कामन्दकीय नीतिसार (आचार्य कामन्दक - प्राचीन भारतीय राजनीति शास्त्र)
Kamandakiya Nitisara with Hindi Commentary
आचार्य कामन्दक / पं. ज्वालाप्रसाद मिश्र द्वारा
১২শ সর্গ ] মন্ত্র-বিকল্প। ৮৩ অবধারণের জন্য দশজন মন্ত্রী, মোট বিশজন মন্ত্রী॥৪৮॥ অন্য পণ্ডিতদিগের মতে আবশ্যক অনুসারে কম বা বেশী মন্ত্রী করিবে। মন্ত্রণা-কৌশলে অভিজ্ঞতা লাভের জন্য (পাঠান্তরে—কার্য্যসিদ্ধির পূর্ণতা লাভের জন্য) মন্ত্রিমণ্ডলে প্রবেশ করিয়া একাগ্রচিত্তে যথাবিধি কার্য্য করিবে ॥৪৯॥ এক এক জনের সহিত কার্য্যগুলি বার বার বিচার করিয়া (পাঠান্তরে—গুপ্তকার্য্যগুলি বার বার বিচার-পূর্ব্বক স্থির করিয়া) আপনার হিতাকাঙ্ক্ষী হইয়া প্রত্যেকের মত ভাল করিয়া বুঝিয়া লইবে ॥৫০॥ প্রভুর হিতৈষী পণ্ডিত বহু-মন্ত্র-প্রয়োগ- দ্রষ্টা মহাপক্ষ (অর্থাৎ যাহার মত বহু মন্ত্রীরা মানেন এইরূপ মন্ত্রী) নীতিশাস্ত্রা- নুসারে যাহা বলিবেন সেই মত গ্রহণ করিয়া সম্যকরূপে কার্য্য করিবে ॥৫১॥ মন্ত্রণা স্থির করিয়া কার্য্যকাল অতিক্রম করিবে না অর্থাৎ মন্ত্রণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্য্য আরম্ভ করিবে; কিন্তু কোন কারণে কালবিলম্ব ঘটিলে পুনর্ব্বার মন্ত্রণা করিয়া কার্য্য করিবে ॥৫২॥ নীতিপারদর্শী ব্যক্তি কখনও কার্য্যকাল অতিক্রম করিবে না; কেন না, কার্য্যের সুযোগ কদাচিৎ ঘটিয়া থাকে ॥৫৩॥ নীতিজ্ঞ ব্যক্তি নীতিবিশারদদিগের মত অবলম্বন করিয়া যথাকালে কার্য্যের অনুষ্ঠান করিবেন। যিনি যথাকালে কার্য্য করেন তিনি সেইকার্য্যের উত্তম ফল লাভ করেন ॥৫৪॥ যাহা যাহা নীতি প্রদর্শিত হইল সেই সমুদয় পর্য্যালোচনা করিয়া উপযুক্ত দেশ-কালে সহায়-সম্পন্ন হইয়া নিতান্ত অনুরক্ত পার্শ্ববর্ত্তী নৃপগণের সহিত মিত্রতায় বদ্ধ হইয়া অভিযান করিবে কিন্তু কপটতা পূর্ব্বক অভিযান করিবে না (পাঠান্তরে—অনুরক্ত পার্ষ্ণিগ্রাহ-নৃপতির সহিত মিলিত হইয়া লাভজনক বিষয় আক্রমণ করিবে কিন্তু চপলতা সহকারে আক্রমণ করিবে না॥ কলি, সং ১১৭৪) ॥৫৫॥ অল্পজ্ঞানী ব্যক্তি অহিতকেই হিত মনে করে এবং মন্ত্রীদিগের পরামর্শ অগ্রাহ্য করিয়া অবিমৃষ্যকারিতা বশতঃ সহসা অভিযান করে এবং শত্রুর খড়্গে আহত হইয়া নিজের ভ্রম বুঝিতে পারে॥৫৬॥ শত্রুর বলাবল বিচার না করিয়া নীতিশূন্য হইয়া ‘আমিই বলবান্’ এইরূপ ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিয়া যে নির্ব্বোধের ন্যায় চঞ্চল হইয়া কেবল নিজের
৮৪ কামন্দকীয় নীতিসার। মতেই শত্রুকে আক্রমণ করে সেই নির্ব্বোধ ব্যক্তির বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত চৈতন্যোদয় হয় না ॥৫৭॥॥ এইরূপে মন্ত্র-শক্তির প্রভাবে নরপতি নীতিপথ অবলম্বন করিয়া উদ্যোগযুক্ত হইয়া দুষ্ট সর্পের ন্যায় বলবান্ রিপুকে বশীভূত করিবেন ॥৫৮॥ ইতি কামন্দকীয় নীতিসারে মন্ত্রবিকল্প নামক দ্বাদশ-সর্গঃ। ত্রয়োদশ-সর্গ। দূতপ্রচার। মন্ত্রশাস্ত্রবেত্তা ও সুমন্ত্র-প্রদান-সমর্থ রাজা মন্ত্রিদিগের অনুমোদিত দৌত্যকার্য্যে অভিমানযুক্ত মন্ত্রীকে দূত করিয়া শত্রুমণ্ডলে পাঠাইবেন ॥১॥ প্রগল্ভ স্মরণশক্তিসম্পন্ন বক্তা শস্ত্রে কুশল শাস্ত্রজ্ঞানসম্পন্ন ও কৃতকর্ম্মা ব্যক্তিই রাজার দূত হইবার উপযুক্ত ॥২॥ নিঃস্বষ্টার্থ মিতার্থ ও শাসনহারক এই তিন প্রকার দূত। ইহারা যথাক্রমে অমাত্য-গুণের এক এক পদ হীন। নিঃস্বষ্টার্থ অর্থাৎ সন্ধি প্রভৃতি কার্য্যে সুনিপুণ, ইনি অমাত্যের সম্পূর্ণ গুণযুক্ত। মিতার্থ অর্থাৎ পরিমিতভাষী, ইনি অমাত্যগুণের একপাদ হীন অর্থাৎ ত্রিপাদগুণ যুক্ত। শাসনহারক অর্থাৎ পত্রবাহক, ইনি দ্বিপাদ গুণযুক্ত ॥৩॥ নিঃস্বষ্টার্থ দূত স্বামীর আজ্ঞানুসারে আপনার পক্ষের বাক্য ও ঐ বাক্যের শত্রুপক্ষের উত্তর প্রত্যুত্তর উত্তরোত্তর চিন্তা সহকারে (পাঠান্তরে—স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রের দোষ- গুণ উত্তরোত্তর চিন্তাসহকারে) গন্তব্য স্থানে যাইবে ॥৪॥ অন্তপাল (জন- পদের প্রান্তরক্ষাকারী) এবং বনাধ্যক্ষগণের সহিত মিত্রতা করিবে। আর স্বকীয়সামর্থ্যসিদ্ধির জন্য জলপথ ও স্থলপথ অবগত হইবে ॥৫॥ শত্রুর
- এই ৫৭ সংখ্যক শ্লোকটি কলিকাতা সংস্করণে নাই।
- কলিকাতা সংস্করণে ইহা দ্বাদশ সর্গ।
১৩শ সর্গ ] দূতপ্রচার। ৮৫ দুর্গে এবং সভায় শত্রুর অনুমতি ব্যতিরেকে প্রবেশ করিবে না; কার্য্যসিদ্ধির জন্য কাল-প্রতীক্ষা করিবে এবং শত্রুর অনুমতি লইয়া প্রত্যাগমন করিবে ॥৬॥ শত্রুরাজ্যের সারবত্তা, দুর্গ, দুর্গের বিষম স্থান, অন্তঃকোপাদি ছিদ্র, ধনবল, মিত্রবল ও সৈন্যবল জানিবে ॥৭॥ প্রাণবধের নিমিত্ত খড়্গ উত্তোলিত হইয়াছে দেখিয়াও প্রভুর বার্তা যাহা বলা হইয়াছে তাহাই বলিবে এবং শত্রু- নরপতির মুখের আকার প্রকার দেখিয়া তাহার অনুরাগ বিরাগ বুঝিয়া লইবে ॥৮॥ গালাগালি দিলেও সহ্য করিবে; নিজের কাম ক্রোধ ত্যাগ করিবে। কাহারও সহিত একত্র শয়ন করিবে না (কারণ পাছে নিদ্রাবস্থায় গুপ্তকথা বাহির হইয়া যায়); শত্রুর অভিপ্রায় অবগত হইবে ॥৯॥ * ॥ বিপক্ষরাজার প্রতি তাহার প্রজাবর্গের কিরূপ অনুরাগ ও বিরাগ আছে তাহা জানিবে। †। শত্রুর অলক্ষিতভাবে নিজের কর্তব্য কাজ হাসিল করিবার জন্য ক্রুদ্ধ লোভী ভীত বা অবমানিত ব্যক্তিদিগকে হস্তগত করিয়া রহস্যভেদ করিয়া লইবে ॥১০॥ বধ্যমান (পাঠান্তরে—জিজ্ঞাসিত) হইয়াও নিজের প্রভুর প্রকৃতিবর্গের ক্ষুদ্রতা বলিবে না এবং বিনয় সহকারে [ শত্রু রাজাকে ] বলিবে যে “আপনি চারচক্ষুবলে সমস্তই ত জানেন” ॥১১॥ উভয়পক্ষের অর্থাৎ স্বপক্ষ বিপক্ষের উত্তমবংশ, দিগন্তবিশ্রান্ত নাম, প্রচুর ধনসম্পত্তি ও অতিমহৎ কৰ্ম্ম এই চারি প্রকার বিষয়ের কীর্ত্তন করিয়া [ শত্রু রাজার ] স্তব করিবে ॥১২॥ বিদ্যা এবং শিল্প শিক্ষা দিবার ছলে উভয় পক্ষের বেতনে থাকিয়া নিজের কর্ত্তব্য বুঝিবে ও বিপক্ষ রাজার বিরুদ্ধ চেষ্টাও অবগত হইবে ॥১৩॥ (শত্রুর চালচলন বুঝিবার জন্য) তপস্বীর বেশ ধরিয়া অনুচরবর্গের সহিত শাস্ত্র ও বিজ্ঞান শিখিবার ছলে তীর্থ আশ্রম ও দেবতাস্থানে বিচরণ করিবে ॥১৪॥ ভেদ্যোগ্য ব্যক্তিগণের প্রতি নিজ স্বামীর প্রতাপ, কুল, ঐশ্বর্য্য, ত্যাগ, উৎসাহ সম্পৎ,
- এই শ্লোকটি কলিকাতা সংস্করণের ১৫ শ্লোক। † এই অংশটি কলিকাতা সংস্করণে ৮ম শ্লোকের শেষাংশ।
৮६ कामन्दकीय नीतिसार। अकुद्रता ओ दक्षता कीर्त्तन ( पाठान्तरे—प्रदर्शन ) करिबे ॥१५॥ निद्रित बा माताल अवस्थाय मनेर भाव प्रकाश हइते पारे, अतएव प्रत्यह एकाकी निद्रा याइबे, स्त्रीप्रसङ्ग ओ मादकद्रव्य परित्याग करिबे * ॥१६॥ बुद्धिमान् व्यक्ति ( विपक्ष-राज्ये थाकिया ) समय नष्ट हइतेछे इहा जानियाओ स्वार्थ- सिद्धिर जन्य खेद करिबे ना, [ विपक्ष ] नाना रकम प्रलोभन द्वारा ताहार ये समय नष्ट करितेछे তাহা बुझिबे ॥१७॥ [ एवम् इहाओ बुझिबे ये ] एइ ये दिनगुलि अतिवाहित हइतेछे इहाते आमादेर राजार कोन व्यसन इहारा देखितेछे अथवा निजेराइ कोन विपद् घटाइबार चेष्टा करितेछे ॥१८॥ अथवा नीति-सुचतुर दूत इहाओ बुझिबे ये विपक्षगण ताहार राजार अन्तःप्रकोप उत्पादनेर चेष्टाय आछे किंवा दुर्गे विपक्षेरा निजेदेर रसद संग्रह करितेछे अथवा दुर्ग-संस्कारे नियुक्त आछे ॥१९॥ अथवा विपक्ष राजा ताहार निजेर मित्रेर अभ्युदय आकाङ्खाय देश-काल-विवेचना करितेछे किंवा सैन्य-साहाय्येर चेष्टाय आछे, ( सम्भवतः ) एइ सकल कारणेइ ताहारदिगके फिरिया याइते दितेछे ना ॥२०॥ एइ विपक्ष स्वपक्षेर यात्रा ओ कालेर यथोपयुक्त क्रियार जन्य ( पाठान्तरे—आमादिगेर यात्राकालेर क्षय प्रार्थी हइया ) विलम्ब करितेछे। पण्डित-दूत काल- क्षय हइले ঐ पूर्व्वोक्त समुदायेर वितर्क करिबे ॥२१॥ विशेष वृत्तान्त जानिबार जन्य शत्रुराज्ये थाकिया समस्त वृत्तान्त प्रभुके जानाइबे एवम् कार्य्यकाल अतिक्रान्त हइयाछे इहा स्पष्ट बुझिया चलिया आसिबे ॥२२॥ शत्रुर के शत्रु ताहार ज्ञान, शत्रुर सुहृद् ओ बन्धुर भेद संघटन, शत्रुर दुर्ग कोष ओ बल ज्ञान, शत्रुर अमात्यदिगके स्वपक्षे आनयन, शत्रुर राष्ट्रपाल बन- पाल ओ अन्तपालदिगके वशीभूत करा एवम् युद्धेर अपसार भूमिज्ञान ( अर्थात् युद्धकालेर जन्य रास्ता-घाट ज्ञान ओ सैन्यादि समावेशेर एवम् निर्गमेर उपयुक्त भूमि निर्णय) एइगुलि दूतेर कर्म्म बलिया कथित हय ॥२३-२४॥
- एइ श्लोकटि कलिकाता संस्करणे नाइ ॥
১৩শ সর্গ ] দূত-চর-বিকল্প । ৮৭ নরপতি দূতের সাহায্যেই শত্রু-দমন করিবেন এবং নিজের সম্বন্ধে বিপক্ষ-দূতের চেষ্টা অবগত হইবেন ॥২৫॥ ইতি দূত-প্রচার ॥ দূত-চর-বিকল্প। তর্কজ্ঞ, ইঙ্গিতজ্ঞ, স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, মৃদু অর্থাৎ নরমধাতের লোক, শীঘ্রগমনক্ষম, ক্লেশ ও পরিশ্রম সহিষ্ণু, দক্ষ এবং প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তিই চর হইয়া থাকে ॥২৬॥ ধূৰ্ত্তচরগণ জগজ্জনের মত সম্পূর্ণরূপে অবগত হইবার জন্য তপস্বী সাজিয়া অথবা শিল্প বা পণ্য বৃত্তি অবলম্বন করিয়া সর্ব্বত্র বিচরণ করিবে ॥২৭॥ সমস্ত বার্ত্তাবেত্তা চরগণ প্রতিদিন রাজার নিকট হইতে বহির্গত হইবে এবং বাহিরের সংবাদ জানিয়া পুনর্ব্বার রাজার নিকট ফিরিয়া আসিবে, কারণ ইহারাই রাজার দূরবর্ত্তী চক্ষু অর্থাৎ চরের সাহায্যেই রাজা দূরের বৃত্তান্ত সমুদয় অবগত হন। এইজন্যই লোক রাজাকে “চারচক্ষু” বলিয়া থাকে ॥২৮॥ কাপড়ের মধ্যে কৌশলে সূক্ষ্ম সূতা চালাইলে যেমন বুঝা যায় না, সেইরূপ গুপ্তচরের সাহায্যে রাজা শত্রু-পক্ষের চেষ্টা অবগত হইবেন। রাজা নিদ্রিত হইয়াও জাগিয়া থাকেন যেহেতু তিনি চারচক্ষু অর্থাৎ চারগণই তাঁহার চক্ষু ॥২৯॥ সূর্য্যের ন্যায় তেজস্বী ও বায়ুর ন্যায় চেষ্টাশীল (অর্থাৎ চরের সাহায্যে সর্ব্বত্র অপ্রতিহতগতি) রাজা নীতিশাস্ত্রানুমোদিত চর সকলের সাহায্যে সমস্ত জগৎ ব্যাপৃত করিয়া ফেলিবেন ॥৩০॥ চারচক্ষু নরপতি প্রভূত চরবর্গে সম্পন্ন থাকিবেন কিন্তু তিনি চরবিহীন হইলে সমতল পথেও অন্ধের ন্যায় পতিত হন অর্থাৎ চর না থাকায় শত্রুর চেষ্টা অবগত হইতে না পারিয়া শত্রুর অল্প চেষ্টাতেই মূঢ়ের ন্যায় পরাভূত হন ॥৩১॥ রাজা চরের দ্বারা বিপক্ষদিগের অমাত্যবর্গের সম্পৎ, রাজকোষ, তাহাদের সকল অবস্থার চেষ্টা এবং তাহারা দূত-প্রেরণকারী রাজার দেশ প্রার্থনা করে কি না এই সমুদয় জানিবেন ॥৩২॥ চর দুই প্রকার—প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য (গুপ্ত)। গুপ্তচরের কথা বলা হইল; প্রকাশ্য যে চর তাহাকে দূত কহে ॥৩৩॥ ঋত্বিক যজ্ঞস্থলে কর্ম্মকাণ্ডের
৮৮ কামন্দকীয় নীতিসার। সূত্রানুসারে যেমন যজ্ঞকার্য্যের অনুষ্ঠান করেন সেইরূপ নীতিবিশারদ ব্যক্তি চরের সাহায্যে নীতিচালনা করিবেন। দূত সন্ধান দিলে, তবে গূঢ়চর তাহার সত্যতা নির্দ্ধারণ করিবে ॥৩৪॥ বেশ ও আচরণকে সংস্থা কহে। রাজকার্য্যের সমৃদ্ধির জন্য (পাঠান্তরে—কার্য্যসিদ্ধির জন্য) বেশ ও চরিত্র-বিশেষযুক্ত গূঢ়চরকে সংস্থা নামক চর কহে। ইহাদের মধ্যে যাহারা শত্রুর কার্য্যকলাপ লক্ষ্য করে, তাহাদিগকে সঞ্চার কহে। (পাঠান্তরে—সংস্থা চর পরিচারকের ছলে রাজার পার্শ্বচর হইয়া থাকিবে) ॥৩৫॥ বণিক্, কৃষক, লিঙ্গী (সন্ন্যাসী), ভিক্ষুক (পরিব্রাজক প্রভৃতি), অধ্যাপক (নামান্তরে—কাপটিক) ইহারা সংস্থানামক চর এবং ইহারা পূর্ব্বোক্ত বণিক্ প্রভৃতির কপট-বৃত্তি অবলম্বন করিয়া চারগণের আশ্রয় দিবার জন্য (রাজার বৃত্তিতে) স্বচ্ছন্দে থাকে ॥৩৬॥ স্বরাজ্যে এবং পররাজ্যে সর্ব্বত্র মন্ত্রী, পুরোহিত, সেনাপতি, যুবরাজ, দৌবারিক, অন্তর্দ্বংশিক, প্রশান্তা, সমাহর্ত্তা, সন্নিধাতা, প্রদেষ্টা, নায়ক, পৌর, ব্যাবহারিক, পরিষদধ্যক্ষ, দণ্ডপাল, দুর্গপাল, অন্তপাল এবং আটবিক এই আঠার জনের কার্য্যস্থানেই পরচিত্ত- বেদী সঞ্চার নামক চরগণ থাকিবে ॥৩৭॥ তীক্ষ্ণ (মরিয়া অস্ত্রজীবী), প্রব্রাজক (ভিক্ষুক লিঙ্গী), সত্রী (ছদ্মবেশধারী) এবং রসদ (বিষ প্রয়োগ- কারী) ইহারাই সঞ্চারের মধ্যে প্রধান। ইহারা কেহ কাহাকেও চিনে না
- ॥৩৮॥ যিনি [চরদ্বারা] স্বপক্ষের কিংবা বিপক্ষের চেষ্টা বুঝিতে না পারেন তিনি শত্রুরা তাঁহার ছিদ্রান্বেষী হইলেও (পাঠান্তরে—জাগিয়া থাকিয়াও) নিদ্রিত থাকেন, আর কখনও পুনরায় জাগরূক হন না অর্থাৎ শত্রুকবলে পতিত হইয়া বিনষ্ট হন; ফলতঃ স্বপক্ষের ও পরপক্ষের চেষ্টা সর্ব্বদাই বুঝিতে হইবে নতুবা অনিষ্ট অবশ্যম্ভাবী ॥৩৯॥ স্বপক্ষীয় লোকদিগের মধ্যে কোন ব্যক্তি কারণ প্রযুক্ত ক্রুদ্ধ আর কোন ব্যক্তি অকারণে ক্রুদ্ধ তাহা বুঝিবে। অকারণ-ক্রুদ্ধ পাপীদিগকে
- এই ৩৮ সংখ্যক শ্লোকটি কলিকাতা সংস্করণে ৩৫ সংখ্যক শ্লোক।
১৩শ সর্গ ] দূত-চর-বিকল্প। ৮৯ তীক্ষ্ণ-চরদ্বারা গুপ্তভাবে হত্যা করিবে ॥৪০॥ যাহারা কারণে ক্রুদ্ধ হয় তাহাদিগকে বশীভূত করিবে এবং অরির মুখ যে ছিদ্র ( অর্থাৎ প্রকৃতিবর্গের ক্রোধ লোভ ভয় মান প্রভৃতি যে দোষরূপ ছিদ্র ) তাহা দান এবং মানদ্বারা প্রশান্ত করিবে ( পাঠান্তরে—অকারণ-ক্রুদ্ধ ব্যক্তিদিগকে দান ও মানদ্বারা বশীভূত করিবে এবং ছিদ্র পূরণ করিবে ) ॥৪১॥ রাজ্যের কণ্টকদিগের প্রধান ব্যক্তিকে হত্যা করিয়া উহাদিগকে প্রশান্ত করিবে এবং উদ্যোগী হইয়া সাম-দান-প্রয়োগে ছিদ্র পূরণ করিবে * ॥৪২॥যানপাত্রে (অর্থাৎ নৌকায়) ক্ষুদ্রছিদ্র পাইয়া জল প্রবেশ করিয়া যেমন তাহাকে ডুবাইয়া দেয় সেইরূপ শত্রু অতিক্ষুদ্র ছিদ্র পাইয়া তাহাদ্বারা প্রবেশ করিয়া বলবান্ হইয়া রাজ্যকে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করিয়া দেয় ॥৪৩॥ জড় মূক অন্ধ ও বধিরের ভেলধারীগণ, পণ্ডক ( নপুংসক ), কিরাত, বামন, কুব্জ, কারুকার্য্যকারী, ভিক্ষুক, চারণ ( নট ও নর্ত্তক ), দাসীগণ, মালাকার, কলাশাস্ত্রজ্ঞ—এই সমুদয় লোক অলক্ষিতভাবে অন্তঃপুর-সংক্রান্ত-সংবাদ আহরণ করিবে ॥৪৪-৪৫॥ ছত্রধারী ব্যজনধারী ভৃঙ্গারধারী যানবাহক বাহনরক্ষক হস্তিপক এবং অন্যান্য অশ্বপালক গোপালক ও রথচালক প্রভৃতি ইহারা বাহিরের বার্তা দিবে ॥৪৬॥ অন্নপাচক (পাঠান্তরে—ডালপাচক), ব্যঞ্জনপাচক, কল্পক (নাপিত), (পাঠা- ন্তরে—শয্যারচনকারী), স্নাপক ( যে স্নান করাইয়া দেয়), (পাঠান্তরে— ব্যয়ক ( অর্থাৎ যে হুকুমমত টাকা দেয় ), প্রসাধক, ভোজক ( অর্থাৎ যে হাতে করিয়া খাদ্য আনিয়া দেয় ), গাত্র-সংবাহক, যাহারা জল-পান-ফুল-সুগন্ধি- দ্রব্য-আভরণ আনিয়া দেয় এবং যাহারা নিকটে থাকে, ইহাদিগকে রসদ (বিষপ্রয়োগী) করিবে ॥৪৭-৪৮॥ সাঙ্কেতিক-শব্দ প্রয়োগে, ম্লেচ্ছভাষা প্রয়োগে, চিঠি-পত্র ব্যবহারে, আকার ও ইঙ্গিত দ্বারা চরগণ অতি সাবধানে পরস্পরের চারচর্য্যা অর্থাৎ চরসম্বন্ধীয় কর্ত্তব্যকার্য্যের অনুষ্ঠান করিবে ॥৪৯॥ সূর্য্যের রশ্মিজাল যেরূপ ভূমির জল আকর্ষণ করে সেইরূপ সমস্ত জগতের
- এই ৪২ সংখ্যক শ্লোকটি কলিকাতা সংস্করণে নাই।
৯০ কামন্দকীয় নীতিসার। সমস্ত মত সম্যকরূপে পান করিয়া বিবিধ শিল্প-বিদ্যা ও অধ্যয়নে সুনিপুণ চরগণ বহুরূপী সাজিয়া বিচরণ করিবে ॥৫০॥ নিজের সমৃদ্ধির জন্য শত্রুর এবং নিজের বিষয় অবগত হইয়া যে প্রণিধান (অর্থাৎ চররীতি) দ্বারা শত্রুকে বশে আনিতে পারা যায়, নিজে নিজে খুব সাবধান হইয়া শত্রুর প্রযুক্ত ঐ প্রণিধান চরণীতিজ্ঞ ব্যক্তিগণ দ্বারা জানিবে ॥৫১॥ ইতি কামন্দকীয় নীতিসারে রাজোপদেশে দূতপ্রচার ও দূত-চর- বিকল্প নামক ত্রয়োদশ-সর্গ॥ চতুর্দ্দশ-সর্গ। ❊ উৎসাহ প্রশংসা। চরচর্য্যাতে বার বার দূতের চেষ্টা বিফল হইলে (অর্থাৎ শত্রুপক্ষীয় চরগণ গুপ্তভাবে তাহাদের শত্রুদলে মিশিয়া তাহাদের বিপক্ষ-রাজার উদ্দেশ্য বিফল করিলে), [বিজিগীষু] রাজা সূক্ষ্মবুদ্ধি অবলম্বন করিয়া (১১ সর্গের ১ শ্লোক দ্রষ্টব্য) অনুরক্ত প্রকৃতিবর্গের সহিত অভিযান করিবেন (পাঠান্তরে—চরচর্য্যায় প্রতিদিন দূতের চেষ্টা সফল হইতেছে জানিয়া উপযুক্ত লাভের সম্ভাবনায় সূক্ষ্মবুদ্ধি সহকারে শত্রুর প্রতি অভিযান করিবেন) ॥১॥ অরণি (অর্থাৎ ঘর্ষণদ্বারা অগ্নি উৎপাদনের কাষ্ঠ) যেমন অগ্নি প্রসব করে, সেইরূপ সূক্ষ্ম অথচ দৃঢ়বুদ্ধি যদি সত্ত্ব ও প্রযত্নদ্বারা যুক্ত হয় (অর্থাৎ ব্যসনে বা অভ্যুদয়ে বিকারশূন্য হইয়া অধ্যবসায় যুক্ত হয়, আর বিচারদ্বারা হেয় অংশ পরিত্যাগ করিয়া উপাদেয় অংশের গ্রহণকারী হয়) তাহা হইলে উৎকৃষ্ট ফল প্রসব করে ॥২॥ ধাতুর মধ্য হইতে যেমন স্বর্ণকে নিষ্কাশিত করা হয় এবং দুগ্ধ-মন্থন করিয়া যেমন ঘৃত আহরণ করা হয়, সেইরূপ সত্ত্ববুদ্ধি ও প্রযত্নযুক্ত
- কলিকাতা সংস্করণে ইহা ১৩শ সর্গ।
१४श सर्ग ] उत्साह प्रशंसा। ९१ व्यवसाय हइते निश्चयइ फललाभ हइया थाके ॥३॥ महासमुद्र येमन जलराशिर आश्रय सेइरूप धीमान् उत्साह-सम्पन्न ओ व्यवसाय-युक्त ( पाठान्तरे—प्रभुशक्ति-सम्पन्न ) व्यक्ति लक्ष्मीर उत्कृष्ट आश्रय ॥४॥ जले येमन नलिनी जीवित थाके सेइरूप बुद्धि थाकिले लक्ष्मीओ थाके। बुद्धि उत्थान ओ अध्यवसाय युक्त हइले ऐ लक्ष्मीर विस्तार हय ॥५॥ छाया येमन कायाके छाड़े ना अथच समये विस्तार प्राप्त हय सेइरूप उत्साह-सम्पन्न एवं बुद्धि द्वारा शुद्धरूपे चलिते समर्थ व्यक्तिर निकट हइते लक्ष्मी एकपाओ सरेन ना। बरं ताहार लक्ष्मी-सम्पत् बाड़िया याय ॥६॥ नदीसकल येमन समुद्रे प्रवेश करे सेइरूप सम्पत् समुदय बासनशून्य अश्रान्त महोत्साही ओ महामति-सम्पन्न व्यक्तिते उपगत हय ॥७॥ स्त्रीगण येमन नपुंसकके पराभूत करे, सेइरूप सत्बुद्धियुक्त हइलेओ याहार मन सर्व्वदा वासनासक्त तादृश अलस व्यक्ति सम्पद् हइते बञ्चित हय ॥८॥ काष्ठ येमन अग्निके परिवर्द्धित करे सेइरूप उत्साहद्वारा सत्त्वके ( अर्थात् बासन बा अभ्युदये विकारशून्य अध्यवसायके ) वर्द्धित करिबे। सतत उद्योगी व्यक्ति दुर्बल ( अर्थात् कोषद्ण्डविहीन ) हइलेओ निश्चयइ लक्ष्मीलाभ करे ॥९॥ दुष्ट स्त्रीके येमन बलपूर्व্বক भोग करिते हय सेइरूप पुरुषकार- सहकारे श्रीसम्पत् भोग करिबार जन्य उद्योग करिबे; कखनओ क्लीबेर न्याय आचरण करिबे ना अर्थात् उत्साह त्याग करिबे ना ॥१०॥ दुर्विनीत स्त्रीके येमन केशाकर्षणपूर्व্বক वशीभूत करिते हय, सेइरूप सर्व्वदा उद्योगी व्यक्ति सिंहवृत्ति अवलम्बन करिया लक्ष्मीके वशे आनिबेन ॥११॥ शत्रुदिगेर मणिरञ्जित किरीटयुक्त शिरस्त्राण-शोभित मस्तके पदार्पण ना करिया पुरुष कखनइ भद्रता लाभ करिते पारे ना ॥१२॥ अतिशय यत्ने प्रेरित प्रमत्त चित्त-हस्ती द्वारा प्रबल वैरि-वृक्षके उन्मूलित करिते ना पारिले सुख सम्भावना कोथाय ? ॥१३॥ हेलाय आकृष्ट देदीप्यमान तीक्ष्ण-खड्गेर किरणे अतिमात्र-रञ्जित सुन्दर-
৯২ কামন্দকীয় নীতিসার। করিকর-সদৃশ হস্তদ্বারাই সম্পদ্রাজি আহৃত হয় ॥১৪॥ মহৎ ব্যক্তি উচ্চতর পদ লাভের ইচ্ছা করিয়া উচ্চপদই পাইয়া থাকেন এবং নীচ ব্যক্তি অধঃপতনের আশঙ্কা করিয়াই নীচ হইতে নীচতর পদেই পতিত হয় ॥১৫॥ মহাপরাক্রান্ত সিংহ যেমন বিপুলকায় মত্তহস্তীর মস্তকে পদাঘাত করে সেইরূপ মহাবলশালী ব্যক্তি নিজ অপেক্ষায় অধিক সমৃদ্ধিশালী ব্যক্তিকে পদানত করিতে পারে। ॥১৬॥ সর্প যেমন ভয়ঙ্কর ফণা দেখায় সেইরূপ ভয়হীন হইয়া শত্রুকে ভয় দেখাইবে এবং যথাশক্তি শত্রুর দণ্ডবিধান করিবে ॥১৭॥ ইতি উৎসাহ প্রশংসা। প্রকৃতিকর্ম্ম। যাহা হইতে প্রকৃতিবর্গের ব্যসন উপস্থিত হয়, সেই কারণ প্রশমিত করিয়া যুদ্ধযাত্রা করিবে। অনয় (অশুভ) এবং অপনয় (অপচয়) যথাক্রমে দৈবব্যসন ও মানুষব্যসন। যাহা শ্রেয়ঃধ্বংস করে তাহাকে ব্যসন কহে। ব্যসনী ব্যক্তি নীচগতি প্রাপ্ত হয় অথবা বিনষ্ট হয় (পাঠান্তরে—ব্যসনী- ব্যক্তি ক্রমশঃ অধোগতি প্রাপ্ত হয়), অতএব ব্যসন ত্যাগ করিবে ॥১৮-১৯॥ অগ্নিপীড়া, জলপীড়া, ব্যাধি, দুর্ভিক্ষ, মহামারী এই পাঁচপ্রকার দৈবব্যসন। ইহা ব্যতীত আর যাহা কিছু বিপৎ সে সমুদয়ই মানুষব্যসন ॥২০॥ কার্য্যতত্ত্ববিৎ ব্যক্তি পুরুষকার অথবা শান্তি-স্বস্ত্যয়ন দ্বারা দৈবব্যসনের নাশ করিবে এবং উৎসাহদ্বারা (দুর্গাদির পর্যবেক্ষণাদি দ্বারা) ও সামাদি নীতি প্রয়োগদ্বারা মনুষ্যব্যসন নিরাকরণ করিবে ॥২১॥ স্বামী (বিজিগীষু) হইতে মিত্র পর্য্যন্ত যে মণ্ডল, তাহার নাম প্রকৃতি- মণ্ডল। এই প্রকৃতিমণ্ডলের কর্ম্ম এবং ব্যসন যথাক্রমে বলিতেছি ॥২২॥ মন্ত্র, মন্ত্রফলের প্রাপ্তি, কার্য্যের অনুষ্ঠান, আয়তি (প্রভাব), আয়-ব্যয়-জ্ঞান, দণ্ডনীতি, শত্রুদমন, ব্যসনের প্রতীকার এবং রাজার ও রাজ্যের রক্ষা (পাঠান্তরে—রাজাকে রাজ্যে অভিষেক করা)—এইগুলি অমাত্যের কর্ম্ম। কিন্তু অমাত্য ব্যসনী হইলে পূর্ব্বোক্ত সমুদয়ই বিনষ্ট হইয়া যায় ॥২৩-২৪॥
১৩শ সর্গ ] প্রকৃতি কর্ম্ম। ৯৩ অমাত্যগণ ব্যসনী হইয়া রাজাকে আকর্ষণ করিলে ছিন্নপক্ষ পক্ষীর ন্যায় রাজা অভিধানে অসমর্থ হন॥২৫॥ (কোষ, দণ্ড, কুপ্য, পিষ্ট—সীসক, বাহন) * হিরণ্য, বস্ত্র, ধান্যাদি, বাহনাদি ও অন্যান্য দ্রব্য সমুদায় প্রজার নিকট হইতে [ রাজা ] পাইয়া থাকেন॥২৬॥ প্রজা বার্তা-সাধন করে এবং বার্ত্তাই লোকরক্ষা করে; প্রজা ব্যসনস্থ হইলে কিছুমাত্র সিদ্ধ হয় না॥২৭॥ শত্রু-সমাগমরূপ বিপদ উপস্থিত হইলে ঐ দেশবাসীগণ আপনাদের রাজ্যের দুর্গবাসীদিগের অবলম্বনের জন্য প্রজাদিগের পরিত্রাণ ও কোষদণ্ডের রক্ষা করিয়া উপকার করিবে॥ ২৮॥ দুর্গ আশ্রয় করিয়া অপ্রকাশ্যে ভেদসাধনাদি, লোকরক্ষা, মিত্র এবং অমিত্রের পরিগ্রহ, সামন্ত ও আটবিকের পীড়া নিবারণ করা যায়॥২৯॥ দুর্গস্থ নরপতিকে স্বপক্ষ ও পরপক্ষ সকলেই পূজা করে; অতএব দুর্গের ব্যসন উপস্থিত হইলে সমস্তই বিপন্ন হয়॥ ৩০॥ ভৃত্যপোষণ, দান, ভূষণ, যান, বাহন, স্থিরতা, শত্রু-পক্ষকে উপজাপ (ভেদ করা), দুর্গসংস্কার, সেতুবন্ধন, বাণিজ্য, প্রজাপরিগ্রহ ও মিত্রপরিগ্রহ, ধর্ম্মসিদ্ধি, কামসিদ্ধি ও অর্থসিদ্ধি—এইগুলি কোষ হইতে সম্পন্ন হয়॥ ৩১-৩২॥ অর্থই রাজার মূল—এই প্রবাদ সর্ব্বজন সিদ্ধ। অতএব কোষের ব্যসন উপস্থিত হইলে রাজার পূর্ব্বোক্ত সমস্ত শীঘ্রই নষ্ট হইয়া যায়॥৩৩॥ অর্থশালী নরপতি অর্থদ্বারাই ক্ষীণবল বর্দ্ধিত করেন, [অর্থদ্বারাই] প্রজাবর্গকে আয়ত্ত করেন, এবং শত্রুরাও [অর্থমোহেই] তাঁহার আশ্রয় গ্রহণ করে॥৩৪॥ মিত্র, অমিত্র, হিরণ্য ও ভূমির আত্মসাৎকরণ, দূরের কার্য্যও শাস্ত্র সম্পাদন, লব্ধবস্তুর রক্ষা, শত্রুচক্রের ব্যাঘাতসাধন, নিজের প্রভাব
- ট্রাভাঙ্কুর সংস্করণে এই অংশ সম্বন্ধে লিখিত হইয়াছে যে তাহাদের ‘ক’ পুস্তকে এই অংশ পাওয়া গিয়াছে কিন্তু ব্যাখ্যাকার ধরেন নাই। আর কলিকাতা সংস্করণেও এ অংশ নাই।
৯৪ কামন্দকীয় নীতিসার। অক্ষুণ্ণ রাখা—এইগুলি দণ্ড হইতে সাধিত হয়। আর দণ্ডের-ব্যসন উপস্থিত হইলে এইগুলির ক্ষয় হয় ॥৩৬॥ দণ্ডবান্ নরপতির শত্রুগণও নিশ্চয়ই মিত্র হইয়া থাকে। দণ্ডপরিচালন সমর্থ নরপতি বলপূর্ব্বক আক্রমণ করিয়া পৃথিবী ভোগ করে ॥৩৭॥ মিত্র স্নেহপ্রযুক্ত হইয়া প্রকাশ্যে বিজীগীষুর শত্রুর মিত্রকে স্তম্ভিত করে, শত্রুর বিনাশ করে এবং ভূমি কোষ দণ্ড ও প্রাণ দিয়াও উপকার করে। মিত্রের ব্যসন উপস্থিত হইলে মিত্রের কার্য্যকারিত্ব থাকে না ॥৩৮-৩৯॥ উপকার না পাইয়াও মিত্র মিত্রের মঙ্গলই করিয়া থাকে। মিত্রসম্পন্ন ব্যক্তি অনায়াসেই দুঃসাধ্য-সাধন করিতে সমর্থ হন ॥৪০॥ বিদ্যাসমুদয়ের আলোচনা, বর্ণাশ্রম-ধর্ম্মের রক্ষা, শস্ত্রশিক্ষা ও শাস্ত্রশিক্ষা, যুদ্ধনীতিশিক্ষা, ব্যায়াম, শাস্ত্রবিজ্ঞান (পাঠান্তরে—শস্ত্রবিজ্ঞান), বর্ম্ম (পাঠান্তরে—কন্ম) সমূহের লক্ষণজ্ঞান, হস্তী অশ্ব ও রথে আরোহণ ও উহাদের পরিচালনের কৌশলজ্ঞান, মল্লযুদ্ধের কৌশলশিক্ষা, মায়াদ্বারা পরচিত্ত-প্রবেশ-জ্ঞান, ধূর্ত্তের নিকট ধূর্ত্ততা, সাধুর নিকট সাধুতা, মন্ত্রিদিগের সহিত মন্ত্রণা, একাকী মন্ত্রিত-বিষয়ের বিচার, মন্ত্রগুপ্তি, মন্ত্রের তাৎপর্য্য-জ্ঞান (পাঠান্তরে—মন্ত্রানুসারে অবস্থান), উপেক্ষা, সাম দান ভেদ ও দণ্ডের সাধন, প্রশাস্তা (সৈন্যাধ্যক্ষ), সূত (রথচালক), সেনাপতি মন্ত্রী অমাত্য ও পুরোহিত ইহাদের কার্য্যের পর্যবেক্ষণ, দুর্ব্বৃত্তদিগের পরিত্যাগ (পাঠান্তরে—দুষ্টদিগের কারাগারে অবরোধ), কে কি কারণে রাজ্যে প্রবেশ করিতেছে আর কে কি কারণেই বা রাজ্যের বাহিরে যাইতেছে তাহার জ্ঞান, দূতপ্রেরণ, প্রকৃতিব্যসন-নিরোধ, ক্রোধীর ক্রোধপ্রশমন, গুরুদিগের অনুসরণ, পূজ্যব্যক্তিদিগের সম্মান- রক্ষা, ধর্ম্মাধিকারের প্রবর্তন, রাজ্যের কণ্টকশোধন, সমস্ত অনুজীবিগণের মধ্যে কে প্রকৃত ভরণীয় আর কে ভরণীয় নয় তাহার জ্ঞান, উহাদিগের মধ্যে কে কার্য্য করে আর কে কার্য্য করে না তাহার পরীক্ষা এবং উহাদিগের
१४श सर्ग ] प्रकृति कर्म्म। ९५ मध्ये के सन्तुष्ट के असन्तुष्ट ताहार विचार, मध्यम ओ उदासीनेर चरित्रज्ञान एवं उहादेर सिद्धि, अर्थात् सन्धिर पालन, मित्रदिगेर सहित मित्रता रक्षा, शत्रुदिगेर निग्रह, पुत्र ओ द्वारा प्रभृति हइते आत्मरक्षा, बन्धुवर्गेर सहित मित्रता-रक्षा, खनि-द्वीप-वन दुर्ग-सेतु-वाणिज्येर पथ प्रभृति राजकीय वृत्तिर यथायथ परिचालन, असत्लोकदिगेर वृत्ति रोध करा, सज्जनदिगेर वृत्ति स्थापन करा, सकल जीवे अहिंसा, अधार्म्मिकदिगेर बर्ज्जन, अकार्य्येर प्रतिषेध, कर्त्तव्यकार्य्येर प्रवर्त्तन, दातव्यवस्तु ( क्षेत्रादिर ) दान, अदानार्ह ( पापार्ज्जित ) अर्थसंग्रह करिबे ना ( पाठान्तरे—याहा दानयोग्य नय ताहार संग्रह ), अदण्डनीयेर दण्ड-निषेध, दण्डनीयेर दण्डविधान, अग्राह्य ( अर्थात् पूर्ब्बवैरि अथवा स्वभावतः विद्वेषी ) दिगेर अग्रहण, ग्राह्यदिगेर ग्रहण, अर्थयुक्त ( सफल अभियानादिर ) अनुष्ठान, अनर्थेर ( अर्थात् बलवानेर सहित विग्रह प्रभृतिर ) बर्ज्जन, न्यायसङ्गत करग्रहण, करदाने असमर्थ व्यक्तिर कर रेहाइ करा, प्रधान व्यक्तिदिगेर समर्थन ( पाठान्तरे— संवर्द्धन ), दुष्ट व्यक्तिदिगेर निराकरण, वैषम्येर प्रशमन, भृत्यदिगेर विरोधेर मीमांसा, अविज्ञात विषयेर ज्ञान, ज्ञात-विषयेर अवधारण, सर्व्वदाइ कार्य्येर आरम्भ, आरब्धकार्य्येर परिसमाप्ति, अलब्धविषयेर न्यायानुसार लाभेच्छा, लब्धवस्तुर परिवर्द्धन, बर्द्धित विषय हइते विधिपूर्ब्बक सत्पात्रे अर्पण, अधर्म्मेर प्रतिषेध, न्यायानुसार चला, उपकार्य्य ( अर्थात् उपकारेर उपयुक्त ) व्यक्तिर उपकार—एइगुलि राजार वृत्ति ॥४१—५८॥ राजा नीतिपरायण हइया उद्योगी हइले एइ अमात्यादि समुदायेर उन्नति-साधन करेन एवं व्यसनी हइले एइ समुदाय क्षय करेन ॥५९॥ राजा धर्म्म एवं अर्थ उपार्ज्जने उत्कण्ठित हइया अनुद्विग्नचित्त हइले मन्त्री एइ समुदायेर विशेषरूप उन्नति करिते पारेन अर्थात् राजा व्यसनी ना हइया उद्योगी ओ नीतिपरायण हइले मन्त्री সমুদय कार्य्य सुशृङ्खलभावे परिचालित करिया राज्येर उन्नति करिते पावेन ॥६०॥ इति प्रकृति कर्म्म ॥
৯৬ কামন্দকীয় নীতিসার। প্রকৃতিব্যসন। বাক্পারুষ্য, দণ্ডপারুষ্য, অর্থদূষণ (অর্থাৎ অন্যায়ভাবে করগ্রহণ), পান, স্ত্রী, মৃগয়া এবং দ্যূত (জুয়া খেলা)—এইগুলি রাজার ব্যসন ॥৬১॥ আলস্য, স্তব্ধতা, দর্প, প্রমাদ (অনবধানতা), বৈরকারিতা (অকারণ ঝগড়া বাধান) এবং পূর্ব্বোক্ত বাক্পারুষ্য হইতে দ্যূত পর্যন্ত বিষয়গুলি মন্ত্রীর ব্যসন বলিয়া কথিত হয় ॥৬২॥ অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, মূষিক, শলভ (পঙ্গপাল), অসংকর (অতিরিক্ত কর), দণ্ড (অসমীচীন দণ্ড), শত্রুসৈন্য কর্তৃক পীড়া, চোর ও রাজসৈন্য এবং রাজপ্রিয় ব্যক্তিদিগকে নিয়মাধীন রাখিতে না পারা, মড়ক, ব্যাধি, দুষ্টলোকের অত্যাচার, পশুবর্গের বিপৎ (পাঠান্তরে—মৃত্যু) এবং পশুদিগের রোগ— এইগুলিকে রাষ্ট্রব্যসন বলে ॥৬৩-৬৪॥ যন্ত্রের, প্রাচীরের ও পরিখার জীর্ণতা; হীনশস্ত্রতা; ঘাস ও ইন্ধনের ক্ষীণতা—এইগুলি দুর্গের ব্যসন বলিয়া কথিত হয় ॥৬৫॥ অসদ্ভাবে ব্যয়িত, পরিক্ষিপ্ত (বহুস্থানে অনাদায়ীয়ভাবে স্থিত), ভক্ষিত (কীটাদিদ্বারা বিনষ্ট), অসঞ্চিত, মুষিত (সামন্ত ও আটবিকগণ- কর্তৃক অপহৃত) এবং দূরদেশে অবস্থিত—এইগুলি কোষের (ধনাগারের) ব্যসন ॥৬৬॥ উপরুদ্ধ, পরিক্ষিপ্ত (অর্থাৎ বহুস্থানে দুইচারিজন করিয়া ছড়াইয়া থাকা), বিমানিত (অত্যন্ত অপমানিত), অমানিত (অপমানিত), অভৃত (বেতন ও উপযুক্ত আহারাদির অভাবগ্রস্ত), ব্যধিত, শ্রান্ত, দূরায়াত (দূরপথ অতিক্রম করিয়া আগত), নবাগত (অপরিচিত স্থানে আগত), পরিক্ষীণ (বিশিষ্ট বীরশূন্য), প্রতিহত (পরাজিত) (পাঠান্তরে— অগ্ররহিত অর্থাৎ নেতারহিত), প্রহতাগ্রজব (প্রধান বীর বিনষ্ট), আশাস্ত্রষ্ট, অভূমিষ্ট (অর্থাৎ যুদ্ধের অযোগ্য স্থানে অবস্থিত), অনৃতপ্রাপ্ত (মিথ্যাাপবাদগ্রস্ত), কলত্রগর্ভী (যে সৈন্যদলে স্ত্রীলোক থাকে),
১৪শ সর্গ ] প্রকৃতি-ব্যসন। ৯৭ অতিক্ষিপ্ত (পাঠান্তরে—বিক্ষিপ্ত), অন্তঃশল্য ( ভেদকারীলোকযুক্ত ), ভেদগর্ভ (একতাশূন্য) বা অপসৃত (কতকগুলি পলায়িত), অবমুক্ত (প্রধান পরিত্যক্ত), (পাঠান্তরে—অবিযুক্ত অর্থাৎ প্রধান পরিশূন্য ), ক্রুদ্ধমৌল ( পৈতৃক-বিশ্বস্ত- সৈন্যের ক্রোধযুক্ত), অরিমিত্র-যুক্ত, শত্রুপক্ষীয়-লোকযুক্ত, দৃষ্যযুক্ত (রাজ- পরিত্যক্ত-লোকযুক্ত ), স্ববিক্ষিপ্ত ( নিজ রাজ্যমধ্যে বিক্ষিপ্ত ), মিত্রবিক্ষিপ্ত (মিত্রকে দত্ত), বিচ্ছিন্নবীবধ (ধান্যের আমদানী শত্রুরা বিচ্ছেদ করিয়াছে ), বিচ্ছিন্ন-আসার ( যাহার সুহৃদ্বল বিচ্ছিন্ন হইয়াছে ), শূন্যমূল (জনপদবাসীর অরক্ষিত), অস্বামিসঙ্গত ( রাজার সহিত মিলন পরিশূন্য ), ভিন্নকূট ( প্রধান সেনাপতিশূন্য ), দুষ্টপার্ষ্ণিগ্রাহযুক্ত, অন্ধ ( নীতির উপদেষ্ট।-রহিত )—এইগুলি সৈন্যের ব্যসন ॥৬৭-৭১ ১/২ ॥ এই বলব্যসনের মধ্যে কতকগুলি ব্যসনের প্রতীকার অসম্ভব এবং কতকগুলি ব্যসনের প্রতীকার সম্ভব, এক্ষণে তাহাই বলা হইবে ॥৭২ ॥ উপরুদ্ধ অবস্থায় বাহিরে আসিয়া মরিয়া হইয়া যুদ্ধ করিবে। পরিক্ষিপ্ত হইয়া যদি চারিদিকে শত্রু-বেষ্টিত হয় তাহা হইলে দুর্গ হইতে বা ব্যূহ হইতে বাহির হইবে না ( পাঠান্তরে—পরিক্ষিপ্ত হইলে চারিদিক হইতে বিক্ষিপ্তদিগকে আনিয়া যুদ্ধের জন্য বাহির হইবে) ॥৭৩॥ অমানিত অবস্থায় তাহাদিগকে সম্মান দেখাইয়া ও অর্থ দিয়া যুদ্ধে প্রেরণ করিবে। অত্যন্ত অপমানিত অবস্থায় ক্রোধে প্রজ্বলিত থাকে বলিয়া তাহাদিগকে লইয়া যুদ্ধ করিবে না ॥৭৪॥ অভৃত অবস্থায় তখনই উপযুক্ত বেতনাদি দিয়া যুদ্ধে পাঠাইবে। ব্যাধিত ব্যক্তি অকর্ম্মণ্য, অতএব পরাভব প্রাপ্ত হয়, এইজন্য তাহাদিগকে যুদ্ধে লইবে না ॥৭৫॥ পরিশ্রান্ত সৈন্যকে রীতিমত বিশ্রাম দিয়া যুদ্ধে পাঠাইবে। দূরায়াত-সৈন্য হাঁপাইয়া পড়ে, তখন তাহার অস্ত্রগ্রহণের ক্ষমতা থাকে না ॥৭৬॥ নবাগত সৈন্যকে নূতনস্থানের সৈন্যদিগের সহিত মিলিত করিয়া ও উহাদের নীতি অবলম্বন করাইয়া যুদ্ধে নিযুক্ত করিবে। পরিক্ষীণ অবস্থায় নেতা ও প্রধান ব্যক্তিগণ বিনষ্ট ৭
৯৮ কামন্দকীয় নীতিসার। হওয়ায় ঐ সৈন্যদলকে যুদ্ধে লইবে না ॥৭৭॥ প্রতিহত অবস্থায় দলে বড় বড় বীর থাকায় তাহাদিগকে যুদ্ধে লইবে। হতাগ্রজব অবস্থায় প্রধান প্রধান বীরগণ বিনষ্ট হইয়াছে বলিয়া এই সৈন্যদল যুদ্ধে অসমর্থ ॥৭৮॥ অর্থ- প্রাপ্তি না হওয়ায় আশাভঙ্গ হইয়াছে এইরূপ আশানিৰ্ব্বেদী অবস্থায় পুনর্ব্বার অর্থ প্রাপ্তির আশা পূর্ণ থাকায় তাহাকে লইয়া যুদ্ধ করিবে। (পাঠান্তরে—আশাভঙ্গ অবস্থায় অর্থলাভ হইলে আশাপূর্ণ হয়, সে অবস্থায় তাহাকে যুদ্ধে লইবে না)। অভূমিষ্ঠ অবস্থায় যুদ্ধের ভূমি সঙ্কীর্ণ হওয়ায় সৈন্য- পরিচালনা করিতে পারা যায় না, এইজন্য ঐ অভূমিষ্ঠ-সৈন্যকে (অনুপযুক্ত স্থানস্থিত সৈন্যকে) যুদ্ধে লইবে না ॥৭৯॥ অনূত-সম্প্ৰাপ্ত সৈন্যদলে যথাযোগ্য বাহন ও অস্ত্রাদি থাকায় ঐ সৈন্যদলকে যুদ্ধে লইবে। যে সৈন্যদলের স্ত্রীলোকগণ স্বচ্ছন্দ ও সবল, সেই কলত্রগর্ভী সৈন্যদল যুদ্ধ করিতে সক্ষম ॥৮০॥ শত্রু মিত্র প্রভৃতি বহু রাজ্যে অবস্থিত অতএব অতিক্ষিপ্ত (বিচ্ছিন্ন ভাবাপন্ন) সৈন্যদিগকে যুদ্ধে নিয়োগ করিবে না। যে সৈন্যদলে শত্রুপক্ষ প্রবিষ্ট হইয়া আছে সেই অন্তঃশল্যযুক্ত সৈন্য যুদ্ধক্ষম নয় ॥৮১॥ পরস্পরের মধ্যে একতা নাই এইরূপ ভিন্নগর্ভ-সৈন্যদলকে যুদ্ধে লইবে না। এক রাজ্য হইতে অপর রাজ্যে চলিয়া যাওয়ায় এই অপসৃত-সৈন্যদল যুদ্ধে অসমর্থ ॥৮২॥ অবমুক্ত(পাঠান্তরে—অযুক্ত) সৈন্য- দলকে প্রধান পক্ষগণ ত্যাগ করায় উহারা যুদ্ধে অক্ষম। পিতৃপিতামহ- ক্রমাগত মৌল (অর্থাৎ বিশ্বস্ত) সৈন্যদল ক্রুদ্ধ হইলে তাহাদিগের ক্রোধ অপনোদন করিলে উহারা যুদ্ধে সক্ষম হয় ॥৮৩॥ মিত্র, শত্রুর সহিত একত্র থাকায় শত্রুর মিত্রকর্ত্তৃক আক্রান্ত হওয়ায় যুদ্ধে অক্ষম। সৈন্যমধ্যে শত্রু প্রবেশ করায় উহারা সামর্থ্য অনুসারে লড়িতে অসমর্থ ॥৮৪॥ দুষ্যযুক্ত সৈন্য- দলের কণ্টক উদ্ধৃত হইলে যুদ্ধ করাইবে। (পাঠান্তরে—সৈন্যদল দুষ্যযুক্ত হইলে তাহাদিগকে যুদ্ধে লইবে না, কিন্তু উহাদের ঐ দোষ নিবারিত হইলে উহাদিগকে যুদ্ধে নিয়োগ করিবে।) আর বিশ্বস্ত-প্রধান-ব্যক্তি-কর্ত্তৃক রক্ষিত
१४श सर्ग ] प्रकृति-व्यसन। ९९ हइले दुष्ययुक्त हइलेओ युद्धे नियुक्त करिबे ॥८५॥ विपत्काले स्वकीय विषय- मध्ये विकीर्णभावापन्न सैन्यदलके स्वविक्षिप्त कहे; एइ सैन्य युद्धे असमर्थ। उपयुक्त देशकाल पाओयाय मित्र-विक्षिप्त अर्थात् मित्रके देओया हइयाछे ये सैन्यदल ताहारा युद्धे अनुपयोगी ॥८६॥ बीबध बलिते धान्यादि रसद-वस्तुर प्राप्ति, एवं आसार बलिते सुहृद्बल। विच्छिन्न-बीबध सैन्यदल ओ विच्छिन्न-आसार सैन्यदल इहारा युद्धेर उपयुक्त नय ॥८७॥ जनपदबासीर अरक्षित सैन्यके शून्यमूल बले; इहारा युद्धे समर्थ। पिता-पितामहक्रमे पालकव्यक्ति शून्य हइले एइ शून्यमूल सैन्यदल युद्धे अक्षम ॥८८॥ मौलकर्तृक पालित शून्यमूल-सैन्यगण युद्धे समर्थ। *। स्वामीर सहित असम्बद्ध सैन्यके अस्वामि-सङ्गत-सैन्य कहे; इहारा युद्धेर अनुपयोगी ॥८९॥ भिन्नकूट अर्थे अनायक। अतएव भिन्नकूट सैन्यदलके युद्धे नियुक्त करिबे ना। दुष्पार्ष्णिग्राह बलिते ये सैन्यदलेर पार्ष्णिग्राह पश्चात् कोपेते अत्यन्त सन्तप्त हइयाछे; एइरूप सैन्यदल युद्धे असमर्थ ॥९०॥ उपदेष्टा-विरहितके अन्ध बले। ये सैन्यदले उपदेष्टा नाइ सेइ अन्ध-सैन्यदल मूढ; इहारा युद्धे अक्षम। एइ बल-व्यसनादि, साध्य कि असाध्य अर्थात् इहार प्रतीकार सम्भव कि असम्भव, তাহা सम्यक्रूपे विवेचना करिया अभियान करिबे ॥९१॥ दैवव्यसन, शत्रु-पीडा एवं काम आर क्रोध हइते उत्पन्न लोक-प्रसिद्ध मृगयादि ओ वाक्पारुष्यादि दोष—एइगुली मित्रव्यसन ॥९२॥ नरेन्द्र प्रभृति ये सातटि प्रकृति बला हइयाछे ताहारिगेर ये व्यसन, ताहारा पूर्व्व पूर्व्व गुरुतर बलिया कथित हय अर्थात् मित्रव्यसन हइते दण्डव्यसन गुरुतर, दण्डव्यसन अपेक्षाय कोषव्यसन गुरुतर, कोष- व्यसन अपेक्षाय दुर्गव्यसन गुरुतर, दुर्गव्यसन अपेक्षाय जनपदव्यसन
- ८८ संख्यक श्लोकेर अर्द्धेक हइते एइ पर्य्यन्त कलिकाता संस्करणे नाइ।
১০০ কামন্দকীয় নীতিসার। গুরুতর, জনপদব্যসন অপেক্ষায় অমাত্য-ব্যসন গুরুতর, অমাত্যব্যসন হইতে রাজব্যসন গুরুতর ॥৯৩॥ নরপতি এই সমস্ত প্রকৃতির ব্যসন অত্যন্ত যত্নসহকারে বুঝিয়া বুদ্ধি ও শক্তি অনুসারে কালক্ষেপ না করিয়া ব্যসনগুলির প্রতীকার করিবেন ॥৯৪॥ ঐশ্বর্য্যকামী-নরপতি কাম-ব্যসনে অভিভূত হইয়া কিংবা শৌর্য্য-বীর্য্যে দর্পিত হইয়া প্রকৃতি-ব্যসন সমুদায়কে উপেক্ষা করিবেন না। যিনি প্রকৃতি-ব্যসন উপেক্ষা করেন তিনি অচিরাৎ শত্রুহস্তে পরাজিত হন ॥৯৫॥ রাজা সচেষ্ট হইয়া এই প্রকৃতির এই ব্যসন আছে, অতএব এই প্রকৃতিকে এই কার্য্যে যোজনা করা উচিত, ইহা নিয়ত চিন্তা করিয়া প্রকৃতিবর্গকে যথাযোগ্য কার্য্যে নিযুক্ত করিবেন। যে রাজার প্রকৃতিবর্গের ব্যসনসমুদয় সুন্দর নীতি প্রয়োগে নিবারিত হয়, সেই রাজা চিরকাল ত্রিবর্গভোগ করিতে পারেন ॥৯৬॥ ইতি কামন্দকীয়-নীতিসারে উৎসাহ-প্রশংসা প্রকৃতি-কর্ম্ম ও প্রকৃতিব্যসন- নামক চতুর্দ্দশ-সর্গ॥ পঞ্চদশ-সর্গ। * সপ্তব্যসন-বর্গ। অমাত্য হইতে মিত্র পর্য্যন্ত প্রকৃতিবর্গকে রাজ্য বলা হয়। সমুদয় রাজ্যব্যসন অপেক্ষায় রাজার ব্যসন অত্যন্ত গুরুতর ॥১॥ রাজা স্বয়ং ব্যসনী না হইলেই রাজ্যের ব্যসন প্রতীকারে সমর্থ হন; রাজার ব্যসন না থাকিলে রাজ্য পরিবর্দ্ধিত হইতে সমর্থ হয় এবং ইহার বিপরীত হইলে বিপরীত হয় ॥২॥ যে রাজা নিজেকে অমাত্যদিগকে প্রজাদিগকে
- কলিকাতা সংস্করণে ইহা চতুর্দ্দশ সর্গ।
১৫শ সর্গ ] সপ্তব্যসন-বর্গ। ১০১ দুর্গকে কোষকে সৈন্যদিগকে এবং মিত্রবর্গকে ব্যসন হইতে উদ্ধার করিতে সমর্থ তিনি ত্রিবর্গ লাভ করিতে পারেন ॥৩॥ + ॥ যে নরপতির নীতিশাস্ত্রে জ্ঞান নাই, তিনি অন্ধ বলিয়া কথিত। অন্ধও বরং ভাল কিন্তু মদগর্ব্বে যিনি সৎপথ পরিত্যাগ করিয়াছেন এমন চক্ষুষ্মান্ও ভাল নহেন ॥৪॥ মন্ত্রকুশল মন্ত্রিগণ অন্ধ রাজাকে উপযুক্ত পথে পরিচালিত করেন, আর চক্ষুষ্মান্ রাজা মদান্ধ হইলে সকল রকমে আপনার বিনাশ সাধন করেন ॥৫॥ অতএব শাস্ত্রচক্ষু-নরপতি প্রধান মন্ত্রীর মতানুবর্ত্তী হইয়া ধর্ম্ম-অর্থ-বিনাশকারী ব্যসনগুলি পরিত্যাগ করিবেন ॥৬॥ ব্যসনতত্ত্বজ্ঞ পণ্ডিতগণ বাক্পারুষ্য, দণ্ডপারুষ্য ও অর্থদূষণ এই তিনটীকে ক্রোধজ-ব্যসন বলেন ॥৭॥ ব্যসনজ্ঞ পণ্ডিতগণ মৃগয়া, দ্যূত, স্ত্রী ও পান—এই চারিটীকে কামজ-ব্যসন বলিয়াছেন ॥৮॥ অপবাদ, কুৎসা ও ভর্ৎসনাকে বাক্পারুষ্য কহে। নিরর্থক বাক্পারুষ্য লোককে উত্তেজিত করে, অতএব ইহা করিবে না ; প্রিয়বাক্য বলিয়া জনসাধারণকে আত্মসাৎ করিবে ॥৯॥ যিনি হঠাৎ কুপিত হইয়া কর্কশভাবে অধিক ভর্ৎসনা করেন, তাহাকে লোক স্ফুলিঙ্গ যুক্ত অগ্নির- ন্যায় মনে করিয়া উত্তেজিত হয় ॥১০॥ তীক্ষ্ণ-অসির ন্যায় মর্ম্মচ্ছেদী বাক্যে হৃদয় বার বার বিদ্ধ হইলে তেজস্বী ব্যক্তি কুপিত হয় এবং ঐ ব্যক্তি কুপিত হইয়া বৈরিভাব ধারণ করে ॥১১॥ কর্কশবাক্যে জগৎকে উদ্বিগ্ন করিবে না। সর্ব্বদা প্রিয়ভাষী হইবে। যিনি প্রিয়ভাষী ও প্রিয়কার্য্যকারী তিনি দাতা না হইলেও লোকে তাঁহার সেবা করে ॥১২॥ [ অসিদ্ধ-সাধন বলিতে অর্থহরণ, তাড়ন ও বধ বুঝায় ] নীতিজ্ঞগণ অসিদ্ধ-সাধন-শাসনকে দণ্ড বলেন। সেই দণ্ডকে যুক্তিদ্বারাই পরিচালিত করিবে, যেহেতু যুক্তদণ্ডই প্রশংসনীয় ॥১৩॥ দণ্ডপারুষ্য-যুক্ত-নরপতি জনসাধারণকেই উত্তেজিত
- কলিকাতা সংস্করণে এই শ্লোকটি নাই ॥
১০২ কামন্দকীয় নীতিসার। করেন। জনসাধারণ উত্তেজিত হইয়া শত্রুর আশ্রয় গ্রহণ করে ॥১৪॥ জনসাধারণ শত্রুর আশ্রয় গ্রহণ করিলে শত্রুর পক্ষ বলবান্ হয়। শত্রু- সমৃদ্ধি-সম্পন্ন হইলে [ স্বপক্ষের ] বিনাশের নিমিত্ত হয় ; অতএব প্রজাবর্গকে উত্তেজিত করিবে না ॥১৫॥ লোকানুগ্রহকারী নরপতি বৃদ্ধি- প্রাপ্ত হন। লোকের [ প্রজাবর্গের ] সমৃদ্ধিতেই রাজার বৃদ্ধি এবং ক্ষয়েতেই রাজার ক্ষয় ॥১৬॥ অতিগুরুতর অপরাধ করিলেও প্রাণান্তিক দণ্ড করিবে না, কিন্তু রাজ্য অপহরণে উদ্যত হইলে প্রাণদণ্ড করাই প্রশস্ত ॥১৭॥ [ অর্থদূষণ অর্থাৎ অদান, আদান, বিনাশ ও পরিত্যাগ। অদান বলিতে পূর্ব্বলব্ধ অর্থের উচ্ছেদসাধন। আদান অর্থে পণ্যদ্রব্যের অতিরিক্ত করগ্রহণ। বিনাশ বলিতে অর্জিত অর্থ নষ্ট করা। আর পরিত্যাগ বলিতে কোন স্থান হইতে সম্ভাবিত প্রাপ্য অর্থের ব্যাঘাত করাইয়া পরিত্যাগ করান ] দুষ্ট ব্যক্তির অপকার করিবার নিমিত্ত প্রচুর অর্থব্যয়কে নীতিশাস্ত্র-পারদর্শীগণ অর্থদূষণ কহেন। অতএব হঠাৎ অত্যন্ত কোপের বশবর্ত্তী হইয়া সতত আত্মহিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি অর্থদূষণ করিবেন না ॥১৮-১৯॥ [ ১—১৯ শ্লোক পর্যন্ত ক্রোধজ ব্যসনের কথা হইল। এক্ষণে ২০—৬৬ শ্লোক পর্যন্ত কামজ ব্যসনের কথা বলা হইতেছে ] যান-ক্ষোভ ( যানপীড়া ) ; যান হইতে পতন ; যানাবিহরণ ( যান দ্বারা অনভিমত দেশে গমন ) ; ক্ষুধা পিপাসা পরিশ্রম আয়াস শীত বায়ু ও গ্রীষ্ম জনিত পীড়া ; মৃগয়ার জন্য অভিযানকালে অন্যের অশ্বের আঘাতে নিজের অশ্বের জখম হওয়ায় যান-ব্যসন-জনিত মহৎ দুঃখ ; তপ্ত বালুকা জন্য ও কুশ- কণ্টকযুক্তস্থান জন্য দুঃখ ; বহুবৃক্ষে সঙ্কটাপন্নস্থান, লতা ও কণ্টক লঙ্ঘন, প্রস্তরখণ্ড-পতন, শিলা-সমুদয়, স্থাণু (খোঁটা সমুদয় ) এবং উইঢিপি—এইগুলি জনিত পীড়। নিকটস্থ আটবিকগণ শত্রুসৈন্যকে বাধা দিবার নিমিত্ত পর্ব্বত নদী ও বন মধ্যে যে সকল গহ্বর প্রচ্ছন্নভাবে প্রস্তুত করিয়া রাখে তজ্জনিত বধ বন্ধন ক্লেশ ; নিজের সৈন্য হইতে অথবা স্বকুলোদ্ভবব্যক্তি