচার করিয়া সুন্দর যানে আরোহণ করিয়া সৎকুলজাত-আত্মতুল্য বিশ্বাসী শস্ত্রধারী সৈন্যগণে পরিবেষ্টিত হইয়া বাহির হইবেন ॥ ৪৭ ॥ রাজা পূর্ব্বাহ্ণে এবং অপরাহ্ণে হস্তী রথ ও অশ্বের গতি এবং সৈন্যগণকে দলবদ্ধ ভাবে ও পৃথক্ভাবে দেখিবেন ; আর বিবক্ষিতগণকে ( উপদেশার্হ-সেনাপতিগণকে ) * সুসজ্জিত গজেন্দ্র ও তুরঙ্গম গুলিকেও দেখিবেন ॥ ৪৮ ॥ তিনি সকলেরই সহজগম্য হইবেন, ঈষৎ হাস্য সহকারে কথা বলিবেন, প্রিয়বাক্য বলিবেন, মাহিনা বৃদ্ধি করিয়া দিবেন। প্রিয়বাক্য ও দান দ্বারা বাধ্য লোকেরা প্রভুর জন্য প্রাণত্যাগ করিয়া থাকে ॥ ৪৯ ॥ রথ-অশ্ব-নৌকা-হস্তী-পরিচালনে সুদক্ষ হইয়াও এবং ধনুর্ব্বিদ্যায় পারদর্শী হইয়াও প্রত্যহ এইগুলির অভ্যাস রাখিবেন। দুষ্কর কর্ম্মগুলিতেও নিত্য অভ্যাস, বুদ্ধিমান্ ব্যক্তিদিগের নৈপুণ্য জন্মাইয়া দেয় ॥ ৫০ ॥ রাজা সামন্তরাজার দূতের সহিত নিপুণভাবে মন্ত্রণা করিয়া সুসজ্জিত প্রকাণ্ড হস্তীতে আরোহণ পূর্ব্বক সুসজ্জিত সৈন্যগণ সমভিব্যাহারে প্রধান বীরগণে পরিবৃত হইয়া যাত্রা করিবেন ॥৫১॥ রাজা বুদ্ধিমান্ দূতগণ ও চরগণের সাহায্যে শত্রুদিগের প্রচার অবগত হইবেন। যে রাজা এইগুলি হইতে বিমুক্ত হন তিনি অন্ধ ॥ ৫২ ॥ শত্রুর অন্তপালকে রাজা লোভ দেখাইয়া ও কিঞ্চিৎ দিয়া মিত্র করিয়া লইবেন। রাষ্ট্র মধ্যে বিক্রেয়-দ্রব্য লইয়া যাহারা বার বার শত্রুতা করে, তাহাদিগের নিকট হইতে যে দ্রব্যের কাটূতি অতিশয়, সেই পণ্য দ্রব্যের শুল্ক গ্রহণ করিবেন ॥৫৩॥ [ বিজীগীষু ] দূত-প্রেরণ করিয়া যে সন্ধি করিতেছেন তাহাতে অভিলষিত টীকাকার মতে = বিবক্ষিত বলিতে শৌর্য্যাদি গুণযুক্ত।
১১৪ কামন্দকীয় নীতিসার। প্রকৃতি-ভেদ প্রভৃতি কার্য্য শীঘ্র শীঘ্র করিয়া ফেলিবেন; যদি সন্ধি না হয় তাহা হইলে [ প্রকৃতি ভেদ হওয়ায় ] শত্রু একা হইয়া পড়িবে এবং বিজিগীষুর আত্মপক্ষের উন্নতি হইবে ॥ ৫৪ ॥ অভিযানের পথে রাজা শত্রুর দুর্গপালগণ আটবিকগণ ও অন্তপালগণকে সাম দানে বশীভূত করিবেন; তাহা হইলে বিরুদ্ধদেশে [ সঙ্কটাপন্ন প্রদেশে ] অবরোধ ঘটিলে তাহারা রাজাকে নির্গমের পথ দেখাইয়া দিয়া থাকে ॥ ৫৫ ॥ কোন কারণে (নিজের দোষে) বা অকারণে (স্বামীর দোষে) শত্রু-পক্ষীয় কোন ব্যক্তি যদি স্বপক্ষে আসে অথবা নিজ পক্ষীয় কোন ব্যক্তি শত্রুপক্ষ অবলম্বন করিয়া ঐ শত্রু-পক্ষকে ত্যাগ করিয়া পুনরায় স্বপক্ষে আসে, রাজা তাহাদের গতি বিশেষরূপে অবগত হইবেন ॥ ৫৬ ॥ মন্ত্র ও সৈন্যবলে বলীয়ান্ হইয়া শত্রুজয়াভিলাষী নরপতি প্রথমেই নিপুণভাবে কর্ত্তব্যের বিচার করিবেন, যেহেতু বাহুবল অপেক্ষায় মন্ত্রবলই গুরুতর। দেখা যায়, ইন্দ্র মন্ত্রণা বলেই অসুরদিগকে জয় করিয়াছিলেন ॥ ৫৭ ॥ [ রাজা ] উদ্যম সহকারে নির্ম্মল বুদ্ধিতে বিবেচনা করিয়া যে কার্য্য করেন তাহা উৎকৃষ্ট ফল প্রদান করে। নীতিজ্ঞ ব্যক্তি যথাকালেই কার্য্য করিবেন, অকালে আরম্ভ করিলে কার্য্য ফলপ্রদ হয় না ॥ ৫৮ ॥ প্রভাবসম্পন্ন, শ্রুতসম্পন্ন, শৌর্য্যশালী, উপযুক্ত ভাবে বিচারপূর্ব্বক-কার্য্যকারী, উচ্চচেতা পুরুষগণের ভুজঙ্গদীর্ঘ-বাহুদণ্ডে অসাধারণ দীপ্তি চিরকাল বিরাজমান্ থাকে ॥ ৫৯ ॥ সৈন্যসমৃদ্ধিশালী নরপতি প্রচুরশস্যসম্পন্নকালে অর্থাৎ অগ্রহায়ণমাসে, অথবা জল কাদা বিহীনসময়ে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ মাসে, কিংবা মুকুলিত-আম্রবৃক্ষের শোভায় যখন বন সকল সমুজ্জ্বল হইয়া উঠে সেই সময় অর্থাৎ বসন্তকালে উদ্ভূতশক্তি হইয়া অর্থাৎ সৈন্য-সামর্থ্য প্রকাশ করিয়া জয়লাভের জন্য শত্রুরাজ্যে নির্ব্বিঘ্নে গমন করিবেন ॥ ৬০ ॥ এই পূর্ব্ব কথিত রীতি অনুসারে উদ্যোগসম্পন্ন- নরপতি শত্রুকে আক্রমণ করিবার ইচ্ছায় অভিযান করিবেন। এইরূপে নীতিশাস্ত্রানুসারে বিষয়ের সেবা করিলে নিয়তই শত্রুবর্গ বশবর্ত্তী হইয়া
४. युद्ध-नीति, सेना-व्यूह, बल-साधन व उपसंहार (सर्ग १३-२०)
১৭শ সর্গ ] স্কন্ধাবারনিবেশ। ১১৫ থাকে॥ ৬১॥ ইতি কামন্দকীয়-নীতিসারে যাত্রা ও অভিযোক্তা প্রদর্শন- নামক ষোড়শসর্গ॥ — সপ্তদশ-সর্গ * স্কন্ধাবারনিবেশ। শত্রুপুরের নিকটে যাইয়া উপযুক্ত ভূমিতে স্কন্ধাবার ( শিবির ) সন্নিবেশে সুনিপুণব্যক্তি স্কন্ধাবার স্থাপন করিবেন ॥ ১॥ ভূমির আকার অনুসারে অর্দ্ধচন্দ্রাকার অথবা গোলাকার অথবা লম্বা আগার অর্থাৎ স্কন্ধাবার নির্মাণ করিবে। উহা চতুষ্কোণ ও চারিটি দ্বার যুক্ত হইবে; অত্যন্ত বিস্তৃত বা সঙ্কীর্ণ হইবে না—অট্ট ( গৃহ )-প্রতোলী ( বড় রাস্তা )-প্রাকার ( প্রাচীর ) যুক্ত এবং বিস্তৃত খাতবেষ্টিত হইবে; আর উহার চারিদিকে রাস্তা থাকিবে ॥ ২-৩॥ স্কন্ধাবারের মধ্যে রাজমন্দির ( রাজার থাকিবার স্থান ) করিতে হইবে, উহা নির্জ্জন স্থানে হইবে এবং উহার সহিত অন্য ঘরের চারি হাত ব্যবধান থাকিবে; গৃহের বারাণ্ডা বিস্তৃত হইবে, গৃহটি গুপ্ত ভাবাপন্ন হইবে, গৃহটি কক্ষপুটাকার ( নবকোষ্ঠযুক্ত ) হইবে ( পাঠান্তরে গৃহটি উচ্চচূড়াযুক্ত হইবে ), ঐ গৃহের চারিদিকে সুপ্রশস্তপথ থাকিবে এবং গৃহটি অত্যন্ত মনোরম হইবে, উহা অত্যন্ত বিশ্বস্ত-সৈন্যবর্গে বেষ্টিত থাকিবে ও ঐ গৃহের মধ্যে কোষাগার থাকিবে॥ ৪-৫॥ রাজগৃহের চতুর্দ্দিকে মৌলবল ( অত্যন্তবিশ্বস্ত সৈন্যদল ), ভৃত্যবল, শ্রেণিবল (স্বেচ্ছাসৈন্য), দ্বিষদ্বল ( শত্রুপক্ষ হইতে স্বপক্ষে আগত সৈন্যদল ) এবং আটবিকবল যথাক্রমে সন্নিবেশিত করিবে॥ ৬॥ [ স্কন্ধাবারের ] অন্তভাগে স্ববর্গীয়- সৈন্য (স্বজাতীয় সৈন্য ), ক্রূরসৈন্য, অলোভী-সৈন্য, দৃষ্টকর্ম্মা (যাহারা যুদ্ধ
- কলিকাতা সংস্করণে ইহা ষোড়শসর্গ।
১১৬ কামন্দকীয় নীতিসার। করিয়াছে এমন) সৈন্য, পর্যাপ্তবেতনভোগী সৈন্য এবং বিশ্বস্ত সৈন্য—ইহাদিগকে মণ্ডলাকারে স্থাপন করিবে। (পাঠান্তরে—শিবিরের শেষভাগে অসংখ্য-ক্রূর- সৈন্য, লোভী-সৈন্য, দুষ্টকর্ম্মকারী সৈন্য, পর্যাপ্তবেতনপ্রাপ্ত-সৈন্য ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত সৈন্যদিগকে মণ্ডলাকারে স্থাপিত করিবে) ॥৭॥ নরপতির গৃহের উপকণ্ঠে অত্যন্তবিশ্বস্ত-রক্ষিগণকর্ত্তৃক রক্ষিত খ্যাতনামা-হস্তীসকল ও অত্যন্ত দ্রুতগামী অশ্বগণ থাকিবে ॥ ৮॥ রাজাকে রক্ষা করিবার জন্য সুসজ্জিত অন্তর্ব্বংশিক- সৈন্যগণ দিবারাত্র উদ্যতায়ুধ হইয়া প্রহর ভাগ করিয়া পাহারা দিবে ॥৯॥ যুদ্ধ- যোগ্য অথচ সুসজ্জিত এবং উপযুক্ত রক্ষক দ্বারা রক্ষিত মহাহস্তী ও বেগবান্- অশ্ব রাজার দ্বারদেশে থাকিবে ॥ ১০॥ রাত্রিকালে শিবিরের বাহিরে একদল সুসজ্জিত সৈন্য সেনাপতির সহিত যত্নসহকারে শিবিরের চতুর্দ্দিকে ঘুরিয়া বেড়াইবে ॥ ১১॥ সত্ত্বসম্পন্ন, অতিদ্রুতগামী, সুদূরসীমান্তে, ভ্রমণকারী, বায়ুগতি অশ্বারূঢ়-সৈন্যগণ পরসৈন্যের প্রচার ( গতিবিধি ) জানিবে ॥ ১২॥ তোরণদ্বারগুলি মাল্যে সুশোভিত হইবে, যন্ত্র ( শত্রু প্রতিরোধের উপযোগী কামান প্রভৃতি অস্ত্র ) যুক্ত হইবে এবং পতাকায়ুক্ত হইবে; আর ঐ দ্বারগুলি অত্যন্তবিশ্বস্ত-রক্ষকগণ দ্বারা রক্ষিত হইবে ॥ ১৩॥ সকলেই প্রকাশ্যভাবে প্রবেশ করিবে ও বাহিরে যাইবে এবং বিপক্ষ-দূত সকল রাজার আদেশ মত কার্য্য করিবে ॥ ১৪॥ সমুদয় লোক বৃথা কোলাহল হাস্য দ্যূতক্রীড়া ও সুরাপানাদি পরিত্যাগ করিয়া সুসজ্জিত হইয়া কার্য্যের জন্য প্রস্তুত থাকিবে ॥ ১৫॥ খাতের বাহিরের ভূমিতে স্বপক্ষীয় সৈন্যগণের সঞ্চার ভূমি ত্যাগ করিয়া শত্রুসৈন্য-বিনাশের জন্য অবশিষ্ট ভূমি নষ্ট করিয়া ফেলিবে অর্থাৎ শত্রুরা ঐ জমি ভাল বলিয়াই জানিবে কিন্তু ঐ ভূমির অভ্যন্তর খাত ও তীক্ষ্ণ-লোহকীলকাদি-পরিপূর্ণ এবং উহার উপরে ঘাসের চাপড়া দিয়া এমন সুন্দর ভাবে রাখিবে যে উপর হইতে সকলেই উহাকে সমতল ভূমি বলিয়াই বুঝিবে ॥ ১৬॥ ঐ ভূমির কোন স্থানে কাঁটা গাছের ডালে পরিপূর্ণ হইবে, কোন স্থানে লোহার ফলাযুক্ত শূল থাকিবে, কোন
১৭শ সর্গ ] নিমিত্তজ্ঞান। ১১৭
স্থানে গর্ত্ত সকল তৃণাচ্ছাদিত থাকিবে, এইরূপে সমস্ত ভূমি প্রচ্ছন্ন ভাবে দূষিত করিয়া রাখিবে ॥ ১৭ ॥ বৃক্ষ গুল্ম পাষাণ মৃদ্গাছ বল্মীক ও গর্ত্ত শূন্য স্থানে সৈন্যদিগের যুদ্ধ-চর্চ্চার স্থান করিবে এবং সেখানে যুদ্ধের নানাবিধ সাজ সজ্জা থাকিবে ॥ ১৮ ॥ যে দেশে সৈন্যদিগের ব্যায়াম-ভূমি (যুদ্ধ চর্চ্চার স্থান) উত্তমরূপ পাওয়া যায় কিন্তু শত্রুরা সেইরূপ উপযুক্ত ব্যায়াম- ভূমি পায় না, সেই দেশই উত্তম দেশ ॥ ১৯ ॥ যে দেশে আপনার ও শত্রুর ব্যায়াম ভূমি সমান, নীতিশাস্ত্রবিচারকারী ব্যক্তিগণ সেই দেশকে মধ্যম বলিয়া নির্দ্দেশ করিয়াছেন। যে দেশে শত্রুসৈন্যের ব্যায়ামভূমি উপযুক্ত কিন্তু নিজের তাহার বিপরীত, সেই দেশ অধম বলিয়া কথিত ॥ ২১ ॥ কার্য্য-সিদ্ধির জন্য সর্ব্বদাই উত্তমদেশের আকাঙ্ক্ষা করিবে, উহার অভাবে মধ্যম দেশের অভিলাষ করিবে, কিন্তু বন্দনাগার স্বরূপ অধম দেশের সেবা কখনই করিবে না ॥ ২২ ॥ ইতি স্কন্ধাবার নিবেশন ॥ নিমিত্তজ্ঞান। [ ২৩ হইতে ৪০ শ্লোক পর্যন্ত স্কন্ধাবার সম্বন্ধীয় নিমিত্ত কথন। ইহার মধ্যে ২৩ হইতে ২৮ শ্লোক পর্যন্ত অশুভ নিমিত্ত বলিতেছেন।] যে স্কন্ধাবার কোন রাজার দ্বারা যেন আক্রান্ত, নানাব্যাধিতে পীড়িত, হঠাৎ উদ্বেগগ্রস্ত, ধূলি ও নীহারে আবৃত, ধূমাচ্ছন্ন, প্রবলবায়ু-পীড়িত, যাহা হইতে অকস্মাৎ ধ্বজা পড়িয়া যায়, যেখানে পরস্পর ঝগড়া বাধে, তূর্য্যধ্বনি উত্তমরূপে প্রকাশ পায় না, মৃত্যু ও ভয়ের আশঙ্কা উপস্থিত হয়, যে শিবির নির্ঘাত (বজ্রপাত) ও উল্কাপাতে দূষিত, যেখানে কোষনিঃসারিত ও জ্বলন্ত অস্ত্রও মলিন হইয়া যায়, যেখানে শিবারব প্রতিকূল, যেখানে কর্কশ শব্দকারী কাক ও শকুনিগণ মণ্ডলাকারে ঘুরিয়া বেড়ায়, যে স্থান বার বার ভয়ানক- ভাবে দীপ্তি পায়, যেখানে রক্তবৃষ্টি হয়, যেখানে ক্রূর (রাহু মঙ্গল শনি) ও ঔৎপাতিক (কেতু প্রভৃতি) গ্রহকর্তৃক রাজনক্ষত্র (বৃহস্পতি প্রভৃতি) পীড়িত হয়, যেখানে সূর্য্য-মণ্ডলে কবন্ধ দৃষ্ট হয়, যেখানে গজতুরগাদি বাহন
১১৮ কামন্দকীয় নীতিসার। সকল হঠাৎ জড়ভাবাপন্ন হয় এবং যেখানে মদমত্ত হস্তীর দানবারি হঠাৎ শুকাইয়া যায়, এইরূপ বিকারযুক্ত স্কন্ধাবার প্রশস্ত নয় ॥ ২৩-২৮ ॥ [ এক্ষণে শুভ নিমিত্ত কথিত হইতেছে।] যে স্কন্ধাবারে নরনারী হৃষ্টচিত্ত, দুন্দুভি উত্তমরূপ বাজে, অশ্বের হ্রেষারব গম্ভীর; যে স্কন্ধাবার হস্তীর বৃংহিত- ধ্বনিতে পরিপূর্ণ, পুণ্যদিনে বেদধ্বনিতে মুখরিত, নৃত্যগীত পরিপূর্ণ, উপদ্রব- রহিত (পাঠান্তরে—ভয়শূন্য), মহোৎসাহসম্পন্ন, যাহাতে আকাঙ্কিত লোক উপস্থিত হয় (পাঠান্তরে—অভিলাষানুরূপ জয়লাভ হয়), যাহা ধূলি- শূন্য, উপযুক্ত-বৃষ্টিসম্পন্ন, যাহার ভাগ্যচক্রে গ্রহগণ শুভস্থানে অবস্থিত, যাহা দিব্য-অন্তরিক্ষ ও ভৌম এই ত্রিবিধ উৎপাতপরিশূন্য; যে স্কন্ধাবারে পক্ষিগণ প্রশস্ত শব্দ করে, * শিবারব অনুকূল, * মৃদু অথচ অনুকূল বায়ু প্রবাহিত হয়, বন্দিগণ মঙ্গল স্তুতি করে, লোক সকল হৃষ্টপুষ্ট এবং পরস্পর হিংসাশূন্য, অগ্নি স্বভাবতঃ সুগন্ধি হইয়া প্রজ্বলিত হয়, মত্তমাতঙ্গ মন্দভাব প্রাপ্ত হয় না এবং আসার অভ্যুদয়যুক্ত হয়—এইরূপ লক্ষণযুক্ত স্কন্ধাবারই প্রশস্ত ॥ ২৯—৩৩ ১/২ ॥ স্কন্ধাবার শুভ হইলেই শত্রুর পরাজয় হয়, আর স্কন্ধাবার অপ্রশস্ত হইলে বিপরীত হয় অর্থাৎ শত্রুর জয় হয়। (নিমিত্তই শুভাশুভ বলিয়া দেয়।) † ॥ ৩৪ ॥ যেহেতু নিমিত্ত- গুলিই কার্য্যসমূহের সিদ্ধি ও অসিদ্ধি জানাইয়া দেয়, অতএব আত্মহিতা- কাঙ্ক্ষী রাজা তত্ত্বতঃ এই নিমিত্তগুলি অবগত হইবেন ॥ ৩৫ * * ॥ (অতএব শাস্ত্রজ্ঞ রাজা এই নিমিত্তগুলি লক্ষ্য করিবেন) ‡ ॥ কার্য্যের আরম্ভ সময়ে যদি শুভ-নিমিত্ত দেখা যায় এবং যদি অন্তঃকরণ বিশুদ্ধ থাকে তাহা হইতে ঐ আরব্ধ কার্য্য নিশ্চয়ই সিদ্ধ হয় ॥ ৩৬ ॥ সহায়-সম্পৎ, বিজ্ঞান, সত্ত্ব, দৈবানুকূল্য, উদ্যোগ, অধ্যবসায় (পাঠান্তরে—ব্যবসায়)—এইগুলি
- এই অংশটি কলিকাতা সংস্করণে নাই। † এই বন্ধনীর অন্তর্গত অংশ কলিকাতা সংস্করণে অতিরিক্ত।
-
- কলিকাতা সংস্করণে এই অংশ নাই। ‡ এই বন্ধনীর অন্তর্গত অংশ ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণে নাই। কলিঃ ৩৪ ১/২ সংখ্যার শ্লোক।
१८-श सर्ग ] उपायविकल्प । ११९ याहार थाके ताहार कार्य्यसिद्धि हइया थाके ॥ ३७ ॥ राजा प्रजादिगेर मूल ; एइजन् राजाके स्कन्ध कहे। एखाने अमात्य ओ दण्डप्रभृतिइ आबार। बेष्टनकेइ आबार कहे। अर्थात् शाखागुलि येमन गाछेर गुँड़िके आश्रय करिया थाके सेइरूप प्रजावर्ग राजाके आश्रय करिया थाके बलिया, राजा स्कन्धस्वरूप एवं गाछेर गुँड़िते येमन आलवाल थाके सेइरूप अमात्य- दण्डप्रभृति राजस्वरूप-वृक्षेर आलवाल बा आबार ॥ ३८ ॥ प्रजावर्गेर त्रिवर्गसिद्धिर जन्य प्रकाण्ड आबार द्वारा स्कन्ध आवृत थाके ; अतएव स्कन्धके आवृत करे बलियाइ इहाके स्कन्धावार कहे ॥ ३९ ॥ विपक्षेर आक्रमण, घास, ( पाठान्तरे—बास ), जल, बीवध ओ आसार एइगुलिर निग्रह—स्कन्धावारेर मृत्युस्वरूप ; अतएव एइगुलिके सयत्ने रक्षा करिबे ॥ ४० ॥ एइ पूर्व्वकथित- रूप यत्न लइया सैन्य सन्निवेश करिबे, इहार शुभाशुभ निमित्त लक्ष्य करिबे एवं शत्रुपक्षेरओ एइ समुदय निपुण भावे देखिबे। अनन्तर यखन कोन- दिकेइ अशुभ देखा याइबे ना, तखन विग्रह करिबे ॥ ४१ ॥ इति कामन्दकीय- नीतिसारे स्कन्धावार-निवेशन ओ निमित्तज्ञान नामक सप्तदश-सर्ग ॥ ——— अष्टादश-सर्ग * उपायविकल्प । महाबुद्धिशाली राजा सहायसम्पन्न हइया ( पाठान्तरे—सत्त्व-सम्पन्न ओ दैवबले बलीयान हइया ) उद्योग ओ अध्यवसाय सहकारे शत्रुर प्रति उपाय समुदय प्रयोग करिबेन ॥ १ ॥ उत्तम-मन्त्रशक्ति-सम्पन्न राजा चतुरङ्गसैन्य परिहार करिया कोष ओ मन्त्र द्वारा युद्ध करिबेन। अग्रे मन्त्रद्वारा परे कोषद्वारा ( अर्थात् प्रथम साम ओ भेदद्वारा शत्रुके वशीभूत करिबेन, यदि उहा द्वारा शत्रु
- कलिकाता संस्करणे इहा सप्तदशसर्ग ॥