कामन्दकीय नीतिसार (आचार्य कामन्दक - प्राचीन भारतीय राजनीति शास्त्र)
Kamandakiya Nitisara with Hindi Commentary
आचार्य कामन्दक / पं. ज्वालाप्रसाद मिश्र द्वारा
১০ম সর্গ] বিগ্রহ-বিকল্প। ৬৭ এবং একটি বিষয় লাভের জন্য উভয়ের আকাঙ্ক্ষা—এই সমুদয় বিগ্রহের উৎপত্তি স্থান ॥২-৫॥ রাজ্য, স্ত্রী, স্থান ও দেশের অপহরণ জনিত যে যুদ্ধ বাধে তাহা দানদ্বারা ( অর্থাৎ কোষ, অশ্বাদি অথবা ভূমি প্রদান দ্বারা ) কিংবা দম দ্বারা (অর্থাৎ গুপ্তদণ্ডদ্বারা ) প্রশমন হয়, ইহাই যুক্তিজ্ঞ ব্যক্তিগণের অভিমত ॥৬॥ স্বার্থ এবং ধর্ম্মহানিতে যে যুদ্ধ উপস্থিত হয় তাহা দান অথবা দম দ্বারা প্রশমিত হইয়া থাকে। বিষয় ধ্বংস হইতে যে যুদ্ধ উপস্থিত হয় তাহা শত্রুর বিষয়ের ধ্বংস দ্বারা প্রশমিত হয় ॥৭॥ যানের (পাঠান্তরে—জ্ঞানের) অপহরণ হইতে যে যুদ্ধ হয় তাহা উপেক্ষা দ্বারা, জ্ঞানের ব্যাঘাত অর্থাৎ শিক্ষাহানি হইতে যে যুদ্ধ হয় তাহা ক্ষমা দ্বারা এবং শক্তির হানিপ্রযুক্ত যে যুদ্ধ হয় তাহা ঐ শক্তির পরিত্যাগ দ্বারা শান্তি হইয়া থাকে ॥৮॥ অধার্ম্মিক অনিষ্ট-চিন্তাকারী মিত্রকে লইয়া যুদ্ধ উপস্থিত হইলে উপেক্ষা করিবে; আর আত্মতুল্য মিত্রকে লইয়া যুদ্ধ উপস্থিত হইলে তাহার জন্য প্রাণ পর্য্যন্ত বিসর্জ্জন দিবে ॥৯॥ অপমান হইতে যে যুদ্ধ উপস্থিত হয় সম্মান প্রদান করিয়া তাহার উপশম করিবে। আর অভিমান হইতে যে যুদ্ধ উপস্থিত হয়, সাম পূর্ব্বক উপায় অর্থাৎ সাম ও দান দ্বারা অথবা নম্রতা স্বীকার করিয়া তাহার শান্তি-বিধান করিবে ॥১০॥ বন্ধুর বিনাশ হইতে যে বিগ্রহ জন্মে তাহা ধীরব্যক্তি গুপ্তভাবে সামাদি নীতিপ্রয়োগ দ্বারা অথবা রহস্য-করণ (অর্থাৎ ঐন্দ্রজালিক মায়া) দ্বারা প্রশমিত করিবে ॥১১॥ উভয়ের এক বস্তু লাভের জন্য যে বিগ্রহ উপস্থিত হয়, বিচক্ষণ ব্যক্তি তাহার পরিহারের জন্য ঐ বস্তুর লাভেচ্ছা ত্যাগ করিবে ॥১২॥ শত্রুকর্তৃক ধনের অপচয় ঘটিলেও যুদ্ধ করা উচিত নয়, কেননা সময় সময় যুদ্ধে লোকের সর্ব্বনাশও হইয়া থাকে। (প্রসিদ্ধদৃষ্টান্তযুক্তদানাদি দ্বারা) * এবং ভেদ-সাধন দ্বারা মহাজন জনিত (অর্থাৎ শৌর্য্যবীর্য্যশালী মদোদ্ধত ব্যক্তির সহিত) বিরোধের
- এই বন্ধনীর অংশ ট্রি ভাক্কুর সংস্করণে ১৪ সংখ্যক শ্লোকে অতিরিক্ত আছে।
প্রশমন করিবে ॥১৩॥ প্রাণিবর্গের রক্ষাই রাজধর্ম্ম। ঐ ধর্ম্মের হস্তারক হইলে যে বিগ্রহ উপস্থিত হয়, তাহা মিষ্ট বাক্যে প্রশমিত করিবে (পাঠান্তরে— জিতেন্দ্ৰিয় ব্যক্তি ঐরূপ বিগ্রহের শান্তি-স্থাপন করিবেন অর্থাৎ মধ্যস্থ হইয়া মীমাংসা করিবেন)। দৈব-হেতুক বিগ্রহের দৈবশান্তি প্রভৃতি উপায় দ্বারা প্রশমন করিবে; ইহাই সাধুদিগের সম্মত ॥১৪॥ মণ্ডলের ক্ষোভ-জনিত- বিগ্রহ উপস্থিত হইলে তাহা সামপ্রভৃতি উপায় দ্বারা প্রশান্ত করিবে ॥১৪১/২॥ সাপত্ন্য ( একার্থাভিনিবেশ জন্য ), বাস্তুজ (বাসভূমির হরণ জন্য), স্ত্রীহরণ জন্য, অজ্ঞাত কারণে উপস্থিত (পাঠান্তরে—বাগ্জাত, বাক্য হইতে উৎপন্ন) এবং অপরাধ হইতে উৎপন্ন—এই পাঁচ প্রকার বৈর অর্থাৎ বিরোধের স্থান, ইহা শত্রুতার প্রভেদ-বিষয়ে দক্ষ পণ্ডিতগণ স্বীকার করেন॥ ভূমির অবরোধ, শক্তির ব্যাঘাত, ভূম্যন্তর অর্থাৎ পাশাপাশি ভূমি থাকা এবং মণ্ডলের ক্ষোভ হইতে শত্রুতা জন্মে; এই চারি প্রকারই শত্রুতার স্থান, ইহা বাহুদন্তীপুত্র স্বীকার করেন ॥১৫-১৭॥ কুলজ অর্থাৎ একার্থাভিনিবেশের অন্তর্গত সহজ-বৈর এবং অপরাধজ অর্থাৎ অপরাধ হইতে উৎপন্ন কৃত্রিম-বৈর, এই দুই প্রকার শত্রুতার স্থান মনুশিষ্যগণ স্বীকার করেন ॥১৭১/২॥ যে যুদ্ধ অল্প ফলপ্রদ ১, যে যুদ্ধ নিষ্ফল ২, যে যুদ্ধে ফলের সন্দেহ ৩, যে যুদ্ধে তৎকালে (বর্ত্তমানে) দোষজনক ৪, যে যুদ্ধ উত্তরকালে নিষ্ফল ৫, যে যুদ্ধ বর্ত্তমানে ও ভবিষ্যতে দোষজনক ৬, যে যুদ্ধ অপরিজ্ঞাত-বীৰ্য্যশালী- শত্রুর সহিত ৭, যে যুদ্ধ শত্রু কর্তৃক স্তম্ভিত হইয়াছে ৮, যে যুদ্ধ অপরের জন্য ৯, যে যুদ্ধ সাধারণ স্ত্রীর নিমিত্ত ১০, যে যুদ্ধ দীর্ঘকালব্যাপী ১১, যে যুদ্ধ উৎকৃষ্ট-ব্রাহ্মণগণের সহিত ১২, যে যুদ্ধে শত্রু হঠাৎ দৈববল যুক্ত ১৩, যে যুদ্ধে শত্রু বলবান্ মিত্রযুক্ত ১৪, যে যুদ্ধ বর্ত্তমানে ফলজনক কিন্তু ভবিষ্যতে ফল শূন্য ১৫, এবং যে যুদ্ধ ভবিষ্যতে ফলযুক্ত কিন্তু বর্ত্তমানে নিষ্ফল ১৬, এই ষোড়শ প্রকার যুদ্ধ করিবে না ॥১৮-২২॥
১০ম সর্গ ] বিগ্রহ-বিকল্প । ৮৯ বিচক্ষণ ব্যক্তি তৎকালে ও উত্তরকালে যাহা বিশুদ্ধ তাহাই আরম্ভ করিবেন এবং যে সকল কার্য্য তৎকালে ও ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ অর্থাৎ দোষ- শূন্য তাহারই চিন্তা করিবেন। এইরূপে উভয়কালে বিশুদ্ধ কার্য্য করিলে নিন্দনীয় হইতে হয় না ॥২৩॥ বিদ্বান্ ব্যক্তি ইহলোকে ও পরলোকে অবিরুদ্ধ উত্তম কার্য্য করিবেন। সামান্য অর্থের লোভে, ইহলোক অর্থাৎ এই জগতের মান সম্ভ্রম হারাইবেন না; পরলোক-বিরুদ্ধ-কার্য্যকারী ব্যক্তিকে দূরে পরিহার করিবেন। উক্ত প্রমাণগুলি আগম-(শাস্ত্র)সিদ্ধ, অতএব উভয় লোকে যাহা সাধু কল্যাণকর কার্য্য তাহাই করিবেন ॥২৪-২৫॥ বুদ্ধিমান্ ব্যক্তি যখন নিজ সৈন্য সামন্তকে হৃষ্ট পুষ্ট অর্থাৎ উৎসাহযুক্ত ও বলবান্ দেখিবে এবং শত্রুর ইহার বিপরীত দেখিবে তখন যুদ্ধ আরম্ভ করিবে ॥২৬॥ যখন নিজের প্রকৃতি-মণ্ডল স্ফীত অর্থাৎ অতিবলবান্ ও অনুরক্ত দেখিবে, আর শত্রুকে ইহার বিপরীত ভাবাপন্ন দেখিবে তখন বিগ্রহ করিবে ॥২৭॥ যখন দৈব অনুকূল বলিয়া স্পষ্টই লক্ষিত হইতেছে অর্থাৎ যখন অল্পমাত্র পুরস্কার দ্বারা দুঃসাধ্যকার্য্যও অনায়াসে সাধিত হইতেছে এবং শত্রুর ইহার বিপরীত দেখা যাইতেছে তখন বিগ্রহ করিবে ॥ক॥ যখন মিত্র, আক্রন্দ ও আসার ইহারা অত্যন্ত অনুগত এবং শত্রুর ইহার বিপরীত তখন বিগ্রহ করিবে ॥খ॥ *। ভূমি, মিত্র ও হিরণ্য—এই তিনটি বিগ্রহের ফল। যখন এই তিনটি অবশ্যই পাইবার নিশ্চয় হয় তখন বিগ্রহ করিবে ॥২৮॥ প্রথমতঃ অর্থই শ্রেষ্ঠ, তদপেক্ষায় মিত্র শ্রেষ্ঠ, তদপেক্ষায় ভূমি শ্রেষ্ঠ; এই সমস্তই ভূমির বিভব; এই সকল ভূমির বিভূতি অপেক্ষায় বন্ধু (প্রিয়ব্যক্তির বিচ্ছেদ অসহিষ্ণু) এবং সুহৃৎ (সতত অনুমত সঙ্গী) শ্রেষ্ঠ ॥২৯॥ বিপক্ষ যদি সকলপ্রকার ঐশ্বর্য্যে সমান হয় তাহা হইলে বিচক্ষণ ব্যক্তি সেই শত্রুর প্রতি সাম প্রভৃতি উপায় প্রয়োগ করিবে। আর যদি নিজের উপায় গুলি শত্রু
- ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণে ক, খ, ইহাদের সংখ্যা ২৯ ১/২, ৩০ ১/২, এই দুইটি শ্লোক কলিকাতা সংস্করণে নাই।
৭০ কামন্দকীয় নীতিসার। প্রতিহত করিতে সমর্থ না হয় তাহা হইলে ঐ সমবল শত্রুর প্রতি দণ্ড প্রশস্ত ॥৩০॥ বিদ্বান্ ব্যক্তি বিগ্রহ উপস্থিত হইলে সামাদি উপায় দ্বারা উহা প্রশমিত করিবেন এবং জয়লাভ অনিশ্চিত বলিয়া সবেগে অগ্রসর হইবেন না ॥৩০॥ প্রবল শত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হইয়াও যিনি অবিনাশী সম্পৎ লাভ করিতে ইচ্ছা করেন, তিনি বৈতসী-বৃত্তি অবলম্বন করিবেন অর্থাৎ বেতকে যেমন ইচ্ছামত ঘোরান ফেরান ও বাঁকান যায় সেইরূপ প্রবল শত্রুর মতানুবর্ত্তী হইয়া চলিবেন; কিন্তু ভুজঙ্গের বৃত্তি অনুসরণ করিবেন না অর্থাৎ সাপের ন্যায় তেড়ে কামড়াইতে যাইবেন না ॥৩২॥ বেতসবৃত্তি অবলম্বনকারী ব্যক্তি ক্রমশঃ (কালক্রমে) অতুল ঐশ্বর্য্য প্রাপ্ত হয় এবং ভুজঙ্গবৃত্তি অবলম্বনকারী ব্যক্তি কেবল বধ প্রাপ্ত হয় ॥৩৩॥ (বেতসবৃত্তি অবলম্বনকারী) নীতিজ্ঞ ব্যক্তি মত্তপ্রমত্তের ন্যায় থাকিয়া সুযোগ উপস্থিত হইলে ঐ অপরিদৃশ্যমান (দুর্নিবার) শত্রুকে সিংহের ন্যায় লম্ফ দিয়া গ্রাস করিবে ॥৩৪॥ বুদ্ধিমান্ ব্যক্তি (অকালে) কূর্ম্মের ন্যায় সঙ্কুচিত হইয়া পীড়নও সহ্য করিবে কিন্তু সময় পাইলেই ক্রূরসর্পের ন্যায় দাঁড়াইবে ॥৩৫॥ কালবিশেষে পর্ব্বতের ন্যায় সহিষ্ণু হইতে হয় এবং কালবিশেষে অগ্নির ন্যায় অসহিষ্ণু হইতে হয়; আবার কালবিশেষেই শত্রুকে মিষ্ট কথা বলিয়া স্কন্ধেও বহন করিতে হয় ॥৩৬॥ (পুনরায় সুযোগ উপস্থিত হইলেই পাষাণে আছাড়িলে ঘট যেমন চূর্ণ হইয়া যায় শত্রুকেও সেইরূপ বিনষ্ট করিতে হয়। লোক নিয়তই স্বার্থপর। যেরূপে স্বার্থসিদ্ধি হয় সেইরূপভাবে পূর্ব্বোক্ত নিয়মানুসারে শত্রুর প্রতীকার করিবে।) * লোক-প্রসিদ্ধ সুব্যবহার দেখাইয়া প্রসন্নতাবৃত্তি অনুসরণপূর্ব্বক শত্রুর হৃদয়ে সর্ব্বদা প্রবেশ করিয়া (অর্থাৎ শত্রুর প্রতি অসন্দিগ্ধ- সদাচরণ দেখাইয়া শত্রুর অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন হইয়া) নীতি অবলম্বন পূর্ব্বক থাকিবে এবং কাল উপস্থিত হইলেই বলপূর্ব্বক রাজলক্ষ্মীর
- এই অংশ টূভান্তুর সংস্করণে ৩৯—৪০ সংখ্যার শ্লোকের মধ্যে অতিরিক্ত এবং ব্যাখ্যাকায় ও কলিকাতা সংস্করণে এ দুটি ধরে নাই।
১১শ সর্গ] যান, আসন, দ্বৈধীভাব ও সংশ্রয় বিকল্প। ৭১ কেশাকর্ষণ করিবে অর্থাৎ শত্রু-বিমর্দ্দন করিয়া তাহার রাজ্য গ্রহণ করিবে ॥৩৭॥ স্বকুলোৎপন্ন, সত্যবাদী, মহাপরাক্রমী, স্থৈর্য্যশালী, কৃতজ্ঞতাযুক্ত, ধৈর্য্য- শালী (পাঠান্তরে-বুদ্ধিমান্ ), অত্যন্ত বলবান্, অত্যন্ত বদান্য ও বাৎসল্যযুক্ত —এইরূপ গুণবান্ শত্রুকে নীতিজ্ঞেরা অত্যন্ত দুঃসাধ্য বলিয়া থাকেন ॥৩৮॥ মিথ্যাবাদিতা, নিষ্ঠুরতা, অকৃতজ্ঞতা, ভীরুতা, অনবধানতা, অলসতা, বিষণ্ণতা, বৃথাভিমানিতা, দীর্ঘসূত্রিতা এবং স্ত্রী ও অক্ষক্রীড়ায় আসক্ততা —এইগুলি লক্ষ্মীছাড়ার লক্ষণ ॥৩৯॥ [ রাজা ] স্বয়ং মন্ত্র, প্রভাব ও উৎসাহ এই ত্রিশক্তিযুক্ত হইয়া পূর্ব্বোক্ত- দোষ-গ্রস্ত শত্রুকে জয় করিবার জন্য শীঘ্রই অভিযান করিবেন। যিনি ইহার অন্যথা করেন, তিনি অবিদ্যান্ ও অসাধু ব্যক্তির সম্মত কার্য্য করিয়া আত্মঘাত করেন। ফলতঃ উপযুক্ত সময়ে নীতিভ্রষ্ট শত্রুকে দমন না করিলে নিজেই নিজের বিনাশের কারণ হইতে হয় ॥৪০॥ রাজ্যপদের উন্নতির আকাঙ্ক্ষাযুক্ত হইয়া চররূপচক্ষু দ্বারা (পাঠান্তরে—প্রজ্ঞাদ্বারা) মণ্ডলের কার্য্যসমুদয় পর্যবেক্ষণ করিয়া অটল উদ্যম সহকারে নরপতি পূর্ব্বোক্ত যুদ্ধপদ্ধতি অবলম্বন পূর্ব্বক কার্য্যসিদ্ধির জন্য যত্নবান্ হইবেন ॥৪১॥ ইতি কামন্দকীয়-নীতিসারে বিগ্রহ-বিকল্প (অর্থাৎ বিগ্রহের ভেদ) নামক দশম-সর্গ ॥ একাদশ-সর্গ। (১) যান, আসন, দ্বৈধীভাব ও সংশ্রয় বিকল্প। যাঁহার বল (অর্থাৎ দেশকালানুসারে শক্তি) ও বীর্য্য (উৎসাহ) শত্রুর অপেক্ষায় উৎকৃষ্ট, যিনি জয়াভিলাষী এবং যাঁহার অমাত্য প্রভৃতি (১) দশমসর্গ পর্যন্ত কলিকাতা সংস্করণের অনুসরণ করা হইয়াছে, সেই অনুসাবে
৭২ কামন্দকীয় নীতিসার। প্রকৃতিপুঞ্জ স্বামীর গুণে অনুরক্ত এইরূপ বিজিগীষু-নরপতির যাত্রাকেই যান (অভিযান) কহে ॥১॥ নীতিনিপুণ-ব্যক্তিগণ বিগৃহ্য-যান, সন্ধায়-যান, সম্ভূয়-যান, প্রসঙ্গ-যান এবং উপেক্ষা-যান এই পাঁচ প্রকার যান নির্দেশ করিয়াছেন ॥২॥ যেখানে বলবান্ (পাঠান্তরে—বলপূর্ব্বক) বিজিগীষু সমুদয় দ্রব্যপ্রকৃতির সহিত শত্রুর বিরুদ্ধে অভিযান করেন, তাহাকে যানজ্ঞ পণ্ডিতগণ বিগৃহ্য-যান বলিয়া থাকেন ॥৩॥ সম্মুখের এবং পশ্চাতের অরিপক্ষীয় মিত্রদিগের বিপক্ষে নিজের সম্মুখস্থ ও পশ্চাদ্বর্ত্তী মিত্রগণের যে অভিযান তাহাও বিগৃহ্যযান বলিয়া অভিমত। [ এই দুই প্রকার বিগৃহ্য-যান ] ॥৪॥ (চেষ্টার অবরোধকারী শত্রুগণের সহিত সন্ধি করিয়া যেখানে অপর শত্রুর প্রতি অভিযান করা হয়, তাহাকে সন্ধায়-যান কহে )॥*॥ বিজয়প্রার্থী বিজিগীষু পার্শ্বিগ্রাহ-শত্রুর সহিত সন্ধি করিয়া ঐ পার্শ্বিগ্রাহের মিত্রের প্রতি যে অভিযান করে, তাহাকে সন্ধায়যান কহে ॥৫॥ শক্তি ও শৌর্য্যযুক্ত এবং যুদ্ধ-বিশারদ (পাঠান্তরে—একমতাবলম্বী) সামন্ত নরপতিগণের সহিত মিলিত হইয়া যে অভিযান হয়, তাহার নাম সম্ভূয়যান ॥৬॥ বিজিগীষু এবং তাঁহার শত্রু এই উভয়ের যে সাধারণ শত্রু, ঐ সাধারণ শত্রুর প্রকৃতি- নাশের নিমিত্ত বিজিগীষু ও তাঁহার শত্রু এই উভয়ের যে মিলিত অভিযান তাহাকে সম্ভূয়যান কহে। ইহার দৃষ্টান্ত রামায়ণে হনুমান্ ও সূর্য্যের বিষয় ॥৭॥ (বিজিগীষু এবং তাঁহার শত্রু এই উভয়ে মিলিত হইয়া উভয়ের সাধারণ শত্রুর প্রকৃতিনাশের নিমিত্ত যে অভিযান হয়, তাহার নামও সম্ভূয়যান ; ইহার শ্লোক সংখ্যাও দেওয়া হইয়াছে। এই ১১শ সর্গ হইতে ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণ অনুসরণ করা হইতেছে। কারণ এই দুই সংস্করণে ১১শ সর্গ হইতে শ্লোকের ও সর্গের কম বেশী লইয়া অনেক গোল ঘটিয়াছে, সেই জন্য ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণ অনুসরণ করা সুবিধা বোধ হওয়ায় কলিকাতা সংস্করণ স্থলে ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণ গ্রহণ করা হইল। * এই বন্ধনীর মধ্যস্থিত শ্লোকটি ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণে এই স্থানে বন্ধনীর মধ্যে অতিরিক্ত আছে।
১১শ সর্গ] যান, আসন, দ্বৈধীভাব ও সংশ্রয় বিকল্প। ৭৩ দৃষ্টান্ত রাম ও সুগ্রীব *॥ যুদ্ধে জয়লাভ নিশ্চয়ই করিব, এইরূপ প্রতিজ্ঞা করিয়া অল্প সৈন্য লইয়া শত্রু জয়ের জন্য মিলিত ভাবে যে গমন, তাহাকেও সম্ভূয়-যান বলে ॥(১)॥ একজনের বিরুদ্ধে যাত্রা করিয়া পথি মধ্যে কোনও কারণে তাহাকে ত্যাগ করিয়া অন্যের প্রতি যে অভিযান, তাহাকে প্রসঙ্গযান কহে; ইহার দৃষ্টান্ত মহাভারতে মদ্ররাজ শল্য ॥৮॥ শত্রুর প্রতি অভিযান করিয়াছে এবং শত্রুও প্রায় কায়দা হইয়া আসিয়াছে, এমন অবস্থায় শত্রুর বলবান্ মিত্র ঐ শত্রুর সাহায্যের জন্য উপস্থিত তখন পরাজিত প্রায় শত্রুকে উপেক্ষা করিয়া তাহার সাহায্যকারী মিত্রের প্রতি যে অভিযান, তাহাকে উপেক্ষাযান কহে ॥৯॥ [ইহার উদাহরণ] অর্জ্জুনের সহিত নিবাত- কবচের যুদ্ধের সময় কালকেয় নামক হিরণ্যপুরবাসী অসুরগণ নিবাত-কবচের সাহায্যে উপস্থিত হইলে অর্জ্জুন উপেক্ষাযান অবলম্বন পূর্ব্বক নিবাত-কবচকে পরিত্যাগ করিয়া প্রথমে হিরণ্যপুরবাসীদিগকে বিনাশ করেন ॥১০॥ স্ত্রীতে আসক্তি, মদ্যপান, মৃগয়া ও পাশাখেলা—এই চারি প্রকার মানুষের কামজ-ব্যসন (২) এবং বহুপ্রকার দৈব উপদ্রব, এই একপ্রকার দৈবব্যসন; এই পাঁচপ্রকার ব্যসন কথিত আছে। এই পাঁচপ্রকার ব্যসনে যে ব্যক্তি আসক্ত, তাহার বিরুদ্ধে অভিযান কর্ত্তব্য ॥১১॥ অরি এবং বিজিগীষু পরস্পরের সামর্থ্য সমান হওয়ায় কেহই কাহাকে জয় করিতে পারে না; তখন উভয়ের কাল-প্রতীক্ষায় যুদ্ধের যে নিবৃত্তি তাহার নাম আসন। এই আসন পাঁচপ্রকার বলিয়া কথিত ॥১২॥ পরস্পর পরস্পরকে আক্রমণ করিয়া যে আসন গ্রহণ তাহার নাম বিগৃহ্যাসন। শত্রুর
- এই অংশ পুনরুক্ত। ইহা কলিকাতা সংস্করণে নাই এবং ট্রাভাঙ্কর সংস্করণে জয়মঙ্গলা ব্যাখ্যাকার ধরেন নাই। (১) ইহা কলিকাতা সংস্করণে আছে, কিন্তু জয়মঙ্গলা ব্যাখ্যাকার ইহা ধরেন নাই। (২) মানুষব্যসন দ্বিবিধ— কামজ ও কোপজ। বাক্পারুষ্য, দণ্ডপারুষ্য ও অর্থদূষণ এই তিন প্রকার কোপজব্যসন
৭৪ কামন্দকীয় নীতিসার। সহিত [কিছুকাল] যুদ্ধ করিয়া যে আসন গ্রহণ তাহাও বিগৃহ্যাসন ॥১৩॥ যখন শত্রু দুর্গে আশ্রয় লইয়াছে এবং তাহাকে আয়ত্ত করিতে পারা যাইতেছে না তখন ইহার আসার (সুহৃদবল) ও বীবধ (রসদ) নষ্ট করিয়া শত্রুর সহিত যুদ্ধার্থে অবস্থান করিবে ॥১৪॥ রসদের যোগান ও মিত্র-সাহায্য বন্ধ হওয়ায়, দুর্গস্থিত যবসৈন্ধব প্রভৃতি খাদ্য ফুরাইয়া যাওয়ায় এবং প্রকৃতি- বর্গ বিরক্ত হওয়ায় ঐ [দুর্গাবরুদ্ধ] শত্রু কালক্রমে বশীভূত হইয়া পড়ে ॥১৫॥ অরি এবং বিজিগীষু পরস্পর যুদ্ধ করিয়া হীনবল হইলে তখন তাহাদের যে সন্ধিপূৰ্ব্বক অবস্থান, তাহার নাম সন্ধান্নাসন ॥১৬॥ ইহার দৃষ্টান্ত শত্রুতায় দুৰ্দ্ধর্ষ রাবণ ও নিবাতকবচের যুদ্ধে ব্রহ্মার মধ্যস্থতায় ইহারা সন্ধি করিয়া অবস্থান করিয়াছিল ॥১৭॥ উদাসীন এবং মধ্যম পরস্পরে তুল্যবল আশঙ্কা করিয়া উভয়ের সন্ধিপূৰ্ব্বক যে অবস্থান, তাহাকে সম্ভূয়াসন কহে ॥১৮ উদাসীন এবং মধ্যম উভয়ে মিলিত হইয়া উভয়ের বিনাশকামনাকারী অথচ উভয় অপেক্ষায় অধিক সম্পত্তিশালী যে উভয়ের সাধারণ শত্রু তাহার বিরুদ্ধে প্রতিব্যূহ অর্থাৎ মিলিত-বলবিন্যাস করিবে ॥১৯॥ প্রসঙ্গক্রমে কোন্ শত্রুর প্রতি অভিযানের ইচ্ছায় বহির্গত হইয়া [কোন কারণে] অন্যত্র যে আসন-গ্রহণ, তাহাকে আসনজ্ঞ-ব্যক্তিগণ প্রসঙ্গাসন বলেন ॥২০॥ বলবান্ শত্রুকে উপেক্ষা করিয়া যে অবস্থান, তাহাকে উপেক্ষাসন কহে; যেমন কৃষ্ণ সত্যভামার তুষ্টির জন্য নন্দনকানন হইতে পারিজাত বৃক্ষ বলপূর্ব্বক গ্রহণ করিলে ইন্দ্র তাহাতে উপেক্ষা করিয়াছিলেন ॥২১॥ কোন কারণ বশতঃ অন্য কর্তৃক উপেক্ষিত হইয়া উপেক্ষিত ব্যক্তির যে আসন-গ্রহণ, তাহাকে উপেক্ষাসন বলে; ইহার দৃষ্টান্ত— রুক্মি-রাজা (অর্থাৎ কুরূপাণ্ডব যুদ্ধের সময় রুক্মী এক অক্ষৌহিণী সৈন্য লইয়া ক্রথকৈশিক [বিদর্ভ] দেশস্থ ক্ষত্রিয়গণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে ভীত হইয়া কুরু ও পাণ্ডব প্রত্যেকের নিকট উপস্থিত হইয়া জানাইয়াছিলেন যে তাহারা যদি ভীত হইয়া থাকেন তাহা হইলে তিনি সাহায্য করিতে প্রস্তুত, তখন তাঁহাদের প্রত্যেকের নিকট উপেক্ষিত হইয়া রুক্মী আসন-গ্রহণ করিয়াছিলেন) ॥২২॥
১১শ সর্গ ] যান, আসন, দ্বৈধীভাব ও সংশ্রয়-বিকল্প। ৭৫ [ এক্ষণে দ্বৈধীভাব বলা হইতেছে ] কাকের দৃষ্টি কোন্দিকে থাকে উহা যেমন লক্ষ্য করা যায় না সেইরূপ অলক্ষিতভাবে দুইজন বলবান্ শত্রুর মধ্যে কেবল বাক্যেই আত্ম-সমর্পণ করিয়া ( অর্থাৎ আমার রাজ্য ও আমি ইহা ত আপনারই এইরূপ বলিয়া ) উহাদের বুদ্ধির অগোচরে দ্বৈধভাব অবলম্বন পূর্ব্বক উভয়কে আশ্রয় করিয়া বর্তমান থাকিবে। [ ইহা স্বতন্ত্র দ্বৈধীভাব ] ॥২৩॥ উভয় শত্রুই আক্রমণ করিলে যত্নপূর্ব্বক আত্মরক্ষা করিবে এবং নিকটবর্ত্তী বলবান্ শত্রুর সেবা করিবে। [ এই পাঠ সঙ্গত বোধ হয় না ]। (পাঠান্তরে—উভয় শত্রুর অত্যন্ত নিকটে পড়িয়া সযত্নে আত্মরক্ষা করিবে এবং উভয় শত্রুই আক্রমণ করিলে উভয়ের মধ্যে যে বলবান্ তাহারই সেবা—আশ্রয় গ্রহণ—করিবে ) ॥২৪॥ যখন আক্রমণকারী উভয় শত্রু পরস্পরের মধ্যে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ থাকায় আক্রান্ত ব্যক্তির সহিত সন্ধি করিতে অনিচ্ছুক হয় তখন ঐ আক্রান্ত ব্যক্তি উহাদের শত্রুর নিকট যাইবে অথবা অধিক বলশালী ব্যক্তির আশ্রয় লইবে। [ এই দুইটি শ্লোকে পরতন্ত্র দ্বৈধীভাব প্রকাশিত হইল ] ॥২৫॥ স্বতন্ত্র এবং পরতন্ত্র এই উভয় ভেদে দ্বৈধীভাব দুই প্রকার কথিত হইয়াছে। স্বতন্ত্র দ্বৈধীভাব বলা হইয়াছে। উভয়- বেতনকে পরতন্ত্র কহে অর্থাৎ যে ব্যক্তি উভয়ের নিকট হইতে সাহায্যপ্রার্থী সেই ব্যক্তি উভয়-বেতন ॥২৬॥ [আটটি শ্লোকে সংশ্রয়ের—একমাত্রের আশ্রয় গ্রহণের—কথা।] বলবান্ শত্রু উচ্ছেদ করিলে এবং তাহার প্রতিকারের কোন উপায় না থাকিলে নিজবংশীয় সত্যবাদী সজ্জন এবং অতিশয় বলবানের আশ্রয় গ্রহণ করিবে ॥২৭॥ যে ব্যক্তি পরের আশ্রয় গ্রহণ করে, তাহার নাম সংশ্রয়ী। আশ্রয়-দানকারী ব্যক্তিকে দেখিবার জন্য উপাসনা করিবে, সর্ব্বদা তাঁহার ভাবে ভাবিত হইবে, তাঁহার কার্য্যের অনুকরণ করিবে ও তাঁহার কার্য্যে প্রশ্রয় দিবে, এইগুলি সংশ্রয়ী ব্যক্তির বৃত্তি ॥২৮॥ *
- এই ২৮ শ্লোকটি কলিকাতা সংস্করণে ২১ শ্লোক। ২১—৩০ পর্য্যন্ত শ্লোক কলি- কাতার সংস্করণে নাই। ৩০ শ্লোকে ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণে একাদশ সর্গ শেষ হইয়াছে
७६ कामन्दकीय नीतिसार। आश्रितव्यक्ति आश्रयदाताके गुरुर न्याय मान्य करिया विनीतभावे ताँहार निकट काल अतिवाहित करिबे एवं ताँहार आश्रये थाकिया सबल हइया क्रमशः स्वाधीन हइबे ॥२९॥ यदि कोन बलवानेर आश्रय ना पाऒया याय ताहा हइले आश्रय शून्य हइया ऐ आक्रमणकारीके सैन्य अथवा अर्थ किंवा उर्व्वरा भूमि अर्पण करिया, ताँहार आश्रय ग्रहण करिबे अर्थात् ताँहार सहित सन्धि करिबे ॥३०॥ विपन्न हइया निजेर परित्राणेर जन्य समस्तइ अर्पण करिबे; केनना, जीवित थाकिले युधिष्ठिरेर न्याय पुनःराय राजत्व लाभ हय ॥३१॥ आश्रितव्यक्ति निजेर सम्पूर्ण बलाधान हइले आश्रयत्याग करिबे। अथवा आश्रयदाता-शत्रुर व्यसन उपस्थित हइले ताँहार आश्रय त्याग करिबे। अथवा अत्यन्त बलवती सिंह-वृत्ति अवलम्बन करिया ताँहाके (आश्रयदाताके) प्रहार करिबे। अथवा समय पाइया उत्थित हइया आश्रयदाता-शत्रुके प्रहार करिबे ॥३२॥ कारण ना घटिले बलवान् समबल वा दुर्ब्बलेर सहित सङ्ग करिबे ना; केनना, ताहाते क्षय व्यय विश्वास वा हिंसा जनित दोष जन्माय ॥३३॥ कारण- वशतः संश्रय-ग्रहण करिया पिताकेओ विश्वास करिबे ना, कारण विश्वासकारी साधु व्यक्तिকে असाधुगण प्रायइ मारिवार चेष्टा करे ॥३४॥ एइ ये सन्धि, विग्रह, यान, आसन, द्वैध ओ संश्रय—एइ छयटि गुणेर कथा बला हइल, अन्य पण्डितेरा एइगुलिके सन्धि ओ विग्रह एइ दुइटि गुणेर अन्तर्गत करिया थाकेन। पण्डितेरा यान ओ आसनके विग्रहेर रूपान्तर बलिया निर्द्देश करेन ॥३५॥ सङ्क्षिप्त पण्डितगणेर मते द्वैधीभाव ओ संश्रय एइ दुइटि सन्धिरइ रूपान्तरमात्र; येहेतु विजिगीषु व्यक्ति अभियान वा आसन-ग्रहण करिया विग्रहइ करेन ॥३६॥ एवं द्वादश सर्ग आरम्भ करिया १-७ पर्य्यन्त ओ आरऒ एकटि श्लोक याहा बन्धनीर मध्ये ८म संख्यक श्लोकेर उपरे धरियाछे ताहा। कलिकोता संस्करणे नाइ। कलिकोता संस्करणे याहा एकादश सर्ग ताहा टुभाकर संस्करणे एकादश ओ द्वादश सर्ग किन्तु टुभाकुरेर ११श सर्गेर २९ श्लोक हइते द्वादश सर्गेर ८म श्लोकेर उपर पर्य्यन्त श्लोकगुलि कलिकोता संस्करणे नाइ।
১২শ সর্গ ] মন্ত্র-বিকল্প। ৭৭ অতএব বিজ্ঞগণ যান এবং আসনকে বিগ্রহ বলিয়াই স্বীকার করেন ॥৩৬॥* যেহেতু দ্বৈধীভাব এবং সংশ্রয় সন্ধি না হইলে হইতে পারে না, অতএব ঐ দুইটিকে সন্ধিরই রূপান্তর বলিয়া পণ্ডিতগণ নির্দ্দেশ করেন ॥৩৭॥ ("সন্ধি পূর্ব্বক ইত্যাদি" পূর্ব্বোক্ত ১৬ শ্লোকে যাহা বলা হইয়াছে তাহাই সন্ধির লক্ষণ এবং যুদ্ধার্থে ইত্যাদি করিয়া ১৪ শ্লোকে যাহা বলা হইয়াছে তাহাই বিগ্রহের রূপ; অতএব সন্ধি ও বিগ্রহ এই দুইটি মাত্র গুণ বলিয়া স্বীকৃত হয়।)* কোন কোন পণ্ডিতের মতে, সন্ধি বিগ্রহ ও সংশ্রয় এই তিনটি মাত্র গুণ ॥৩৮॥ বলবান্ কর্তৃক পীড়িত হইয়া অন্যের আশ্রয় গ্রহণ করাকেই সংশ্রয় কহে। অতএব সংশ্রয় সন্ধি হইতে ভিন্ন, ইহা বৃহস্পতি বলিয়া থাকেন ॥৩৯॥ গুণ বলিতে একমাত্র বিগ্রহ। সন্ধি প্রভৃতি গুণগুলি বিগ্রহ হইতেই উৎপন্ন হয়। অবস্থা ভেদে বিগ্রহই ষাড্ গুণ্য ধারণ করে, ইহাই আমাদের গুরুর মত ॥৪০॥ ইতি কামন্দকীয়-নীতিসারে যান-আসন-দ্বৈধীভাব-সংশ্রয়-বিকল্প-নামক একাদশ-সর্গ ॥ দ্বাদশ-সর্গ। (১) মন্ত্র-বিকল্প। পূর্ব্বকথিত ষাড়্ গুণ্য বিষয়ে পরিপক্কবুদ্ধি, এবং যাঁহার কার্যকলাপ কোন রূপে বাহিরে প্রকাশ হয় না, এইরূপ মন্ত্রজ্ঞ নরপতি মন্ত্রিগণের সহিত স্বীয় এবং পরকীয় মণ্ডল-বিষয়ে অতি গোপনভাবে মন্ত্রণা করিবেন ॥১॥ মন্ত্রার্থ- কুশল রাজা বিজয়-সুখ লাভ করিয়া থাকেন। আর ইহার বিপরীত অর্থাৎ মন্ত্রার্থে অকুশল রাজা স্বাধীন হইলেও পণ্ডিতগণ তাঁহাকে অবজ্ঞা করেন ॥২॥ রাক্ষসগণ যেরূপ যজ্ঞধ্বংস করে সেইরূপ এই মন্ত্রণায় অকুশল রাজাকে
- বন্ধনীর অন্তর্গত অংশ টীকাকার ধরেন নাই, সম্ভবতঃ ইহা মূলের অন্তর্গত নহে। (১) এই দ্বাদশসর্গ কলিকাতা সংস্করণের একাদশ সর্গের অন্তর্গত।
৭৮ কামন্দকীয় নীতিসার। শত্রুগণ চারিদিক হইতেই নষ্ট করে। অতএব মন্ত্র-কুশল হইবে ॥৩॥ বিশ্বস্ত- পণ্ডিত-মন্ত্রীর সহিত স্ব-পর-মণ্ডল সম্বন্ধে মন্ত্রণা করিবে। আর বিশ্বাসী মূর্খ- মন্ত্রীকে এবং অবিশ্বাসী মন্ত্রীকে পরিত্যাগ করিবে ॥৪॥ রাজ্যের কুশল- লাভের জন্য কৃতকর্মা সুনীতিপরায়ণ পূর্ব্বতন পণ্ডিতগণের আচরিত শাস্ত্রীয়- পথ পরিত্যাগ করিবে না ॥৫॥ শাস্ত্রবিরুদ্ধ-ব্যবহারকারী সহসা অভিযোগ- কারী শত্রুর খড়্গোর মুখের গ্রাসে না পড়িয়া নিবৃত্ত হয় না ॥৬॥ প্রভাবশক্তি ও উৎসাহশক্তি এই দুই অপেক্ষায় মন্ত্রশক্তিই প্রশস্ত; কারণ শুক্রাচার্য্য প্রভাব ও উৎসাহসম্পন্ন হইয়াও বৃহস্পতির নিকট পরাজিত হইয়াছিলেন ॥৭॥ ( শুক্লরূপধারী বৃহস্পতি অসুরদিগকে মোহিত করিয়াছিলেন, তজ্জন্য অসীম প্রভাবসম্পন্ন শুক্রাচার্য্যও বৃহস্পতিকে শাপ দিয়াছিলেন ) ॥ * সিংহ কেবল বলপূর্ব্বক অর্থাৎ উৎসাহ-শক্তিতেই হস্তীকে মারিয়া ফেলে এবং নীতিমূঢ়- ধীরব্যক্তি ঐ সিংহকে বধ করে; আর মন্ত্রশক্তিসম্পন্নব্যক্তি ঐরূপ শত শত ধীর ব্যক্তিকেও পরাজিত করে ॥৮॥ (+) সামাদি উপায়ের উত্তম বোধের দ্বারা পূর্ব্বেই অমঙ্গল-অবলোকনকারী-পণ্ডিতগণ স্ব-পর-মণ্ডল সম্বন্ধে ভাল মন্ত্রণায় নিশ্চিত করেন, তাহা নিশ্চয়ই ফলপ্রদ হইয়া থাকে ॥৯॥ মন্ত্রশক্তি অবলম্বন করিয়া লাভের ইচ্ছা করিবে। কাল বুঝিয়া অভিযান করিবে। একমাত্র উৎসাহ-শক্তি-অবলম্বন অনুতাপের কারণ হয় ॥১০॥ প্রশস্ত-বুদ্ধি- সহকারে সাধ্য ও অসাধ্যের নিশ্চয় করিবে, নতুবা হস্তীর দন্তদ্বারা পর্ব্বত গাত্রে যে আঘাত তাহা কেবল দন্তভঙ্গেরই কারণ হইয়া থাকে অর্থাৎ না বুঝিয়া কাজে প্রবৃত্ত হইলে কেবল হানিই হয় ॥১১॥ অসাধ্য কার্য্যে প্রবৃত্ত ব্যক্তিদিগের ক্লেশ ছাড়া আর কি ফল হইতে পারে? আকাশের আস্বাদ করিতে গেলে খাদ্য কোথায় মিলে? ॥১২॥ পতঙ্গের ন্যায় অগ্নিতে ঝাঁপ
- এই বন্ধনীর মধ্যস্থিত অংশ ব্যাখ্যাকার ধরেন নাই। এই দ্বাদশসর্গের প্রথম শ্লোক হইতে এই পর্যন্ত কলিকাতা সংস্করণে নাই। (+) কলিকাতা সংস্করণে এই শ্লোকটি একাদশ সর্গের ৩০ সংখ্যক শ্লোক।
১২শ] সর্গ মন্ত্র-বিকল্প। ৭৯ দিবে না। যাহা স্পর্শযোগ্য তাহাই স্পর্শ করিবে। পতঙ্গ অগ্নিতে পড়িলে পুড়ে মরা ছাড়া তাহার আর কি লাভ হইবে? ॥১৩॥ মোহপ্রযুক্ত দুঃসাধ্য-বিষয় পাইবার চেষ্টা করিলে কার্য্যের বিপৎ রাশি স্পষ্টই পরিতাপের কারণ হয় ॥১৪॥ • ধীরভাবে পদবিক্ষেপ করিয়া যেমন উন্নত পর্ব্বতের চূড়ায় উঠা যায়, সেইরূপ বুঝিবার উপযুক্ত বুদ্ধিদ্বারা সম্পত্তি লাভ করা যায় ॥১৫॥ সকল লোকের নমস্য এই রাজ্যপদ অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য। অল্পমাত্র দোষে ব্রাহ্মণ যেমন দূষিত হয় সেইরূপ ইহা অল্পমাত্র অপরাধে দূষিত হইয়া থাকে ॥১৬॥ বৃক্ষায়ুর্ব্বেদ-বিধানে পালিত বনরাজি যেরূপ শীঘ্র অভীষ্টপ্রদ হয় তদ্রূপ নির্ম্মল-বুদ্ধি-সম্পন্ন-ব্যক্তিগণ শাস্ত্রের নিয়ম মানিয়া যে সকল কার্য্য আরম্ভ করেন তাহা শীঘ্র সুন্দর ফলপ্রদ হয় ॥১৭॥ মোহাচ্ছন্ন অবস্থায় আরব্ধ কার্য্যের বিনাশে যেমন সন্তাপ জন্মে, যথাবিধি আরব্ধ কার্য্য নিষ্ফল হইলেও তেমন সন্তাপ হয় না ॥১৮॥ যে কার্য্য সম্যকরূপে আরব্ধ হইয়াছে তাহা যদি বিপরীত ফল দেয় তাহা হইলে ঐ কার্য্যের অনুষ্ঠাতা অদৃষ্টবশে নিষ্ফল-পুরুষকার হইলেন বলিয়া নিন্দনীয় হন না ॥১৯॥ নির্ম্মল-বুদ্ধি- সম্পন্ন-ব্যক্তি ফললাভের নিমিত্ত যথাবিহিত পুরুষকার প্রকাশ করিবে, যদি পুরুষকার বিফল হয় তাহা হইলে অথর্ব্ববেদে নিপুণ হইয়া দৈব অবলম্বন করিবে (পাঠান্তরে—অকাণ্ড বিনাশকুশল দৈবের আশ্রয় গ্রহণ করিবে) ॥২০॥ ধীরব্যক্তি আপনাকে ও শত্রুকে বুঝিয়া তবে অভিযান করিবেন। আপনার ও পরের বলাবল বুঝাই বুদ্ধির কাজ ॥২১॥ মতিমান্ মন্ত্রণা শাস্ত্রে কুশল ব্যক্তি যে কার্য্য নিষ্ফল, যে কার্য্যে বহুবিধক্লেশদায়ী, যে কার্য্যের ফলে সন্দেহ আছে এবং যে কার্য্যে অত্যন্ত শত্রুতা জন্মে এই সমুদয় কার্য্য করিবেন না ॥২২॥ বর্ত্তমানে ও ভবিষ্যতে যে কার্য্য শুভদায়ক, দেশকালানুসারে যাহা শুভকর এবং যে কার্য্য হিতকর, পণ্ডিতগণ সেই কার্য্যেরই প্রশংসা করিয়া ১২ ১/২ হইতে ১৩ ১/২ শ্লোকাংশ কলিকাতা সংস্করণে নাই।
३. मण्डल विचार, षड्गुण्य व सन्धि-विग्रह नीति (सर्ग ९-१२)
৮০ । কামন্দকীয় নীতিসার । থাকেন ॥২৩॥ যে কার্য্য হিতজনক এবং কখনও নিন্দাস্পদ হইবে না তাহা প্রথমে ভাল বলিয়া বোধ না হইলেও করিবে ॥২৪॥ ফললাভের জন্য সর্ব্বদাই বুদ্ধি পূর্ব্বক আরম্ভ করা শ্রেয়স্কর। কদাচিৎ সিংহ-বৃত্তি (হঠকারিতা) অবলম্বন করিলেও সুফল দেখা যায়, ইহা কেবল সেই স্থলেই হয় যেখানে একমাত্র কল্যাণই তাহার মিত্র হইয়া দাঁড়াইয়াছে ॥২৫॥ সহসা অভিযান করিয়া দুষ্টগণের (বুদ্ধিমান্ শত্রুগণের) নিকট হইতে সম্পল্লাভ করা দুঃসাধ্য কিন্তু উপায় অবলম্বন করিলে মত্তহস্তীর মাথায়ও পা দেওয়া যায় ॥২৬॥ নীতিজ্ঞ- বিদ্বানের নিকট কোন স্থানে কোন বস্তুই অসাধ্য নাই। দেখা যায় অভেদ্য লোহাও উপায় দ্বারা গলিয়া যায় ॥২৭॥ বৃহৎ লৌহপিণ্ড বহনকালে কাটিতে পারে না কিন্তু অতি অল্প লৌহও ধারাল হইলে ইচ্ছামত ফল দেয়। ইহার তাৎপর্য্য এই যে বলবান্ ব্যক্তি উপায় বিহীন হইলে কোন কার্য্য করিতে পারে না, অথচ দুর্ব্বল ব্যক্তিও উপায় অবলম্বন করিয়া মহৎ কার্য্য সাধন করিতে পারে ॥২৮॥ জল আগুনকে নিবাইয়া ফেলে ইহাই লোক প্রসিদ্ধ, কিন্তু উপায় অবলম্বন করিলে আগুনও জলকে শুকাইয়া ফেলে ॥২৯॥ * উপায় দ্বারা অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান হইয়া থাকে, বিজ্ঞাত বস্তুর নিশ্চয় হইয়া থাকে, কোন বিষয়ের দ্বৈধভাব ঘটিলে সন্দেহের ছেদন হইয়া থাকে এবং উহার শেষ পর্য্যন্ত দর্শন হইয়া থাকে। ফলতঃ দেশান্তরীয় ও কালান্তরীয় ব্যাপার অপ্রত্যক্ষ বিষয়, উহা মন্ত্রিগণের সহিত মন্ত্রণা করিয়া বুঝিতে হয় ; মন্ত্রীর অবগত বিষয়ের তত্ত্বাভাস বুদ্ধি দ্বারা মন্ত্রণায় স্থির হয় ; কাহার বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত বা অনুচিত এই সন্দেহ মন্ত্রণার দ্বারাই নিরাকৃত হয় ; এবং সন্ধি ও বিগ্রহ উভয়ের মধ্যে সন্ধিই যে শ্রেষ্ঠ তাহা মন্ত্রণায় বুঝাইয়া দেয়, ইহাই শেষ উপলব্ধি। এই চারিটি মন্ত্রণাসাধ্য ॥৩০॥ বিচক্ষণ পণ্ডিত- দিগের শাসনে থাকিয়া কাহারও অবমাননা করিবে না এবং সদুপদেশযুক্ত বাক্য গ্রহণ করিবার ইচ্ছায় (ছোট বড় বিচার না করিয়া) সকলেরই কথা শুনিবে ॥৩১॥ যে রাজা মদমত্ত ও কর্তব্য-বিমূঢ় হইয়া মন্ত্রীর কথা না
१२श सर्ग] मन्त्र-विकल्प। ८१ शुनिया निजेर इच्छाय कार्य्य करे, शत्रुगण एइ मन्त्रणा-बिच्युत राजाके अबिलम्बेइ पराजित करिया थाके ॥३२॥ मन्त्रणा उत्तमरूपे गोपने रक्षा करिबे; नरपतिदिगेर ताहाइ एकमात्र उपाय। एइ मन्त्रशक्ति प्रकाश हइया पड़िले निश्चयइ राज्येर हानि हय एबं एइ मन्त्रणा यदि गुप्त थाके ताहा हइले उत्तमरूपे राज्यरक्षा हय ॥३३॥ सिंहेर न्याय चेष्टाकारी विचक्षण व्यक्तिर अनुष्ठित कार्य्य ताँहार आत्मीयगण कार्य्यकाले बुझिते पारे एबं अपर व्यक्तिगण ঐ कार्य्य सम्पन्न हइले तबे बुझिते पारे ॥३४॥ ये मन्त्र पश्चात्तापप्रद নহে, যাহা सङ्गे सङ्गेइ फल दिया थाके, যাহা दीर्घकाल-साध्य नय एबं যাহা अभीष्ट-फल प्रदान करे—एइरूप मन्त्रइ प्रशंसार्ह बलिया स्वीकृत ॥३५॥ सकल रकम सहाय, सकल प्रकार साधनेर उपाय, देशेर विभाग ओ कालेर विभाग, एबं विपत्तिर प्रतीकार—एइ पञ्चाङ्ग मन्त्र ॥३६॥ आरब्ध कार्य्य समापन करिबे, अनारब्ध कार्य्य आरम्भ करिबे, उत्तमरूपे अनुष्ठित कार्य्य विशेषरूपे सम्पन्न करिते हइबे ॥३७॥ राजा मन्त्रविशारद मन्त्रीदिगके नानाप्रकार कार्य्ये परिचालित करिबेन। एबं मन्त्रणा-विषये सकल मन्त्रिगणेर ये मतटिर ऐक्य हइबे तदनुसारे कार्य्ये प्रवृत्त हइबेन ॥३८॥ ये मन्त्रणाय मन्त्रीरा एकमत हइयाछे, याहाते मने कोनও आशङ्का आसे ना, एबं যাহা पण्डितेरा निन्दा करेन ना, सेइ अभिप्रेत कार्य्येर अनुष्ठान करिबेन ॥३९॥ मन्त्रज्ञ-व्यक्तिगणेर मन्त्रणाय अवधारित हइलेও स्वयं पुनःराय তাহার विचार करिबेन एबं याहाते स्वार्थेर हानि ना घटे मन्त्रणाकुशल राजा ताहाइ करिबेन ॥४०॥ स्वार्थतत्पर मन्त्रीगण दीर्घकालव्यापी विग्रह- कामना करेन। दीर्घकालव्यापी विग्रहे नरपति व्याकुल हन, तबन ঐ नरपति अमात्यगणेर भोग्य हन अर्थात् तबन राजा मन्त्रीगणेरइ बशे आसिया पड़ेन ॥४१॥ मनेर प्रसन्नता श्रद्धा बुद्धि ओ कर्म्मेन्द्रिय प्रभृतिर स्व स्व विषय सम्पादन सामर्थ्य, सहायसम्पन्नता ओ उद्योग—एइगुलि आरब्ध कार्य्येर सिद्धिर लक्षण अर्थात् ये कार्य्येर आरम्भे एइगुलि प्रकाश पाय सेइ कार्य्य
८२ कामन्दकीय नीतिसार। सिद्धि हय; इहा हइतेइ मन्त्रसिद्धि बुझिते पारा याय ॥४२॥ लघु-उत्थान, विघ्नशून्यता एवं समुदाय सहकारि कारणगुलिर संयोग--एइ कारणगुलि कार्य्येर सिद्धिकेइ जानाइया देय ॥४३॥ सर्व्वदा मन्त्रणार स्मरण राखिबे ओ यत्न सहकारे उहा गोपने राखिबे । सयत्ने मन्त्रगुप्ति ना करिले ऐ मन्त्र प्रकाश पाइया अग्निर न्याय दग्ध करे ॥४४॥ * ॥ मन्त्र-रक्षापरायण हइया विश्वस्त व्यक्तिर ओ ताहार विश्वस्त पात्रगणेर निकट हइते मन्त्रणा गुप्त राखिबे । कारण उक्त रूपे मन्त्र गोपन ना राखिले विश्वासीगणेर मध्य हइतेइ उहा प्रकाश हइया पड़े । अर्थात् विश्वासी व्यक्ति ताहार विश्वासीके बले एवं ऐ विश्वासी ताहार विश्वासीके बले ; एइरूपे मन्त्रेर बहुल प्रचार हइया साधारण व्यक्त हइया पड़े । ( पाठांतरे--बार बार मन्त्र बलाबल करिबे ना, सयत्ने मन्त्रके गोपने राखिबे, येहेतु मन्त्रके गोपने ना राखिले आत्मीय परम्परार्य सर्व्वजन विदित हइया पड़े ॥११।६४ कलि, सं) ॥४५॥ मद्यपानादि जन्य मत्तता, प्रमाद (असावधानता), काम (स्त्रीके विश्वास करिया मन्त्रणार कथा बला ), निद्रावस्थाय प्रलाप, ( थाम प्रभृतिर आड़ाले ) प्रच्छन्नभावे स्थित व्यक्ति, सहचरी ओ अवमत ( बोबा बा शुक सारिका प्रभृति उपेक्षार पात्र ) एइ समुदाय मन्त्रणा-भेद करिया देय ॥४६॥ थामशून्य स्थाने, जानाला रहित स्थाने, आर एकबारे फाँकाय ( पाठांतरे —चारिदिक् घेरा स्थानेर मध्यगत घरे ), छादेर उपर ओ वनमध्ये— एइ सकल स्थाने सर्व्वजनेर अविदित भावे मन्त्रणा करिबे ॥४७॥ मनुर मते, मन्त्रिगणेर मन्त्रिमण्डल अर्थात् मन्त्रणा करिबार स्थान द्वादश प्रकार । बृहस्पतिर मते षोडश प्रकार एवं शुक्राचार्य्येर मते विंशति प्रकार । इहार तात्पय्यार्थ एइ ये, द्वादश-राजक-मण्डलेर जन्य द्वादश मन्त्री ; एइ द्वादश मन्त्री एवं अरि, विजिगीषु, मध्यम ओ उदासीन सम्बन्धे चारिजन मन्त्री ; मोट—षोलजन मन्त्री । दशराजक-मण्डलेर दशजन मन्त्री ओ ऐ मण्डलेर द्रव्य एवं प्रकृति
- एइ श्लोकटि कलिकता संस्करणे नाइ ।
১২শ সর্গ ] মন্ত্র-বিকল্প। ৮৩ অবধারণের জন্য দশজন মন্ত্রী, মোট বিশজন মন্ত্রী॥৪৮॥ অন্য পণ্ডিতদিগের মতে আবশ্যক অনুসারে কম বা বেশী মন্ত্রী করিবে। মন্ত্রণা-কৌশলে অভিজ্ঞতা লাভের জন্য (পাঠান্তরে—কার্য্যসিদ্ধির পূর্ণতা লাভের জন্য) মন্ত্রিমণ্ডলে প্রবেশ করিয়া একাগ্রচিত্তে যথাবিধি কার্য্য করিবে ॥৪৯॥ এক এক জনের সহিত কার্য্যগুলি বার বার বিচার করিয়া (পাঠান্তরে—গুপ্তকার্য্যগুলি বার বার বিচার-পূর্ব্বক স্থির করিয়া) আপনার হিতাকাঙ্ক্ষী হইয়া প্রত্যেকের মত ভাল করিয়া বুঝিয়া লইবে ॥৫০॥ প্রভুর হিতৈষী পণ্ডিত বহু-মন্ত্র-প্রয়োগ- দ্রষ্টা মহাপক্ষ (অর্থাৎ যাহার মত বহু মন্ত্রীরা মানেন এইরূপ মন্ত্রী) নীতিশাস্ত্রা- নুসারে যাহা বলিবেন সেই মত গ্রহণ করিয়া সম্যকরূপে কার্য্য করিবে ॥৫১॥ মন্ত্রণা স্থির করিয়া কার্য্যকাল অতিক্রম করিবে না অর্থাৎ মন্ত্রণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্য্য আরম্ভ করিবে; কিন্তু কোন কারণে কালবিলম্ব ঘটিলে পুনর্ব্বার মন্ত্রণা করিয়া কার্য্য করিবে ॥৫২॥ নীতিপারদর্শী ব্যক্তি কখনও কার্য্যকাল অতিক্রম করিবে না; কেন না, কার্য্যের সুযোগ কদাচিৎ ঘটিয়া থাকে ॥৫৩॥ নীতিজ্ঞ ব্যক্তি নীতিবিশারদদিগের মত অবলম্বন করিয়া যথাকালে কার্য্যের অনুষ্ঠান করিবেন। যিনি যথাকালে কার্য্য করেন তিনি সেইকার্য্যের উত্তম ফল লাভ করেন ॥৫৪॥ যাহা যাহা নীতি প্রদর্শিত হইল সেই সমুদয় পর্য্যালোচনা করিয়া উপযুক্ত দেশ-কালে সহায়-সম্পন্ন হইয়া নিতান্ত অনুরক্ত পার্শ্ববর্ত্তী নৃপগণের সহিত মিত্রতায় বদ্ধ হইয়া অভিযান করিবে কিন্তু কপটতা পূর্ব্বক অভিযান করিবে না (পাঠান্তরে—অনুরক্ত পার্ষ্ণিগ্রাহ-নৃপতির সহিত মিলিত হইয়া লাভজনক বিষয় আক্রমণ করিবে কিন্তু চপলতা সহকারে আক্রমণ করিবে না॥ কলি, সং ১১৭৪) ॥৫৫॥ অল্পজ্ঞানী ব্যক্তি অহিতকেই হিত মনে করে এবং মন্ত্রীদিগের পরামর্শ অগ্রাহ্য করিয়া অবিমৃষ্যকারিতা বশতঃ সহসা অভিযান করে এবং শত্রুর খড়্গে আহত হইয়া নিজের ভ্রম বুঝিতে পারে॥৫৬॥ শত্রুর বলাবল বিচার না করিয়া নীতিশূন্য হইয়া ‘আমিই বলবান্’ এইরূপ ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিয়া যে নির্ব্বোধের ন্যায় চঞ্চল হইয়া কেবল নিজের
৮৪ কামন্দকীয় নীতিসার। মতেই শত্রুকে আক্রমণ করে সেই নির্ব্বোধ ব্যক্তির বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত চৈতন্যোদয় হয় না ॥৫৭॥॥ এইরূপে মন্ত্র-শক্তির প্রভাবে নরপতি নীতিপথ অবলম্বন করিয়া উদ্যোগযুক্ত হইয়া দুষ্ট সর্পের ন্যায় বলবান্ রিপুকে বশীভূত করিবেন ॥৫৮॥ ইতি কামন্দকীয় নীতিসারে মন্ত্রবিকল্প নামক দ্বাদশ-সর্গঃ। ত্রয়োদশ-সর্গ। দূতপ্রচার। মন্ত্রশাস্ত্রবেত্তা ও সুমন্ত্র-প্রদান-সমর্থ রাজা মন্ত্রিদিগের অনুমোদিত দৌত্যকার্য্যে অভিমানযুক্ত মন্ত্রীকে দূত করিয়া শত্রুমণ্ডলে পাঠাইবেন ॥১॥ প্রগল্ভ স্মরণশক্তিসম্পন্ন বক্তা শস্ত্রে কুশল শাস্ত্রজ্ঞানসম্পন্ন ও কৃতকর্ম্মা ব্যক্তিই রাজার দূত হইবার উপযুক্ত ॥২॥ নিঃস্বষ্টার্থ মিতার্থ ও শাসনহারক এই তিন প্রকার দূত। ইহারা যথাক্রমে অমাত্য-গুণের এক এক পদ হীন। নিঃস্বষ্টার্থ অর্থাৎ সন্ধি প্রভৃতি কার্য্যে সুনিপুণ, ইনি অমাত্যের সম্পূর্ণ গুণযুক্ত। মিতার্থ অর্থাৎ পরিমিতভাষী, ইনি অমাত্যগুণের একপাদ হীন অর্থাৎ ত্রিপাদগুণ যুক্ত। শাসনহারক অর্থাৎ পত্রবাহক, ইনি দ্বিপাদ গুণযুক্ত ॥৩॥ নিঃস্বষ্টার্থ দূত স্বামীর আজ্ঞানুসারে আপনার পক্ষের বাক্য ও ঐ বাক্যের শত্রুপক্ষের উত্তর প্রত্যুত্তর উত্তরোত্তর চিন্তা সহকারে (পাঠান্তরে—স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রের দোষ- গুণ উত্তরোত্তর চিন্তাসহকারে) গন্তব্য স্থানে যাইবে ॥৪॥ অন্তপাল (জন- পদের প্রান্তরক্ষাকারী) এবং বনাধ্যক্ষগণের সহিত মিত্রতা করিবে। আর স্বকীয়সামর্থ্যসিদ্ধির জন্য জলপথ ও স্থলপথ অবগত হইবে ॥৫॥ শত্রুর
- এই ৫৭ সংখ্যক শ্লোকটি কলিকাতা সংস্করণে নাই।
- কলিকাতা সংস্করণে ইহা দ্বাদশ সর্গ।
১৩শ সর্গ ] দূতপ্রচার। ৮৫ দুর্গে এবং সভায় শত্রুর অনুমতি ব্যতিরেকে প্রবেশ করিবে না; কার্য্যসিদ্ধির জন্য কাল-প্রতীক্ষা করিবে এবং শত্রুর অনুমতি লইয়া প্রত্যাগমন করিবে ॥৬॥ শত্রুরাজ্যের সারবত্তা, দুর্গ, দুর্গের বিষম স্থান, অন্তঃকোপাদি ছিদ্র, ধনবল, মিত্রবল ও সৈন্যবল জানিবে ॥৭॥ প্রাণবধের নিমিত্ত খড়্গ উত্তোলিত হইয়াছে দেখিয়াও প্রভুর বার্তা যাহা বলা হইয়াছে তাহাই বলিবে এবং শত্রু- নরপতির মুখের আকার প্রকার দেখিয়া তাহার অনুরাগ বিরাগ বুঝিয়া লইবে ॥৮॥ গালাগালি দিলেও সহ্য করিবে; নিজের কাম ক্রোধ ত্যাগ করিবে। কাহারও সহিত একত্র শয়ন করিবে না (কারণ পাছে নিদ্রাবস্থায় গুপ্তকথা বাহির হইয়া যায়); শত্রুর অভিপ্রায় অবগত হইবে ॥৯॥ * ॥ বিপক্ষরাজার প্রতি তাহার প্রজাবর্গের কিরূপ অনুরাগ ও বিরাগ আছে তাহা জানিবে। †। শত্রুর অলক্ষিতভাবে নিজের কর্তব্য কাজ হাসিল করিবার জন্য ক্রুদ্ধ লোভী ভীত বা অবমানিত ব্যক্তিদিগকে হস্তগত করিয়া রহস্যভেদ করিয়া লইবে ॥১০॥ বধ্যমান (পাঠান্তরে—জিজ্ঞাসিত) হইয়াও নিজের প্রভুর প্রকৃতিবর্গের ক্ষুদ্রতা বলিবে না এবং বিনয় সহকারে [ শত্রু রাজাকে ] বলিবে যে “আপনি চারচক্ষুবলে সমস্তই ত জানেন” ॥১১॥ উভয়পক্ষের অর্থাৎ স্বপক্ষ বিপক্ষের উত্তমবংশ, দিগন্তবিশ্রান্ত নাম, প্রচুর ধনসম্পত্তি ও অতিমহৎ কৰ্ম্ম এই চারি প্রকার বিষয়ের কীর্ত্তন করিয়া [ শত্রু রাজার ] স্তব করিবে ॥১২॥ বিদ্যা এবং শিল্প শিক্ষা দিবার ছলে উভয় পক্ষের বেতনে থাকিয়া নিজের কর্ত্তব্য বুঝিবে ও বিপক্ষ রাজার বিরুদ্ধ চেষ্টাও অবগত হইবে ॥১৩॥ (শত্রুর চালচলন বুঝিবার জন্য) তপস্বীর বেশ ধরিয়া অনুচরবর্গের সহিত শাস্ত্র ও বিজ্ঞান শিখিবার ছলে তীর্থ আশ্রম ও দেবতাস্থানে বিচরণ করিবে ॥১৪॥ ভেদ্যোগ্য ব্যক্তিগণের প্রতি নিজ স্বামীর প্রতাপ, কুল, ঐশ্বর্য্য, ত্যাগ, উৎসাহ সম্পৎ,
- এই শ্লোকটি কলিকাতা সংস্করণের ১৫ শ্লোক। † এই অংশটি কলিকাতা সংস্করণে ৮ম শ্লোকের শেষাংশ।
৮६ कामन्दकीय नीतिसार। अकुद्रता ओ दक्षता कीर्त्तन ( पाठान्तरे—प्रदर्शन ) करिबे ॥१५॥ निद्रित बा माताल अवस्थाय मनेर भाव प्रकाश हइते पारे, अतएव प्रत्यह एकाकी निद्रा याइबे, स्त्रीप्रसङ्ग ओ मादकद्रव्य परित्याग करिबे * ॥१६॥ बुद्धिमान् व्यक्ति ( विपक्ष-राज्ये थाकिया ) समय नष्ट हइतेछे इहा जानियाओ स्वार्थ- सिद्धिर जन्य खेद करिबे ना, [ विपक्ष ] नाना रकम प्रलोभन द्वारा ताहार ये समय नष्ट करितेछे তাহা बुझिबे ॥१७॥ [ एवम् इहाओ बुझिबे ये ] एइ ये दिनगुलि अतिवाहित हइतेछे इहाते आमादेर राजार कोन व्यसन इहारा देखितेछे अथवा निजेराइ कोन विपद् घटाइबार चेष्टा करितेछे ॥१८॥ अथवा नीति-सुचतुर दूत इहाओ बुझिबे ये विपक्षगण ताहार राजार अन्तःप्रकोप उत्पादनेर चेष्टाय आछे किंवा दुर्गे विपक्षेरा निजेदेर रसद संग्रह करितेछे अथवा दुर्ग-संस्कारे नियुक्त आछे ॥१९॥ अथवा विपक्ष राजा ताहार निजेर मित्रेर अभ्युदय आकाङ्खाय देश-काल-विवेचना करितेछे किंवा सैन्य-साहाय्येर चेष्टाय आछे, ( सम्भवतः ) एइ सकल कारणेइ ताहारदिगके फिरिया याइते दितेछे ना ॥२०॥ एइ विपक्ष स्वपक्षेर यात्रा ओ कालेर यथोपयुक्त क्रियार जन्य ( पाठान्तरे—आमादिगेर यात्राकालेर क्षय प्रार्थी हइया ) विलम्ब करितेछे। पण्डित-दूत काल- क्षय हइले ঐ पूर्व्वोक्त समुदायेर वितर्क करिबे ॥२१॥ विशेष वृत्तान्त जानिबार जन्य शत्रुराज्ये थाकिया समस्त वृत्तान्त प्रभुके जानाइबे एवम् कार्य्यकाल अतिक्रान्त हइयाछे इहा स्पष्ट बुझिया चलिया आसिबे ॥२२॥ शत्रुर के शत्रु ताहार ज्ञान, शत्रुर सुहृद् ओ बन्धुर भेद संघटन, शत्रुर दुर्ग कोष ओ बल ज्ञान, शत्रुर अमात्यदिगके स्वपक्षे आनयन, शत्रुर राष्ट्रपाल बन- पाल ओ अन्तपालदिगके वशीभूत करा एवम् युद्धेर अपसार भूमिज्ञान ( अर्थात् युद्धकालेर जन्य रास्ता-घाट ज्ञान ओ सैन्यादि समावेशेर एवम् निर्गमेर उपयुक्त भूमि निर्णय) एइगुलि दूतेर कर्म्म बलिया कथित हय ॥२३-२४॥
- एइ श्लोकटि कलिकाता संस्करणे नाइ ॥