कामन्दकीय नीतिसार (आचार्य कामन्दक - प्राचीन भारतीय राजनीति शास्त्र)
Kamandakiya Nitisara with Hindi Commentary
आचार्य कामन्दक / पं. ज्वालाप्रसाद मिश्र द्वारा
১ম সর্গ ] ইন্দ্রিয় বিজয়। ৩ প্রভাবে শত্রুদিগের নগর জয় করিয়া থাকেন, সেই বিক্রমশালী বিপক্ষবিজয়ী রাজাকে প্রজাকুল প্রজাপতি ব্রহ্মার ন্যায় বিবেচনা করিবে। ফলতঃ বিধাতা যেমন প্রজাবর্গের সৃষ্টি করিয়া ধর্মানুসারে তাহাদের পালন করেন, সেইরূপ রাজাও প্রজাগণের দৃষ্টিতে দ্বিতীয় প্রজাপতির তুল্য লক্ষিত হন ॥১১॥ রক্ষাকার্য্য রাজার আয়ত্তাধীন। বার্ত্তা (কৃষি প্রভৃতি) রক্ষাকেই অবলম্বন করিয়া বর্ত্তমান থাকে। এই বার্ত্তার বিচ্ছেদ ঘটিলে প্রজা গণ শ্বাস প্রশ্বাস ফেলে বটে কিন্তু জীবিত থাকে না অর্থাৎ বহুবিধ চেষ্টা করিয়াও রক্ষা পায় না। ১১ক॥ পর্য্যন্য অর্থাৎ বর্ষণকারী মেঘের ন্যায় রাজা প্রাণিবর্গের প্রাণধারণের একমাত্র সহায়। পর্য্যন্য বিকল হইলেও লোক বাঁচে কিন্তু রাজা না থাকিলে প্রজা বাঁচে না ॥১১খ॥* রাজা সম্যকরূপে প্রজাদিগকে রক্ষা করিয়া থাকেন। সেই প্রজাকুল রক্ষাগুণে বশীভূত ও কৃতজ্ঞ হইয়া ভূমিপতিকে করদানে এবং অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতাসূচক সম্মানদানে বর্দ্ধিত করিয়া থাকে। এই রক্ষণ ও বর্দ্ধনের মধ্যে বর্দ্ধন অপেক্ষা রক্ষণকার্য্য অধিকতর মঙ্গলজনক। কারণ, রক্ষার অভাব হইলে অর্থাৎ রাজা প্রজারক্ষা না করিলে সদ্বস্তুও অসদ্বস্তু হইয়া থাকে, মঙ্গলও অমঙ্গলরূপে পরিণত হয়, ফলতঃ বিদ্যমান বস্তুও রক্ষণাভাবেন বিনষ্ট হইয়া যায় ॥১২॥ ন্যায়পরায়ণ রাজা নীতিকার্য্যে প্রবৃত্ত হইয়া আপনাকে এবং প্রজা- দিগকেও ধর্ম্মার্থকাম এই ত্রিবর্গদ্বারা সংযোজিত করিয়া থাকেন অর্থাৎ নীতিপরায়ণ রাজাই ত্রিবর্গসাধন করিতে সমর্থ; এবং ত্রিবর্গসাধনক্ষম ভূপতির পদাঙ্কের অনুসরণ করিয়া সমস্ত প্রজাবর্গও ত্রিবর্গসাধন করিতে পারে; কিন্তু রাজা নীতিপথে প্রবৃত্ত না হইলে—রাজা অন্যায়াচরণ- পূর্ব্বক রাজ্যশাসন করিলে, আপনাকে এবং প্রজাদিগকে নিশ্চয়ই বিনষ্ট
- ১১ক ও ১১খ শ্লোক দুইটি ট্রাভঙ্কুর সংস্করণে অতিরিক্ত আছে
৪ কামন্দকীয় নীতিসার। করেন। নীতিগ্রহণই মঙ্গলের আলয় এবং নীতিবর্জ্জনই ধ্বংসের মূল বলিয়া পরিগণিত ॥১৩॥ যবন নামে এক ভূপতি ধর্ম্মানুসারে প্রজাপালন করিয়া দীর্ঘকাল পৃথিবী উপভোগ করিয়াছিলেন এবং নহুষ রাজা অধর্ম্ম অবলম্বন করিয়া পুনর্ব্বার ধরাতলে নিপতিত হন ॥১৪॥ অতএব পৃথিবীপতি ধর্ম্মকে সম্মুখে রাখিয়া অর্থসাধনের নিমিত্ত যত্নপ্রকাশ করিবেন। ধর্ম্মানুষ্ঠানদ্বারা রাজার রাজ্যের বৃদ্ধি হয় এবং রাজলক্ষ্মী ধর্ম্মেরই সুস্বাদু ফল। ফলতঃ ধর্ম্মানুষ্ঠান না করিলে রাজা কখনও ঐশ্বর্য্যফললাভে সমর্থ হন না ॥১৫॥ রাজা, মন্ত্রী, রাষ্ট্র, দুর্গ, ধন, সৈন্য এবং সুহৃৎ (মিত্রস্বরূপ সামন্ত নৃপগণ)—এই সপ্তাঙ্গ রাজ্য। সত্ত্ব-বুদ্ধিকে (উৎসাহ যুক্ত বুদ্ধিকে) অবলম্বন করিয়া এই রাজ্যের স্থিতি নির্দ্ধারিত হইয়াছে। যে স্থানে সত্ত্বের (উৎসাহের) অধিষ্ঠান, সেই স্থানেই সপ্তাঙ্গ রাজ্যের অস্তিত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে ॥১৬॥ রাজা বুদ্ধিফলে নীতিপথ অবগত হইয়া প্রবল সত্ত্ব (ধৈর্য্য) অবলম্বন পূর্ব্বক অথবা মহৎ উৎসাহ অবলম্বন করিয়া, সর্ব্বদাই আলস্য পরিহার- পূর্ব্বক উদ্যমের সহিত জাগরূক থাকিয়া, এই সপ্তাঙ্গ রাজ্যের লাভের নিমিত্ত যত্নবান্ হইবেন। [ রাজাদের তিনটি শক্তি আছে। প্রভুশক্তি, মন্ত্রশক্তি এবং উৎসাহশক্তি। মন্ত্রশক্তি সর্ব্বাপেক্ষা প্রধান। কিন্তু মন্ত্রশক্তিসত্ত্বেও অনেক সময়ে উৎসাহশক্তির অভাবে রাজ্যের ধ্বংস হইয়া থাকে। উৎসাহসম্পন্ন ভূপতি কখনও অবসন্ন ও বিষণ্ণ হন না। আলস্য থাকিলে উৎসাহ থাকে না। আলস্য উৎসাহের মহান্ অন্তরায়। পক্ষান্তরে উৎসাহ ও আলস্যের পরম শত্রু। উৎসাহশীল ভূপতির সপ্তাঙ্গ রাজ্যলাভ করিতে কোনই ক্লেশ পাইতে হয় না ] ॥১৭॥ ন্যায়দ্বারা বা নীতিপথের অনুসরণ করিয়া অর্থের উপার্জ্জন; ন্যায়ানুসারে উপার্জ্জিত অর্থের রক্ষণ; ন্যায়পূর্ব্বক অর্জ্জিত ও রক্ষিত অর্থের বর্দ্ধন এবং
১ম সর্গ ] ইন্দ্রিয় বিজয়। ৫ বর্দ্ধিত অর্থ সৎপাত্রে—শ্রোত্রিয়াদি ব্রহ্মনিষ্ঠ উপযুক্ত ব্রাহ্মণাদিপাত্রে—দান ; এই চারিপ্রকার রাজার বৃত্ত বা ব্যবহারকার্য্য। অর্থব্যবহার সম্বন্ধে রাজার এই চারি প্রকার প্রধান কার্য্য অবশ্য কর্ত্তব্য ॥১৮॥ নীতিকুশল, বিক্রমশালী, সতত উদ্যমশীল ভূপাল ঐশ্বর্য্যের বিষয় চিন্তা করিবেন। [ নীতি, বিক্রম ও উদ্যম পরিত্যাগ করিয়া সম্পদের চিন্তা করিলে কোন ফলই হয় না। ঐশ্বর্য্যের মূলে নীতি প্রভৃতি থাকা একান্ত আবশ্যক। ] নীতির মূল বিনয়। বিনয় যে কি, তাহা শাস্ত্রপাঠে জানিতে পারা যায় ॥১৯॥ [ মানবশরীরে চক্ষুরাদি ইন্দ্রিয়গণের দৌরাত্ম্যে এবং আধিপত্যে মানব পশুপ্রকৃতি হইয়া থাকে। এই সকল দুর্দ্ধর্ষ ইন্দ্রিয়দিগকে জয় করা আবশ্যক। ] এই প্রবল ইন্দ্রিয়গণের জয়কেই বিনয় বলে। [ ইন্দ্রিয়জয় না হইলে বিনয় আসিতে পারে না। ] সেই বিনয়যুক্ত মানব শাস্ত্রজ্ঞান ( শাস্ত্রমর্ম্ম ) লাভ করিতে সমর্থ। বিনয়ী না হইলে গুরুপদিষ্ট-শাস্ত্রের অর্থ অবগত হওয়া যায় না। বিনয়ীর নির্ম্মল অন্তঃকরণদর্পণে শাস্ত্রের নিগূঢ় তত্ত্ব প্রতিবিম্বিত হইয়া থাকে। অতএব ইন্দ্রিয়জয়, শাস্ত্রজ্ঞান এবং শাস্ত্রের অর্থের প্রকাশ, এই সকল বিষয়ের মূলীভূত কারণ— একমাত্র বিনয় ॥২০॥ শাস্ত্র শব্দে শাস্ত্রপাঠও শাস্ত্রজ্ঞান ; প্রজ্ঞা শব্দে বুদ্ধিশক্তি ; ধৃতি শব্দে ধৈর্য্য বা সন্তোষ ; প্রগল্ভতা শব্দে নির্ভীকতা ; ধারয়িষ্ণুতা শব্দে ধারণ- শীলতা ; উৎসাহ শব্দে উদ্যম ; বাগ্মিতা শব্দে বক্তৃতাশক্তি ; দার্ঢ্য শব্দে মনের দৃঢ়তা ; আপৎক্লেশসহিষ্ণুতাশব্দে বিপদকালে কষ্ট সহ্য করিবার ক্ষমতা ; প্রভাব শব্দে তেজ ; শুচিতা শব্দে পবিত্রতা ; মৈত্রী শব্দে সকল জীবে মিত্রভাব ; ত্যাগ শব্দে দান ; সত্য শব্দে যথার্থ-কথন ; কৃতজ্ঞতা শব্দে পরের উপকার স্মরণ ; কুল শব্দে সৎবংশ ; শীল শব্দে সৎস্বভাব এবং দম শব্দে বাহেন্দ্রিয়দমন—কেহ কেহ মনের দমনকেও দম বলিয়া থাকেন। শাস্ত্র হইতে দম পর্য্যন্ত—এই উনিশটি গুণকে
৬ কামন্দকীয় নীতিসার। সম্পত্তির কারণ বলা হইয়াছে। ফলতঃ শাস্ত্রজ্ঞানাদি থাকিলেই মানব ঐশ্বর্য্যলাভ করিতে সমর্থ হয় ॥২১—২২॥ ভূপতি সর্ব্বাগ্রে নিজে বিনীত হইবেন। আপনাকে বিনয়যুক্ত করিবার পর অমাত্যদিগকে বিনয়সম্পন্ন করিবেন; তৎপরে ভৃত্য- দিগকে বিনয়োপপন্ন করিবেন; অনন্তর আপনার তনয়দিগকে বিনীত করিবেন এবং শেষে প্রজাদিগকে বিনয়ান্বিত করিবেন। [ রাজা স্বয়ং বিনীত না হইয়া অপরকে বিনীত করিবার চেষ্টা করিলে সেই চেষ্টা ফলবতী হয় না। যাহার যে গুণ নাই, তিনি সেই গুণে অপরকে বিভূষিত করিবার জন্য চেষ্টা করিলে অথবা উপদেশ দিলে অবশ্যই তিনি জনসমাজে হাস্যাস্পদ হন ] ॥২৩॥ যাঁহার প্রজাবর্গ সর্ব্বদা অনুরক্ত, যিনি প্রজাপালনে আসক্ত এবং স্বয়ং বিনীত, সেই ভূপতিই বহুতর ঐশ্বর্য্য ভোগ করিয়া থাকেন। ফলতঃ সর্ব্বদা প্রজাপুঞ্জের আনুরক্তি, প্রজাপালনে আসক্তি এবং নিজের বিনয়,—এই তিনটি ঐশ্বর্য্যভোগের কারণ বলিয়া প্রসিদ্ধ ॥২৪॥ হস্তী যেমন অরণ্যে বিচরণ করিয়া থাকে এবং সেই প্রবল হস্তীকে নিগৃহীত করিতে পারা যায় না, সেইরূপ নেত্রকর্ণাদি ইন্দ্রিয়রূপ মত্ত- মাতঙ্গ বিস্তীর্ণ—রূপ-রসাদি স্বরূপ ভীষণ বিষয়ারণ্যে ইতস্ততঃ বিচরণ করিয়া থাকে, এই প্রবল ইন্দ্রিয়-হস্তী সর্ব্বদাই অনিষ্টসাধন করিতেছে, কেহ ইহাকে নিগ্রহ করিতে পারে না। রাজা এইরূপ বিষয়বনে বিচরণ- কারী প্রমাথী বা অনিষ্টকারী ইন্দ্রিয়রূপ-বন্য-মত্তহস্তীকে জ্ঞানরূপ অঙ্কুশ- দ্বারা বশীভূত করিবেন। যেরূপ অঙ্কুশদ্বারা হস্তী বশীভূত হয়, তদ্রূপ জ্ঞানদ্বারা প্রবল ইন্দ্রিয় দমন হয় ॥২৫॥ প্রথমে আত্মা বা জীবাত্মা শব্দস্পর্শাদিরূপ বিষয়ভোগ করিবার জন্য সযত্নে অন্তঃকরণে অধিষ্ঠান করিয়া থাকে। এই আত্মা ও মনের সংযোগেই মানবের শুভাশুভ কার্য্যে প্রবৃত্তি জন্মে ॥২৬॥ শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ,
১ম সর্গ ] ইন্দ্রিয় বিজয়। ৭ এই পাঁচটি বিষয়, আমিষ বা লোভনীয় বস্তুর তুল্য। এই বিষয়রূপ আমিষের লোভে মন ইন্দ্রিয়দিগকে চালনা করে। কর্ণ শব্দ, ত্বক্ স্পর্শ, নেত্র রূপ, জিহ্বা রস এবং নাসিকা গন্ধকে গ্রহণ করিবার জন্য দিবারাত্র ধাবমান হইতেছে। এই বিষয়গ্রহণে ইন্দ্রিয়গণের বিরাম নাই। এই দুর্দ্দম- ইন্দ্রিয়দিগকে যত্নপূর্ব্বক নিরোধ বা দমন করিবে। ঐ ইন্দ্রিয়দিগকে জয় করিতে পারিলে মানব জিতেন্দ্রিয় হয় ॥২৭॥ বিজ্ঞান, হৃদয়, চিত্ত, মন ও বুদ্ধি—ইহারা এক পর্যায়বাচক শব্দ; ইহারা সকলেই সমান। এই জগতে আত্মা এই বিজ্ঞানাদিদ্বারা জীবকে কার্য্যে লওয়াইয়া থাকে। জীবের এইরূপে কার্য্যে প্রবৃত্তি এবং কার্য্যে নিবৃত্তি অহরহঃ সম্পাদিত হইতেছে ॥২৮॥ ধর্ম্ম, অধর্ম্ম, সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ এবং তদ্রূপ প্রযত্ন, জ্ঞান ও সংস্কার, —এইগুলি আত্মচিহ্ন। এই সকল চিহ্ন দ্বারা আত্মনিরূপণ হয় ॥২৯॥ জ্ঞানের অয়ৌগপদ্য অর্থাৎ ক্রমবিকাশ, মনের লিঙ্গ বা চিহ্ন বলিয়া উল্লেখিত হইয়াছে। এককালে সকল বস্তুর জ্ঞান হয় না; ঘটজ্ঞান কালে পটজ্ঞানের উদয় হয় না। ভিন্ন ভিন্ন কালে ভিন্ন ভিন্ন জ্ঞানের উদয় হয়। এইরূপ জ্ঞানের এককালীন উদয় না হওয়াই মনের চিহ্ন অর্থাৎ জ্ঞানের এইরূপ অযৌগপদ্য দেখিয়া পণ্ডিতগণ মন নিরূপণ করেন। এবং নানাবিধ কার্য্যে বা নানাবিধ-বিষয়ে মনের যে সঙ্কল্প, তাহাকেই মনের কর্ম্ম বলা হইয়াছে ॥৩০॥ ইন্দ্রিয় দুই প্রকার। জ্ঞানেন্দ্রিয় এবং কর্ম্মেন্দ্রিয়। কর্ণ, ত্বক, চক্ষু, জিহ্বা এবং নাসিকা লইয়া পাঁচ;—এই পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়। পায়ু (গুহ্যদ্বার), উপস্থ (লিঙ্গ), হস্ত, পাদ এবং বাক্য—এই পাঁচটি কর্ম্মেন্দ্রিয়। এইরূপে দশটি ইন্দ্রিয় হইল ॥৩১॥ কর্ণের শব্দ, ত্বকের স্পর্শ, চক্ষুর রূপ, জিহ্বার রস এবং নাসিকার গন্ধ গ্রহণ, এই পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়ের ক্রিয়া। পায়ুর উৎসর্গ বা মলনিঃসরণক্রিয়া, উপস্থের (লিঙ্গের) আনন্দ-
৮ কামন্দকীয় নীতিসার। ক্রিয়া,১ হস্তের আদান বা গ্রহণক্রিয়া, পাদের গতি বা গমনক্রিয়া এবং বাক্যের আলাপ বা কথনক্রিয়া; ইন্দ্রিয়বর্গের যথাক্রমে ক্রিয়াসকল হয় ॥৩২॥ আত্মজ্ঞ ও মনস্তত্ত্ববিৎ মনীষিগণ, আত্মা এবং মনকে অন্তঃকরণ বলিয়া থাকেন। এই আত্মা (জীবাত্মা) এবং মন উভয়ের যত্ন হইতে সঙ্কল্প উৎপন্ন হয়। ফলতঃ আত্ম-মনের প্রযত্ন বা চেষ্টার নামই সঙ্কল্প। এই উভয়ের চেষ্টা না হইলে সঙ্কল্প হইতে পারে না ॥৩৩॥ আত্মা (শরীর), বুদ্ধি, ইন্দ্রিয়বর্গ এবং শব্দাদি বিষয়সমূহই বাহ্যেন্দ্রিয়। সঙ্কল্প এবং অধ্যবসায়দ্বারা এই বাহ্যেন্দ্রিয়ের সিদ্ধি নির্ণীত হয় ॥৩৪॥ বাহ্যেন্দ্রিয় ও অন্তরেন্দ্রিয় এই দুইটি বাহ্যিক ও আন্তরিক যত্নের কারণ বলিয়া জানিবে। অতএব প্রবৃত্তির নিরোধ করিয়া অর্থাৎ এই সকল ইন্দ্রিয়ের প্রবৃত্তি-দমন করিয়া, মনের লয় চিন্তা করিবে। ইহার তাৎপর্য্য এই—প্রবৃত্তিই মনের কার্য্য, প্রবৃত্তি থাকিলেই মনের অস্তিত্ব থাকে; প্রবৃত্তির নিরোধ করিলে মনের অস্তিত্ব থাকে না। প্রবৃত্তিশূন্য-মন মনই নহে, তখন মনের লয় হইয়াছে বুঝিতে হইবে ॥৩৫॥ এইরূপে নীতি এবং অপনীতি বা অনীতিবেত্তা ভূপতি ইন্দ্রিয়গণের সাহায্যে আপনি আত্মসংযম করিয়া, আপনার হিতানুষ্ঠান করিবেন। —অর্থাৎ আত্মদমন ব্যতিরেকে আত্মহিত হইতে পারে না ॥৩৬॥ যে রাজা নিজের একটিমাত্র ক্ষুদ্র মনেরই দমনে অসমর্থ, তিনি কিরূপে সাগরমেখলা- পরিবেষ্টিতা এই বিস্তীর্ণা বসুন্ধরা জয় করিতে সমর্থ হইবেন? ॥৩৭॥ চিত্ত অপহরণকারী শব্দস্পর্শাদি বিষয় সকল ভোগাবসানে বিরস হয়। বিষয়সেবী রাজা হস্তীর ন্যায় হৃদয়ে খেদপ্রাপ্ত হইয়া পরিণামে দুর্দশাগ্রস্ত হন ॥৩৮॥ যে ভূপতি নীতিবিরুদ্ধ সমস্ত অকার্য্যে আসক্ত, শব্দস্পর্শাদি বিষয় দ্বারা যাহার দুই চক্ষু অন্ধ হইয়াছে, সেই অকার্য্যপরায়ণ বিষয়ান্ধ রাজা, নিজেই অতি ভয়ঙ্কর বিপদে পতিত হন ॥৩৯॥
১ম সর্গ ] ইন্দ্রিয় বিজয়। ৯ শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ,—এই পাঁচটি বিষয়। এই পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে এক একটি বিষয়ই বিনাশসাধনে সমর্থ। কেবল শব্দ, কি কেবল স্পর্শ, কেবল রূপ, কেবল রস, অথবা কেবল গন্ধ, মানবকে প্রলুব্ধ করিয়া বিনাশ করে। অতএব যদি পাঁচটি বিষয় একত্র মিলিত হইয়া স্ব স্ব কার্য্য করিতে উদ্যত হয়, তাহা হইলে তখন কিরূপ যে অনিষ্ট ও বিপদ্ ঘটে, তাহা কল্পনারও অতীত—চিন্তারও অতীত ॥৪০॥ প্রথমে শব্দের বিষয় কথিত হইতেছে। হরিণ পবিত্র ঘাসের অঙ্কুর ভক্ষণ করিয়া থাকে এবং সে অতি দূর দেশে বিচরণ করিতে সমর্থ; সুতরাং তাহার প্রাণবধের আশঙ্কাও সামান্য; তথাপি সে ব্যাধের বংশীধ্বনি শুনিলে উহার লোভে নিজের মৃত্যু খুঁজিয়া লয়। অর্থাৎ বাঁশার রবে মুগ্ধ মৃগকে ব্যাধ অনায়াসেই বধ করে। ইহাই শব্দ-বিষয় সেবনের পরিণাম ॥৪১॥ পর্ব্বতের ন্যায় দীর্ঘাকার অবলীলাক্রমে বৃক্ষ উৎপাটনে সমর্থ হস্তীও (মানুষের শিক্ষিত মোহিনী) হস্তিনীর স্পর্শ-মোহে বন্ধন প্রাপ্ত হয়। ইহাই স্পর্শ-বিষয়ের সামর্থ্য ॥৪২॥ স্নিগ্ধ দীপশিখার আলোক দর্শনে মোহিত পতঙ্গ অগ্নিশিখায় নিঃসন্দেহে সহসা পতিত হয় ও মরিয়া যায়। ইহা রূপবিষয়ের শক্তি ॥৪৩॥ মৎস্য যেখানে থাকে, সেখানে কাহারও চক্ষু যায় না; এই মৎস্য অগাধ জলে বিচরণ করে, দৃষ্টির অগোচরে থাকিলেও অতল-স্পর্শ সলিলে সন্তরণ করিলেও এই মূঢ়মতি মীন মৃত্যুর জন্য টোপযুক্ত বঁড়শী আস্বাদন করে, ইহাই রসবিষয়ের সামর্থ্য ॥৪৪॥ মত্ত হস্তীর মাথা ও শুঁড় হইতে যে জল পড়ে, তাহার নাম দান; উহাতে মদের ন্যায় উৎকট গন্ধ আছে। হস্তী দানবারি নিঃসরণ কালে দুইটি কান চালিতে থাকে, তাহাতে ঝল্ঝল্ শব্দ উঠে। মধুকর ঐ মদ-জলের গন্ধে লুব্ধ হইয়া উহার পানেচ্ছায় অশ্বগ-সঞ্চরণ-যোগ্য গজকর্ণের ঝল্ঝল্ শব্দের নিকট যাইয়া শেষে কাণের ঝাপটে মারা যায়। ইহাই গন্ধ বিষয়ের পরিণাম ॥৪৫॥ শব্দ প্রভৃতি এক একটি বিষয় বিষতুল্য। বিষতুল্য এক একটি বিষয়
१. इन्द्रियजय, विद्या-विभाग व वर्णाश्रम धर्म (सर्ग १-४)
১০ কামন্দকীয় নীতিসার। জীবের প্রাণবধ করে। যে ব্যক্তি এককালে বিষতুল্য পাঁচটি বিষয়ের সেবা করে, সে লোকের কিরূপে মঙ্গল হইবে? ॥৪৬॥ জিতেন্দ্রিয় হইয়া বিষয়ের আসক্তি ত্যাগ করিয়া যথাকালে শব্দ স্পর্শাদি বিষয় সমুদায়ের সেবন করিতে হইবে। কারণ বিষয়-সেবার ফলই সুখ। বিষয় ভোগ না করিয়া সুখের নিরাকরণ করিলে, সমস্ত ঐশ্বর্য্যই বৃথা হয়। সুখফলপ্রসূ বিষয় সেবনেরও কাল আছে; যখন তখন বিষয়-সেবন সুখ- প্রদ নয় ॥৪৭॥ যৌবনে বিষয়-ভোগের সুবিধা না হওয়ায় অতৃপ্ত ব্যক্তি বৃদ্ধাবস্থায় নারী-মুখদর্শনে অত্যন্ত আসক্ত চিত্ত হয়, কিন্তু ভোগ-সামর্থ্যের অভাবে দুঃখে চক্ষু দুইটি জলে ভাসিয়া যায়, এখন ঐশ্বর্য্য বিড়ম্বনা মাত্র। মনে হয় যৌবনের সহিত ঐশ্বর্য্য বৃথাই চলিয়া গিয়াছে ॥৪৮॥ ধর্ম্ম হইতে অর্থ, অর্থাৎ ধার্ম্মিক পুরুষের অর্থ লাভ অবশ্যম্ভাবী। অর্থ হইতে কাম, অর্থাৎ অর্থ দ্বারা কাম্যবস্তু লাভ হয়। কাম হইতে সুখরূপ ফলের উদয় হয়; কামনাপূর্ণ হইলে অন্তঃকরণে সুখের আবির্ভাব হইয়া থাকে। কিন্তু যে ব্যক্তি যুক্তিসহকারে ধর্ম্ম, অর্থ ও কাম এই ত্রিবর্গের সেবা না করে অর্থাৎ বিপরীতভাবে বা অসময়ে ইহাদের সেবা করে, সে ব্যক্তি ত্রিবর্গের বিনাশ করিয়া শেষে আপনাকেও বিনষ্ট করে ॥৪৯॥ স্ত্রী—কেবল এই আহ্লাদজনক নামটিও চিত্তকে বিকৃতই করে। বিলাস-বিভ্রমদ্বারা যখন রমণীর ভ্রূযুগল সুশোভিত হয়, যখন রমণী ভ্রূভঙ্গী- পূর্ব্বক সকটাক্ষ নিরীক্ষণ করে, তখন সেই বিলাসিনী কামিনীকে দর্শন করিলে যে কি হয়, তাহা আর কি বলিব; যাহার নামেই চিত্তবিকার, তাহার দর্শনে যে কিরূপ সর্ব্বনাশ ঘটে, তাহা কল্পনার অতীত ॥৫০॥ যে নারী নির্জ্জন স্থানে স্বীয় ভাব প্রকাশে অত্যন্ত নিপুণ, যে নারী মৃদু স্বরে গদ্গদ্ বাক্য বলে, যে নারীর নয়নপ্রান্ত রক্তবর্ণ, এইরূপ নারী কোন অনুরক্ত পুরুষকে মোহিত না করে? ॥৫১॥ সন্ধ্যাকাল যেরূপ চন্দ্রমণ্ডলকে নির্ম্মল এবং দীপ্তিশালী করে, সেইরূপ রমণী অন্যের কথা দূরে থাকুক,
১ম সর্গ ] বিদ্যাবৃদ্ধ সংযোগ। ১১ মুনিরও মনকে টলাইয়া দেয় ॥৫২॥ বৃষ্টিপ্রবাহ যেরূপ দৃঢ়কায় পর্ব্বত সমূহের ভেদ সাধন করে, সেইরূপ মনের প্রফুল্লতাকারিণী এবং মত্ততাকারিণী রমণীও ধৈর্য্যশালী পুরুষদিগকেও অতিমাত্র আসক্ত করে ॥৫৩॥ মৃগয়া, পাশা খেলা ও পান ( মাদকদ্রব্য সেবন ) এই তিনটি রাজাদিগের নিষিদ্ধ। এই মৃগয়া প্রভৃতি ব্যসন হইতে পাণ্ডু, নিষধরাজ-নল এবং বৃষ্ণি বংশের যথেষ্ট বিপদ দৃষ্ট হইয়াছে ॥৫৪॥ কাম, ক্রোধ, লোভ, হর্ষ ( মোহ ), মান ( অভিমান ), এবং মদ (গর্ব্ব) এই ছয়টির নাম ষড়বর্গ। [ অনিষ্টকারক ও ভীষণ শত্রু স্বরূপ ] এই ষড়বর্গ ত্যাগ করিবে। ইহা পরিত্যক্ত হইলে ভূপতি সুখী হন ॥৫৫॥ রাজা দণ্ডক কামহেতু, রাজা জনমেজয় ক্রোধহেতু, রাজর্ষি ঐল লোভ- হেতু, বাতাপি নামক অসুর হর্ষহেতু, পুলস্ত্যমুনির পৌত্র রাক্ষসরাজ রাবণ মানহেতু, এবং দম্ভরাজার পুত্র মদহেতু—ইঁহারা সকলে শত্রুস্বরূপ ষড়বর্গ আশ্রয় করিয়া নিধনপ্রাপ্ত হইয়াছেন ॥৫৬, ৫৭॥ এই প্রবল রিপু—ষড়বর্গ পরিত্যাগ করিয়া জিতেন্দ্রিয় জমদগ্নি-তনয় পরশুরাম এবং মহানুভব মহারাজ অম্বরীষ দীর্ঘকাল পৃথিবী পালন করিয়াছিলেন ॥৫৮॥ ইতি ইন্দ্রিয় বিজয়। বিদ্যাবৃদ্ধ সংযোগ। ধর্ম্ম ও অর্থ এই দুইটির প্রাধান্য আছে। এইজন্য সজ্জনেরা সাদরে ধর্ম্মার্থের সেবা করেন। মনুষ্য ধর্ম্ম ও অর্থ বৃদ্ধি করিবার জন্য উত্তমরূপে গুরুসেবা করিবে ॥৫৮ক, ॥ * গুরুসংযোগ শাস্ত্রের নিমিত্ত অর্থাৎ সদ্গুরুর নিকট শাস্ত্র পাঠ করিলে শাস্ত্র-জ্ঞান হয়। শাস্ত্রই বিনয় ( অর্থাৎ যথাযথ নিয়মে পরিচালন প্রভৃতি উপযুক্ত শিক্ষা ) বৃদ্ধির কারণ। মহীপতি বিদ্যা দ্বারা বিনীত হইলে কষ্টে ও বিপদে অবসন্ন হন না ॥৫৯॥ যে ভূপতি বৃদ্ধজনের সেবা করেন, তাঁহাকে সজ্জনেরা সম্মান করে। বৃদ্ধসেবী এবং সাধুসমাদৃত নরপতিকে অসচ্চরিত্র ব্যক্তিগণ নানাবিধ
- ট্রাভাঙ্কুরের সংস্করণে এই শ্লোকটি অতিরিক্ত আছে।
১২ কামন্দকীয় নীতিসার। অকার্য্যে প্রবৃত্ত করিতে চেষ্টা পাইলেও তিনি অকার্য্যে প্রবৃত্ত হন না ॥৬০॥ যে রাজা প্রত্যহ যথাবিধি নৃত্য-গীত-বাদ্যাদি চতুঃষষ্টি প্রকার কলাবিদ্যা গ্রহণ করেন, তিনি শুক্লপক্ষে বিচরণশীল চন্দ্রমার ন্যায় প্রতিদিন বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হন ॥৬১॥ যে রাজা সমস্ত ইন্দ্রিয়শক্তি জয় করিয়া জিতেন্দ্রিয় হইয়াছেন এবং নীতিপথের অনুসরণ করেন, তাহার সমস্ত সম্পদ সমুজ্জ্বল এবং কীর্তিকলাপ গগনস্পর্শী হইয়া থাকে ॥৬২॥ নরপতি বিনয়যুক্ত হইয়া, নীতি- বিভূষণে বিভূষিত হইলে, পূর্ব্ববর্ত্তী ভূপালগণ যে কার্য্যের অনুষ্ঠান করিয়া গিয়াছেন, সেই পূর্ব্বরাজ-সেবিত বিষয়ের সেবা করিয়া চলিলে, মহারত্নগিরির (সুমেরু পর্ব্বতের) অত্যুন্নত শৃঙ্গের ন্যায় রাজলক্ষ্মীর বা রাজসম্পদের অত্যুন্নত সমুজ্জ্বল পদ (স্থান অধিকার করেন ॥৬৩॥ রাজশ্রী স্বভাবতঃই সমুন্নত, ইহা সকল লোককেই অতিক্রম করিয়া অবস্থান করে; এই উন্নত রাজসম্পৎকে সবলে বিনয়ের সহিত যুক্ত করিবে, যেহেতু নীতির সিদ্ধি বিষয়ে বিনয়ই অগ্রগামী। ফলতঃ বিনয়ান্বিত রাজত্বই চিরস্থায়ী হয় ॥৬৪॥ যে রাজা বিনীত সকলেই তাহাকে উত্তমরূপে সেবা করে। কারণ বিনয় ভূপতিদিগের অলঙ্কারস্বরূপ। হস্তীর দেহ হইতে দানবারি নিঃসরণ কালে ধীরে ধীরে শুঁড় চালিত হইলে তখন ঐ হাতী যেমন শোভা পায়, সেইরূপ ভদ্র ভূপতি যখন দান করিতে প্রবৃত্ত হন এবং তৎকালে যখন তাঁহার ধীরভাবে হস্ত চালিত হয়, তখন তিনি বিনয়ের দ্বারা শোভাপ্রাপ্ত হন ॥৬৫॥ বিদ্যালাভের জন্য গুরুর সেবা করিতে হয়; গুরুমুখ হইতে শ্রুতবিদ্যা মহাত্মাদিগের বুদ্ধির উৎকর্ষ সাধন করে; বিদ্বদ্গণের শ্রুতবিদ্যার অনুসারী মত সকল, প্রজাপতি তুল্য ভূপতিগণের নিশ্চয়ই পরম সম্পদের কারণ হইয়া থাকে ॥৬৬॥ শুচি এবং সেবাপরায়ণ হইয়া সুনিপুণ ভাবে সুদক্ষ গুরুর সেবা করিলে বিনয়বর্দ্ধিত রাজা ঐশ্বর্য্যের, নৃপদের এবং শান্তি-স্থাপনের যোগ্য হন ॥৬৭॥ অবিনয়রত নরপতি অবশ অর্থাৎ দুরন্ত হইলে, বিপক্ষগণ
২य सर्ग ] विद्याविभाग। १३ अनायासेइ ऐ राजाके वशवर्त्ती करिया फेले। पक्षान्तरे ये राजा शास्त्र ओ विनय-विधान मानिया चलेन, सेइ नृपति क्षुद्र हइलेओ कखनओ पराभव प्राप्त हन ना ॥ ६८ ॥ इति—कामन्दकीय नीतिसारे इन्द्रियविजय, विद्या ओ वृद्ध योग नामक प्रथम सर्ग। द्वितीय सर्ग। विद्याविभाग। ये सकल लोक आन्वीक्षिकी ( तर्कविद्या ), त्रयी (ऋक्, यजुः ओ साम वेद), वार्त्ता ( कृषि, गोरक्षा ओ वाणिज्य ) एवं दण्डनीति एइ कयटि विद्याय विज्ञ एवं ऐ सकल शास्त्रोचित व्यवहार करिया थाकेन, सेइ समस्त व्यक्तिगणेर सहित राजा विनयान्वित हइया ऐ समुदय शास्त्रेर चिन्ता करिबेन ॥ १॥ आन्वीक्षिकी, त्रयी, वार्त्ता एवं दण्डनीति—एइ चारि प्रकार विद्याइ मनुष्य- गणेर योगेर ( अलब्ध वस्तुर प्राप्तिर ) ओ क्षेमेर ( प्राप्तवस्तुर रक्षार ) कारण हय; अर्थात् एइ चारिटि विद्याइ लोकरक्षार हेतु ॥ २॥ त्रयी, वार्त्ता एवं दण्डनीति—एइ तिन प्रकार विद्या मनुशिष्यगण कर्तृक कथित हइयाछे एवं ताँहादेर मते आन्वीक्षिकी विद्या त्रयीर विभागमात्र ॥ ३॥ बृहस्पतिर शिष्यगण बोलेन ये मनुष्येर अर्थइ प्रधान; एइज्न्य वार्त्ता एवं दण्डनीति एइ दुइटि विद्याइ स्थितिशील। येहेतु एइ दुइटिइ अर्थकरी विद्या ॥ ४॥ शुक्राचार्य्येर मते दण्डनीतिइ एकमात्र विद्या। एइ विद्यातेइ समस्त विद्यार आरम्भ ओ प्रतिष्ठा ॥ ५॥ पूर्व्वोक्त चारिटि विद्याइ विद्या; इहारा प्रत्येके पृथक् पृथक् भावे प्रसिद्धि लाभ करियाछे; एवं एइ चारि विद्यातेइ लोकरक्षा हइतेछे; इहाइ आमादिगेर गुरुदर्शन अर्थात् गुरुर उपदेश ॥ ६॥ आन्वीक्षिकी द्वारा आत्मज्ञान हय; त्रयीते धर्म्म ओ अधर्म्मेर ज्ञान हय; वार्त्ताते अर्थ एवं
১৪ কামন্দকীয় নীতিসার। অনর্থ উভয়ই বর্ত্তমান ; দণ্ডনীতিতে নীতি ও অনীতি উভয়েরই শিক্ষা হয় ॥৭॥ আম্বীক্ষিকী ত্রয়ী এবং বার্ত্তা—এই তিন বিদ্যা [ সাক্ষাৎ লোকোপকারিণী ] সংবিদ্যা বলিয়া কথিত; কিন্তু [ প্রাধান্য হেতু ] দণ্ডনীতির বেচাল হইলে ঐ সংবিদ্যাগুলিও অসংবিদ্যার ন্যায় প্রতীয়মান হয় ॥৮॥ যখন দণ্ডনীতি সম্যকরূপে নেতৃপুরুষকে আশ্রয় করে অর্থাৎ দণ্ডনীতি ঠিক্ চলে, তখন বিদ্বান্ ব্যক্তিরা অবশিষ্ট তিনটি বিদ্যার সম্যকরূপে ব্যবহার করিতে পারেন ॥৯॥ এই সকল বিদ্যাতেই বর্ণ ও আশ্রমের প্রতিষ্ঠা। রাজা ঐ সমস্ত বিদ্যা রক্ষা করিবেন। এইগুলি রক্ষা করিলে তিনিও তত্তৎ- শাস্ত্রোক্ত ধর্ম্মের অংশভাগী হইয়া থাকেন ॥১০॥ সুখ ও দুঃখের ঈক্ষণ ( প্রত্যক্ষ ) হয় বলিয়া আম্বীক্ষিকী শব্দে আত্ম- বিদ্যা বুঝায়। এই আম্বীক্ষিকী দ্বারা তত্ত্ব অবগত হইয়া লোক সকল হর্ষ ও শোক পরিত্যাগ করিয়া থাকে ॥১১॥ ঋক্, যজু ও সাম এই তিনখানি বেদকে ত্রয়ী বলে। ত্রয়ী-বিহিত কার্য্যের যথারীতি অনুষ্ঠান করিলে উভয় লোক ( ইহলোকে অতুলকীর্ত্তি এবং পরলোকে অনন্ত সুখ ) প্রাপ্তি হইয়া থাকে ॥১২॥ ঋক্, যজু, সাম, অথর্ব্ব—এই চারি বেদ; শিক্ষা, কল্পসূত্র, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, জ্যোতিষ, ও ছন্দ—এই ছয়টি বেদের অঙ্গ; মীমাংসাদর্শন, ন্যায়শাস্ত্র, ধর্ম্মশাস্ত্র (স্মৃতি) এবং পুরাণ—এই চতুৰ্দ্দশ প্রকার শাস্ত্রকেই ত্রয়ী বলে ॥১৩॥ বার্ত্তা বলিতে পশুপালন, কৃষি ও পণ্য ( বাণিজ্য )। বার্ত্তাই যাহাদিগের অবলম্বন এইরূপ সাধু (বণিক্) বার্ত্তা বিষয়ে সম্পন্ন (কুশল) হইলে তাহার বৃত্তির (জীবিকা-নিব্বাহের) ভয় থাকে না ॥১৪॥ দমন কার্য্যকেই দণ্ড বলে। দণ্ডবিধান করেন বলিয়াই রাজাকে দণ্ড বলে। সেই রাজার যে নীতি তাহার নাম দণ্ডনীতি। নিয়মে চালায় বলিয়াই ইহার নাম নীতিশাস্ত্র ॥১৫॥ রাজা নীতি দ্বারা আপনাকে এবং অবশিষ্ট সমস্ত বিদ্যাকে রক্ষা
२य सर्ग ] वर्णाश्रमव्यवस्था। १५ करिबेन। विद्या लोकोपकारिणी एबং ইহার रक्षाकर्त्ता राजा ॥१६॥ महामति नरपति एइ सकल विद्याय़ निपुण हइले चतुर्व्वर्ग ( धर्म्म, अर्थ, काम, मोक्ष ), लाभ करेन ; एइ कारणे एइ समस्त विद्यार विद्यात्व जानिबे। कारण बिद् धातुर अर्थ ज्ञान ॥१७॥ वर्णाश्रमव्यवस्था। शास्त्रानुसारे यज्ञ वेदाध्ययन एबং दान एइ तिनटि ब्राह्मण, क्षत्रिय़ ओ वैश्यगणेर सनातन साधारण धर्म्म बलिय़ा कथित ॥१८॥ शुद्धभावे याजन ओ अध्यापना एबং विशुद्ध व्यक्तिर निकट हइते दान ग्रहण, एइ तिनटि ज्येष्ठवर्ण ब्राह्मणगणेर वृत्ति, इहाइ मुनिरा बलिय़ाछेन ॥१९॥ शस्त्रबले जीविका एबং प्रजावर्गेर सर्व्वतोभावे रक्षा करा राजार अर्थात् क्षत्रिय़ जातिर वृत्ति। पशुपालन, कृषि एबং पण्य इहाइ वैश्यगणेर वृत्ति बलिय़ा कथित ॥२०॥ द्विजातिगणेर आनुपूर्व्विक शुश्रूषाइ शूद्रेर धर्म्म ; आर कारुकर्म्म ओ चारण-कर्म्म ( स्तुतिपाठ ओ नटकर्म्म ) इहाइ ताहादिगेर विशुद्ध वृत्ति ॥२१॥ गुरुकुले बास, अग्निसेवा ( अग्निहोत्ररक्षा ), स्वाध्याय़ ( वेदाध्ययन ), व्रतधारण ( यम, नियम, अस्तेय़, अहिंसा ओ शौचेर अनुष्ठान ), त्रिकाल स्नान, भिक्षाबलम्बन एबং यावज्जीवन गुरुर निकट अबस्थान ; गुरुर अभाव हइले ऐभावे गुरुपुत्रेर निकट अबस्थान किंवा गुरुपुत्रेर अभावे बा अनुप- युक्तताप्रयुक्त निजेर न्याय़ समान ब्रह्मचर्य्यानुष्ठानकारीर निकट बास करिबे ; अथवा इच्छानुसारे [ ब्रह्मचर्य्य त्याग करिय़ा ] आश्रमान्तर अर्थात् गार्हस्थ्याश्रम ग्रहण करिबे, इहाइ ब्रह्मचारीर धर्म्म ॥२२-२३॥ अथवा सेइ ब्रह्मचारी ये पर्य्यन्त विद्याग्रहण ना हय़, ততদিন मेखला जटा-धारण अथवा दण्डी हइय़ा मस्तक-मुण्डन करिय़ा गुरुर आश्रये बास करिबे ; अथवा इच्छानुसारे गृहस्थाश्रमे गमन करिबे ॥२४॥ अग्निहोत्ररक्षा, स्ववर्णोचित कर्म्मद्वारा जीविकानिर्व्वाह, पर्व्व ( अष्टमी,
১৬ কামন্দকীয় নীতিসার। চতুর্দ্দশী, অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও সংক্রান্তি) পরিত্যাগ করিয়া যথাকালে ধর্ম্মপত্নীতে অভিগমন, দেবতাপূজা, পিতৃলোকের শ্রাদ্ধ, অতিথিসেবা, দরিদ্রের প্রতি দয়া এবং বেদ ও স্মৃতিবিহিত কার্য্যের অনুষ্ঠান—ইহাই গৃহস্থের ধর্ম্ম ॥২৫-২৬॥ জটাধারণ, অগ্নিহোত্ররক্ষা, ভূমিশয্যা, অজিনধারণ, বনে বাস, জল, মূল, নীবার (তৃণধান্য) ও ফল দ্বারা জীবিকানির্ব্বাহ, প্রতিগ্রহনিবৃত্তি, ত্রিসন্ধ্যা- স্নান, ব্রতধারণ, দেবতা এবং অতিথি পূজা এইগুলি বানপ্রস্থের ধর্ম্ম ॥২৭-২৮॥ সর্ব্বকৰ্ম্ম পরিত্যাগ, ভিক্ষান্নভোজন, বৃক্ষমূলে বাস, প্রতিগ্রহ ত্যাগ, অহিংসা, সকল জীবে সমদর্শিতা, প্রিয় এবং অপ্রিয় বস্তুতে আসক্তি ত্যাগ, সুখে দুঃখে বিকার রাহিত্য, বাহ্য এবং অভ্যন্তরে শুচিভাব, বাক্সংযম, ব্রত- পালন, সমস্ত ইন্দ্রিয়ের সংযম, ধ্যানধারণাযুক্ত হওয়া এবং ভাবশুদ্ধি—এইগুলি পরিব্রাজকের ধর্ম্ম বলিয়া কথিত ॥২৯-৩১॥ অহিংসা, প্রিয় বাক্য, সত্য আচরণ, শৌচ, দয়া এবং ক্ষমা এইগুলি চারিবর্ণের ও চারি আশ্রমের সাধারণ ধর্ম্ম বলিয়া কথিত ॥৩২॥ এই ধর্ম্ম সমস্ত বর্ণের সমস্ত আশ্রমীর অনন্ত স্বর্গের কারণ; এই ধর্ম্মের অভাব হইলে বর্ণসঙ্করের উদয়ে পৃথিবী বিনষ্ট হয় ॥৩৩॥ ভূপতি যথাবিধি এই সমস্ত ধর্ম্মের প্রবর্ত্তক; তাঁহার অভাবে ধর্ম্মনাশ হয় এবং ধর্ম্মনাশ হইলে রাজত্ব নষ্ট হয় ॥৩৪॥ যে নরপতি বর্ণ এবং আশ্রমের আচার পালন করেন, বর্ণ এবং আশ্রমের বিভাগ অবগত আছেন এবং বর্ণাশ্রম রক্ষা করেন, তিনি স্বর্গসুখ ভোগ করেন ॥৩৫॥ দণ্ডমাহাত্ম্য। মনস্বী রাজা পূর্ব্ব নিয়ম পালন পরায়ণ হইয়া উভয় লোক প্রাপ্ত হইবার যোগ্য হন। অতএব তিনি দণ্ডধর যমের ন্যায় সম্যক্রূপে প্রজাবর্গের দণ্ড ধারণ করিবেন ॥৩৬॥ নরপতি তীক্ষ্ণ-দণ্ড প্রয়োগ করিলে লোক সকল উদ্বিগ্ন হয়, আর মৃদু দণ্ড প্রয়োগ করিলে স্বয়ং পরাভূত হন; সুতরাং
২য় সর্গ] দণ্ডমাহাত্ম্য। ১৭ উপযুক্তভাবে দণ্ডধারণ করিলে প্রশংসনীয় হন॥৩৭॥ রাজার দণ্ড যদি যথাবিধি প্রযুক্ত হয় অর্থাৎ প্রচণ্ড বা মৃদু না হয়, তাহা হইলে ঐ যথাপ্রযুক্ত দণ্ড শীঘ্রই ত্রিবর্গ বৃদ্ধি করে এবং যদি রাজার দণ্ড সমঞ্জস (সম্যক্ উপযুক্ত) না হয়, তাহা হইলে সেই দণ্ড বনবাসী মুনিদিগকেও কুপিত করিয়া তোলে॥৩৮॥ যে দণ্ড লোক-ব্যবহার-সিদ্ধ এবং শাস্ত্রানুসারী, সেইরূপ দণ্ডেরই বিধান করা উচিত। এই দণ্ডই রাজশ্রীর উত্তেজনা করে না। উত্তেজনাকারী দণ্ডই অধর্ম্মজনক। অধর্ম্ম হইতেই নরপতির ধ্বংস ঘটে॥৩৯॥ পরস্পর লোভবশবর্ত্তিতা হেতু লোক সকল বিভিন্ন মতাবলম্বী হয়। অতএব দণ্ডের অভাব হইলে ধ্বংসকারী-মৎস্যন্যায় প্রবৃত্ত হয়, অর্থাৎ লোক লোভবশতঃ পরস্পর হিংসাবৃত্তি অবলম্বন করে; বৃহৎ মৎস্য যেমন ক্ষুদ্র মৎস্যকে ভক্ষণ করে, তদ্রূপ সমর্থ ব্যক্তি অসমর্থ ব্যক্তির উপর প্রভুত্ব করে; কিন্তু দণ্ড যথাযথ প্রযুক্ত হইলে এই অত্যাচার হয় না। দণ্ডের অভাব ঘটিলেই এই অত্যাচার ঘটিয়া থাকে॥৪০॥ দণ্ডের অভাব ঘটিলে কামলোভাদির প্রবলতা হয়, তাহাতে জগৎ অবলম্বন শূন্য হইয়া নরকে (পাপে) নিমগ্ন হইয়া যায়। রাজা দণ্ডধারণ করিয়া জগৎকে সৎপথে পরিচালিত করিয়া রক্ষা করেন॥৪১॥ এই জগৎ স্বভাবতঃ শব্দ-স্পর্শাদি বিষয়ের বশীভূত। জগতের সকল লোকই পরস্পর কামিনী-কাঞ্চনের জন্য লোলুপ। এই উন্মার্গগামী জগৎ দণ্ড-ভয় দ্বারা পরিপীড়িত হইলে সজ্জন-সেবিত সনাতন ধর্ম্মপথে প্রতিষ্ঠিত হইয়া থাকে॥৪২॥ এই জগতে সচ্চরিত্র লোক দুর্লভ। কুলকামিনী যেমন দণ্ডপ্রাপ্তির ভয়ে দুর্ব্বল, বিকলাঙ্গ, ব্যাধিগ্রস্ত অথবা নির্ধন স্বামীর আনুগত্য স্বীকার করে, সেইরূপ দণ্ডপ্রয়োগের ভয়ে সর্ব্বদা বিষয়লোভীব্যক্তি পরের বশবর্ত্তিতা স্বীকার করে॥৪৩॥ বিষয়ের দোষগুণ গণনা ও বিচার করিয়া এবং শাস্ত্র মানিয়া যে রাজা ২
১৮ কামন্দকীয় নীতিসার। সংযতচিত্তে দণ্ডনীতি দ্বারা প্রজাদিগকে নিয়ন্ত্রিত করিয়া থাকেন, নদীসমূহ যেমন উপযুক্ত পথে সন্তরণপূর্ব্বক অটলভাবে চিরকাল থাকিবার জন্য সমুদ্রে প্রবেশ করে, সেইরূপ সমস্ত সম্পত্তি যোগ্যপথে পরিচালিত হইয়া চিরস্থায়ী হইবার জন্য সেই রাজার নিকট গমন করে ॥৪৪॥ ইতি কামন্দকীয় নীতিসারে বিদ্যাবিভাগ-বর্ণাশ্রমবিভাগ-দণ্ডমাহাত্ম্য নামক দ্বিতীয় সর্গ। তৃতীয় সর্গ। আচার-ব্যবস্থাপন। ধরণীপতি দণ্ডধর যমের ন্যায় প্রজাবর্গের উপর দণ্ডধারণ করিয়া স্বয়ং প্রজাপতির ন্যায় তাহাদিগকে সম্যকরূপে অনুগ্রহ করিবেন ॥১॥ সত্য অথচ প্রিয়-বাক্য, দয়া, দান, দীন ও শরণাগতের রক্ষা এই সমস্ত আর সাধুসঙ্গ ইহাই উৎকৃষ্ট সৎপুরুষের আচরণ ॥২॥ [ সৎপুরুষেরা ] হৃদয়গত গুরুতর দুঃখে আক্রান্ত হইয়া অত্যন্ত করুণার্দ্র-হৃদয় ব্যক্তির ন্যায় দীনজনের উদ্ধার করেন ॥৩॥ যাঁহারা সৎপুরুষব্রত দ্বারা দুঃখপঙ্কিলসাগরে নিমগ্ন দীনজনকে উদ্ধার করিয়া থাকেন, তাঁহাদের অপেক্ষা সাধু ব্যক্তি আর নাই ॥৪॥ ভূপতি অত্যন্ত দয়ার্দ্রচিত্ত হইয়া ধর্ম্ম হইতে বিচলিত না হইয়া পীড়িত এবং অনাথ প্রজাবর্গের দুঃখ মোচন করিবেন ॥৫॥ নৃশংসতা পরিত্যাগই শ্রেষ্ঠ ধর্ম্ম, ইহাই সকল প্রাণিবর্গের অভিমত। অতএব রাজা নৃশংসতা পরিত্যাগ করিয়া দীনজনকে পালন করিবেন ॥৬॥ নরপতি আপনার সুখের জন্য অনাথ ব্যক্তির পীড়ন করিবেন না; যে হেতু উৎপীড়নে ব্যথিত অনাথ ব্যক্তির অভিশাপ রাজাকে বিনষ্ট করে ॥৭॥ সৎকুলজাত এমন কোন ব্যক্তি সামান্য সুখের প্রত্যাশায় প্রলুব্ধ
३य सर्ग ] आचारव्यवस्थापन। १९ हइया अविचारपूर्वक अल्पसार अर्थात् दुर्बल प्रजागणके पीड़ित करिते पारेन? ॥८॥ आधि (मनःपीडा) ओ व्याधिग्रस्त एवं अद्यइ हउक बा कल्लइ हउक याहा ध्वंसशील, एमन शरीरेर निमित्त कोन व्यक्ति धर्म- विगर्हित कार्य्य करिते प्रस्तुत हन? ॥९॥ आहार्य्य द्रव्य द्वारा अति कष्टे अल्पदिनेर जन्य शरीर हृष्टपुष्ट हय। इहाके छायामात्र अर्थात् असार एवं जलबिन्दुर न्याय अचिरस्थायी देखिबे ॥१०॥ प्रचण्ड पवनेर आघाते भङ्गुर मेघमालार न्याय विषय रूप-शत्रुगण कर्तृक কিরূপে महानुभव व्यक्तिगण आकृष्ट हइते पारेन? ॥११॥ देहधारिप्राणिगणेर जीवन जले प्रतिबिम्बित चन्द्रेर न्याय चपल। जीवनके एइरूप जानिया नित्य मङ्गलकर कार्य्येर अनुष्ठान करिबे ॥१२॥ क्षणभङ्गुर एइ जगत्के मृगतृष्णार तुल्य देखिया धर्मेर जन्य एवं सुखेर जन्य सज्जनगणेर सहित सङ्ग करिबे ॥१३॥ सुधाकरेर रश्मिजाले प्रासाद येरूप सुधालिप्तेर न्याय शोभा पाइया थाके, सेइरूप श्रीमान् व्यक्ति सज्जनगण कर्तृक सेवित हइया अतिशय दीप्ति पाइया थाकेन ॥१४॥ येरूप साधु लोकेर चेष्टा चित्तके आनन्दित करिते पारे, हिमांशुमाली चन्द्र एवं विकसित कमलिनीमालाय मण्डित सरोवरओ सेइरूप मनके आनन्दित करिते पारे ना ॥१५॥ निदाघकालीन सूर्य्यकिरणे सन्तप्त अतएव उद्वेगजनक एवं आश्रयशून्य मरुभूमिर न्याय दुष्ट लोकेर संश्रव वर्जन करिबे ॥१६॥ अनल येमन शुष्क वृक्षके दग्ध करे, सेइरूप दुर्जन सहसा शास्त्रज्ञ ओ सुशील व्यक्तिगणेर मध्ये प्रवेश करिया सर्व्वनाश साधन करे। अर्थात् छिद्रान्वेषी खल प्रथमे सद्ब्यवहार करिया साधुव्यक्तिर मन आकर्षण करे, शेषे अवसर बुझिया ताहाके असत् पथे चालित करिया ताहार ध्वंस साधन करे ॥१७॥ ये सकल सर्पेर निःश्वास अग्नि उद्गीरण करे एवं सेइ अग्निर धूम द्वारा ताहादेर मुख धूम्रवर्ण धारण करे, एइरूप भीषण सर्पेर सहित सङ्गओ बरं भाल तथापि दुर्जनगणेर सहित कदापि संसर्ग करिबे ना ॥१८॥
২০ কামন্দকীয় নীতিসার। নিৰ্ম্মলচিত্ত ব্যক্তিগণ যে হস্ত দ্বারা খাদ্য সামগ্রী দান করেন, দুর্বৃত্ত ব্যক্তি বিড়ালের ন্যায় সেই হস্তকেই নষ্ট করে অর্থাৎ দানের পথ মারিয়া দেয় ॥১৯॥ তীব্র বিষ যেমন উৎকৃষ্ট মন্ত্রশক্তির অসাধ্য, সেইরূপ তীব্রবাক্যরূপ বিষও উৎকৃষ্ট মন্ত্রণার অসাধ্য অর্থাৎ দুষ্টের বাক্য যে অনর্থ ঘটায় তাহার কোনরূপে সংশোধন হয় না। ফলতঃ দুষ্টবাক্যরূপ বিষউদ্গীরণকারী দুষ্ট দুর্জ্জন ব্যক্তি সর্পের ন্যায় দুইটি জিহ্বা ধারণ করে অর্থাৎ মুখে একরূপ বলে এবং অন্তরে অন্যরূপ ভাব রাখে ॥২০॥ পূজনীয় সজ্জনকে যেরূপ সম্মান করিতে হয়, নিজের হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি দুর্জ্জনকে তদপেক্ষা অধিকতর সম্মান করিবে ॥২১॥ উৎকৃষ্ট মিত্রতার নিমিত্ত এবং উত্তমরূপে সকল লোককে স্বপথে রাখিবার জন্য সকলের আনন্দবর্দ্ধক লৌকিক বাক্য ব্যবহার করিবে ॥২২॥ মানপ্রদবাক্য দ্বারা সর্ব্বদা লোকদিগকে আহ্লাদিত করিবে। নিষ্ঠুরবাক্য- প্রয়োগকারী ঐশ্বর্য্যে কুবের হইলেও লোকের উদ্বেগকারী হয় ॥২৩॥ যে বাক্য হৃদয়ে বিদ্ধ হইলে মনুষ্য অত্যন্ত সন্তপ্ত হইয়া থাকে, মেধাবী ব্যক্তি ঐরূপ বাক্যে পীড়িত হইয়াও তাদৃশ বাক্য প্রয়োগ করিবে না ॥২৪॥ নীতিভ্রষ্ট- লোকগণের প্রযুক্ত তীক্ষ্ণ এবং উদ্বেগজনক বাক্য সমুদয় অস্ত্রের ন্যায় মানুষের মর্ম্মচ্ছেদ করিয়া থাকে ॥২৫॥ কি সাধু, কি অসাধু, কি শত্রু, কি মিত্র সকলের প্রতিই সর্ব্বদা প্রিয় বাক্য বলিবে। মধুর কেকারবকারী ময়ূরের ন্যায় মিষ্টভাষী ব্যক্তি কাহার প্রিয় না হয়? ॥২৬॥ ময়ূরের মদমত্ত অবস্থার কেকারব ময়ূরকে অলঙ্কৃত করে। পণ্ডিতগণের মাধুর্য্য-গুণযুক্ত- বাক্যও তাঁহাদিগকে অতিশয় বিভূষিত করে ॥২৭॥ সুপণ্ডিতের মধুর বাক্য যেমন মনোহারী হয়, মদমত্ত হংস কোকিল ও ময়ূরের রব তেমন মনোহারী হয় না ॥২৮॥ গুণানুরাগী মর্য্যাদাপরিপালক ব্যক্তি শ্রদ্ধার সহিত দয়া-প্রবণ হইয়া ধর্ম্মের নিমিত্ত ধন বিতরণ করিবে ও মিষ্ট বাক্য বলিবে ॥২৯॥ যাঁহারা প্রিয় বাক্য বলিয়া থাকেন এবং সংকার (সম্মান) প্রদান করেন, সেই
৩য় সর্গ ] আচারব্যবস্থাপন। ২১ সকল শ্রীমান্ অনিন্দনীয়-চরিত-ব্যক্তিগণ নরদেহধারী দেবতা ॥৩০॥ পবিত্র হইয়া আস্তিক্যবুদ্ধি সহকারে পূতাত্মা ব্যক্তি সর্ব্বদা দেবতাদিগের পূজা করিবে ; গুরুজনদিগকে দেবতার ন্যায় পূজা করিবে এবং সুহৃদগণকে নিজের ন্যায় দেখিবে ॥৩১॥ ঐশ্বর্য্য লাভের নিমিত্ত প্রণতিদ্বারা গুরুজনদিগকে, সাঙ্গ-বেদাধ্যায়ীর উপযুক্ত চেষ্টা দ্বারা সজ্জনদিগকে এবং যাগাদি পুণ্য কর্ম্ম দ্বারা দেবতাদিগকে অনুকূল করিবে ॥৩২॥ বিশ্বাস দ্বারা মিত্রকে, সম্ভ্রম দ্বারা বান্ধবগণকে, প্রেমদ্বারা স্ত্রীকে, দান দ্বারা ভৃত্যগণকে এবং সরল ব্যবহার দ্বারা জনসাধারণের মন হরণ করিবে ॥৩৩॥ পরের অনুষ্ঠিত কার্যকলাপের নিন্দা করিবে না ; নিজের ধর্ম্ম পালন করিবে ; দীনের প্রতি দয়া প্রকাশ, সর্ব্বত্র মধুর বাক্য প্রয়োগ, এবং অব্যভিচারি ( অকপট ) মিত্রের জন্য প্রাণ দিয়া উপকার করিবে। গৃহে সমাগত ব্যক্তির আদর, শক্তি অনুসারে দান এবং সহিষ্ণুতা প্রকাশ করিবে ; ( নিজের ঐশ্বর্য্যে গর্ব্বিত হইবে না, পরের বৃদ্ধিতে মাৎসর্য্য প্রকাশ করিবে না, অন্যের মনস্তাপজনক বাক্য বলিবে না, এবং বাচালতা প্রকাশ করিবে না ; ) * বন্ধুগণের সহিত অবিশ্লিষ্ট সম্বন্ধ, সজ্জনের সহিত চতুরতা পরিহার এবং সজ্জনের চরিত্রানুসরণ—এই সমস্তই মহাত্মাদিগের লক্ষণ ॥৩৪-৩৬॥ সনাতন ধর্ম্মপথে উত্তম ভাবে অবস্থিত গৃহস্থ- গণের ইহাই অভিমত পথ ; যে ব্যক্তি মহাত্মাদিগের আচরিত এই পথে গমন করেন তিনি ইহলোক ও পরলোক লাভ করিয়া থাকেন ॥৩৭॥ এই পূর্ব্বোক্ত সনাতন পথে নিবিষ্টচিত্ত ব্যক্তির শত্রুও মিত্র হইয়া যায়। অতএব রাজা মাৎসর্য্য বিহীন হইলে, তাঁহার বিনয়গুণে জগৎ বশীভূত হয় ॥৩৮॥ রাজার গর্ব্বই বা কোথায় ? আর প্রজা সংগ্রহই বা কোথায় ? [ এই উভয়ের অনেক পার্থক্য ; ] কেবল মধুর বাক্য প্রয়োগেই লোক-সংগ্রহ করা যায় ; মধুর বচন রূপ পাশে বদ্ধ হইয়া লোক কোনরূপেই মর্যাদালঙ্ঘন করিতে
- ৩৫—৩৬ সংখ্যার মধ্যে বন্ধনীর মধ্যস্থ শ্লোকটি টু ভাঙ্করের সংস্করণে অতিরিক্ত আছে। ইহা ঐ পুস্তকের ৩৬ সংখ্যার শ্লোক ॥
২২ কামন্দকীয় নীতিসার। পারে না ॥৩৯॥ ইতি কামন্দকীয় নীতিসারে আচারব্যবস্থাপন নামক তৃতীয় সর্গ॥ চতুর্থ সর্গ। প্রকৃতি সম্পৎ। স্বামী (রাজা), অমাত্য (মন্ত্রী), রাষ্ট্র, দুর্গ, কোশ (ধন), বল (সৈন্য), এবং সুহৃৎ (মিত্র রাজা), ইহারা পরস্পর উপকারী এবং ইহাকেই সপ্তাঙ্গ রাজ্য বলে ॥১॥ এই সপ্তাঙ্গ রাজ্যের যদি একাঙ্গেরও বিকল হয় তাহা হইলে সেই রাজ্যের কল্যাণ থাকে না। অতএব রাজা রাজ্যের সর্ব্বাঙ্গ অক্ষুণ্ণ রাখিবার জন্য সর্ব্বদা রাজ্যাঙ্গের পরীক্ষা করিবেন ॥২॥ রাজা প্রথমে আপনাকে গুণযুক্ত করিবার ইচ্ছা করিবেন। পরে গুণান্বিত হইয়া অবশিষ্ট ষড়ঙ্গের পরীক্ষা করিবেন ॥৩॥ ভূতলে দেবত্ব অর্থাৎ রাজপদ সর্ব্বোৎকৃষ্ট। অসংযত-চিত্ত মানবগণের পক্ষে এই ভূতলদেবত্ব নিতান্ত দুর্দ্ধার্য্য। যে ব্যক্তির আত্মসংস্কার হইয়াছে অর্থাৎ চিত্ত-সংযত হইয়াছে তিনিই রাজা হইবার যোগ্য ॥৪॥ রাজলক্ষ্মী লোককে আশ্রয় করিয়া থাকে (অর্থাৎ প্রজা- বর্গের পোষকতায় অক্ষুণ্ণ থাকে); ইহা দুঃখে অর্জ্জিত হয় এবং কষ্টে পরি- রক্ষিত হয়। নির্ম্মল পাত্রে জল যেমন থাকে সেইরূপ সংস্কৃত অর্থাৎ গুণবান্ ব্যক্তিতেই সম্পৎ চিরকাল বর্ত্তমান থাকে ॥৫॥ কুল, সত্ত্ব (সাহসের সহিত শক্তি), যৌবন, শীল (সচ্চরিত্র), দাক্ষিণ্য (পরানুকূল্য), ক্ষিপ্রকারিতা, অবিসংবাদিতা, সত্যবাদিতা, বৃদ্ধসেবা (প্রাজ্ঞসেবিতা), কৃতজ্ঞতা, দৈবের আনুকূল্য, বুদ্ধি, মহৎ পরিবারযুক্ততা, বশীভূতসামন্তসম্পন্নতা, দৃঢ়ভক্তি, দূরদর্শিতা, উৎসাহ, পবিত্রতা, স্থূললক্ষ্যতা অর্থাৎ বড় নজর, বিনয় এবং ধর্ম্মশীলতা—এই সকল গুণ সংস্কৃত (অর্থাৎ সাধু) ব্যক্তিতে প্রকাশ পায় ॥৬—৮॥ এই সকল গুণযুক্ত হইলে